Published : 23 Aug 2025, 01:38 AM
নরেন্দ্র মোদীর সরকার যদি অবৈধ বাংলাদেশিদের ভারত থেকে ফেরত পাঠাতে চায়, তাহলে শেখ হাসিনাকে কেন ফেরত পাঠানো হচ্ছে না, সেই প্রশ্ন তুলেছেন হায়দরাবাদের এমপি আসাদউদ্দিন ওয়াইসি।
সর্বভারতীয় মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (এআইএমআইএম)-এর প্রধান ওয়াইসি বৃহস্পতিবার ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এর ‘আইডিয়া এক্সচেঞ্জ’ অনুষ্ঠানে বলেন, “আমরা কেন সেই ক্ষমতাচ্যুত নেত্রীকে (শেখ হাসিনা) আমাদের দেশে রাখছি? তাকে ফেরত পাঠান। তিনিও তো একজন বাংলাদেশি, তাই না?”
তিনি বলেন, ভারতের উচিত ঢাকায় ‘জনগণের যে বিপ্লব’ হয়েছে, সেটাকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা।
গতবছর অগাস্টে অভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারানোর পর থেকেই দিল্লিতে ভারত সরকারের আশ্রয়ে আছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আন্দোলন দমাতে শত শত মানুষকে হত্যার অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি করতে তাকে ফেরত পাঠানোর জন্য ভারতকে অনুরোধ জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। তবে ভারত সে অনুরোধে এখনও কোনো সাড়া দেয়নি।
অবৈধ বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে অভিযানের নামে সম্প্রতি বাংলাভাষীদের ধরে ধরে ভারত থেকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার যে প্রবণতা চলছে, তার সমালোচনা করে ওয়াইসি বলেন, “আমাদের দেশে একজন বাংলাদেশি (হাসিনা) বসবাস করছেন, যিনি বিবৃতি আর বক্তৃতা দিয়ে সমস্যা তৈরি করছেন। অথচ মালদা ও মুর্শিদাবাদের গরিব বাংলাভাষী ভারতীয়দের পুণে থেকে বিমানে করে কলকাতায় পাঠিয়ে ‘নো-ম্যানস-ল্যান্ডে’ ফেলে দিয়ে আসছি।”
তিনি বলেন, “যে কেউ বাংলা বললেই কি সে বাংলাদেশি হয়ে যাবে? এটাই প্রমাণ করে এখানে কী ধরনের বিদ্বেষী মানসিকতা কাজ করছে।”
এভাবে মানুষকে ধরে ধরে বন্দিশালায় পাঠানোর এখতিয়ার পুলিশের আছে কি না, সেই প্রশ্নও তোলেন ভারতীয় এই এমপি।
বিহারে ভোটার তালিকার যে ‘নিবিড় পর্যালোচনা’ (এসআইআর) চলছে, সে কথা তুলে ধরে ওয়াইসি বলেন, এর ফলে প্রকৃত ভারতীয় নাগরিকরা, বিশেষ করে মুসলমানরা ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারেন।
“যদি এসআইআর হয় এবং প্রকৃত ভোটারদের নাম তালিকায় না থাকে, তাহলে তাদের নাগরিকত্ব নিয়েই প্রশ্ন উঠবে।”
এ বিষয়ে ভারতীয় নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা তুলে ধরে সর্বভারতীয় মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের নেতা বলেন, যদি ভোটার নিবন্ধন কর্মকর্তা কাউকে সন্দেহভাজন মনে করেন বা টানা তিনবার খুঁজে না পান, তাহলে তিনি নাগরিকত্ব আইন, ১৯৫৫-এর অধীনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে পারেন।
“আমাদের অভিজ্ঞতা বলছে, বিহারে বিপুলসংখ্যক মুসলমানের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। এ প্রক্রিয়া যদি অন্যত্রও হয়, তাহলে কী ঘটবে?”
সংখ্যালঘুর ওপর অবিচার নিয়ে ‘নীরব’ থাকার জন্য বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার এবং বিরোধী দল–উভয়ের সমালোচনা করেন ওয়াইসি।
তিনি বলেন, “এই রাজনীতি ২০১৪ সালে শুরু হয়নি, সবসময়ই ছিল। তবে ২০১৪ সালের পর থেকে পরিস্থিতি ভিন্ন মোড় নেয়। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অনেক তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ দল দেশের সবচেয়ে বড় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিষয়েও কথা বলতে কুণ্ঠা বোধ করছে।”
ওয়াইসি গাজায় চলমান বর্বরতা নিয়ে মোদী সরকারের ‘নীরবতার’ তীব্র সমালোচনা করেন এবং ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকে ‘পরোক্ষ সমর্থন’ করার অভিযোগ তোলেন।
তিনি বলেন, “আমরা কেবল চুপ করে আছি। সরকার গাজায় চলমান গণহত্যা নিয়ে কিছুই বলছে না। ৬৫ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বর্ণবাদী সরকারের হাতে। এর মধ্যে ২০ হাজার শিশু।
“প্রধানমন্ত্রী (মোদী) একটি শব্দও উচ্চারণ করছেন না। তারপর আবার বলেন, আপনারা দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের পক্ষে। কোথায় সেই রাষ্ট্র হবে, যদি প্রতিদিন ফিলিস্তিনিদের হত্যা করা হয়? মোদী সরকারের নীরবতা আসলে নেতানিয়াহুকে গণহত্যায় সহায়তা করারই নামান্তর।”