১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

এখন কি বলা যাবে আসলাম চৌধুরী ঋণখেলাপি ছিলেন, সংসদে জামায়াত এমপি

আসলাম চৌধুরী সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়ে সংসদে আসেননি; তিনি সংসদ সদস্য নন, বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

এখন কি বলা যাবে আসলাম চৌধুরী ঋণখেলাপি ছিলেন, সংসদে জামায়াত এমপি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: পিএমও

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 30 Jun 2026, 08:17 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:32 PM

চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিলের পর ঋণখেলাপি নিয়ে বিতর্ক হয়েছে জাতীয় সংসদে।

জামায়াতের এমপি মো. নাজিবুর রহমান মঙ্গলবার পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বলেন, আদালতের রায়ের পর এখন আসলাম চৌধুরীকে ঋণখেলাপি বলা যাবে কি না।

নাজিবুর বলেন, “কয়েকদিন আগে আমাদের একজন সম্মানিত সংসদ সদস্য আপনার (স্পিকার) কাছে জানতে চেয়েছিলেন সংসদে কোনো ঋণ খেলাপি আছে কিনা। তখন আপনি বলেছিলেন, বিষয়টি যেহেতু বিচার বিভাগের অধীনে আছে, বিচারাধীন আছে, এজন্য আপনি বলতে পারছেন না।

“আজকে (মঙ্গলবার) একজন ব্যক্তির মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে ঋণখেলাপি হওয়ার দায়ে। এখন কি আমরা বলতে পারব উনি ঋণখেলাপি ছিলেন? এটা আমার পয়েন্ট অফ অর্ডার ছিল মাননীয় স্পিকার।”

গত ১৮ জুন সংসদে স্বতন্ত্র এমপি রুমিন ফারহানার বক্তব্য ঘিরে ঋণখেলাপি নিয়ে বিতর্ক হয়েছিল। সেদিন ‘ঋণখেলাপিদের এই সংসদে দাঁড়িয়ে কথা বলতে হচ্ছে’ বলে মন্তব্য করেছিলেন রুমিন ফারহানা।

ওই বক্তব্যের পর সংসদে আপত্তি ওঠে। তখন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছিলেন, বিষয়টি বিচারাধীন থাকায় তিনি মন্তব্য করতে পারছেন না।

মঙ্গলবার নাজিবুর সেই প্রসঙ্গ টেনে চট্টগ্রাম-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলের বিষয়টি সামনে আনেন।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জিতলেও ঋণখেলাপির বিষয়টি বিচারাধীন থাকায় চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর শপথ নেওয়াও আটকে ছিল। মঙ্গলবার ঋণ খেলাপির কারণে তার প্রার্থিতা বাতিলের আদেশ দিয়েছে আপিল বিভাগ। ওই আসনে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

আসলাম চৌধুরীর ঋণখেলাপির প্রসঙ্গ ধরে নাজিবুরের বক্তব্যের পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, “এটা ঠিক পয়েন্ট অফ অর্ডার হল না।”

“একজন সদস্যের সদস্যপদ থাকবে কি থাকবে না, সেটি নির্বাচন কমিশন স্থির করবে,” যোগ করেন স্পিকার।

তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশন যখন এই বিষয়ে আদালতের নির্দেশ মোতাবেক আদেশ জারি করবে, তখন আমি সংসদে আপনাদের জানাতে পারব। সুতরাং আরো কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে চূড়ান্ত রায়, নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত মন্তব্যের জন্য।”

‘সংসদে কোনো ঋণখেলাপি সদস্য নেই’

জামায়াতের এমপির বক্তব্যের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ সংসদে কোনো ঋণখেলাপি সদস্য নেই বলে দাবি করেন।

মন্ত্রী বলেন, “আমরা সেদিন বলেছিলাম, এই জাতীয় সংসদে কোনো ঋণখেলাপি সদস্য নেই। ঋণগ্রস্ত থাকতে পারে।”

আসলাম চৌধুরীর প্রসঙ্গে সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, “উনি তো সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়ে এখানে আসেন নাই। উনি তো মেম্বার অফ পার্লামেন্ট নন। উনার প্রার্থিতা চ্যালেঞ্জ হয়েছে এবং সেই প্রার্থিতা সম্পর্কে উচ্চ আদালত রায় দিয়েছে, সেটা এখানেই শেষ।

“উনি এখানে সংসদ সদস্য থাকলে তখন এই কথাটা বলা যেত।”

তখন স্পিকার বলেন, পয়েন্ট অব অর্ডারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত তাকে নিতে দিতে হবে। তবে আসলাম চৌধুরী সংসদ সদস্য নন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই ব্যাখ্যা ঠিক আছে।