Published : 17 Dec 2025, 12:00 AM
ইতিহাস বিকৃতি, সাম্প্রদায়িক উগ্রতা, সাংস্কৃতিক দমন এবং স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে লড়াই অব্যহত রাখার প্রত্যয়ের কথা জানিয়ে ‘গণকুচকাওয়াজ’ আয়োজন করেছে গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্য।
বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় জাতীয় প্রেস ক্লাব থেকে শিখা চিরন্তন পর্যন্ত এই গণকুচকাওয়াজে অংশগ্রহণ করেন সংস্কৃতিকর্মী, শিল্পী, শিক্ষক, লেখক ও শিক্ষার্থীরা।
গণকুচকাওয়াজ শিখা চিরন্তনে পৌঁছানোর পর রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধারা সালাম গ্রহণ করেন। এ সময় জাতীয় সংগীত ও দেশাত্মবোধক সঙ্গীত পরিবেশিত হয়।
আয়োজকদের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “দেশ আজ এক বহুমাত্রিক সংকটে নিমজ্জিত। অর্থনীতি দিশাহীন, দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতিতে মানুষের জীবনযাত্রা অসহনীয়; রাজনৈতিক বাস্তবতায় দমন, ভয় এবং নিয়ন্ত্রণের এক শ্বাসরুদ্ধকর অন্ধকার নেমে এসেছে। দেশের মানুষ রক্ত দিয়ে শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ঘটিয়েছে, কিন্তু দমনমূলক ও ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার অবসান ঘটেনি।
“বরং আজ আমরা এক ভয়ংকর বাস্তবতার মুখোমুখি। নতুন রূপে নব্য ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা দেখতে পাচ্ছি, যা দেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের জন্য গভীর হুমকি। এরই ভেতর সবচেয়ে বিপজ্জনক হলো, ‘তৌহিদী জনতা’ নামধারী সাম্প্রদায়িক উগ্রগোষ্ঠী এবং চিহ্নিত স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির সামনে রাষ্ট্রের প্রকাশ্য নতি স্বীকার।”
সরকার এই উগ্র শক্তির নির্দেশিত পথে দেশ পরিচালনা করতে ব্যস্ত উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “মুক্তিযুদ্ধের অর্জন তারা সহ্য করতে পারে না, এটি আমরা জানি। কিন্তু রাষ্ট্র কেন সেই অন্ধকারের ছায়ায় আশ্রয় নিতে চায়, কেন স্বাধীনতার ইতিহাস থেকে মুখ ফিরিয়ে উল্টো দিকে হাঁটে, তা আজ সমগ্র জাতির সামনে এক গভীর ও বেদনাময় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।”
“সরকার তার সাংবিধানিক দায়িত্ব ত্যাগ করে আজ উগ্র সাম্প্রদায়িক শক্তির অঙ্গুলি নির্দেশে পথ চলছে। যারা একদিন এই দেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, আজ তারাই রাষ্ট্রনীতির অব্যক্ত নায়ক হয়ে উঠেছে।”
গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্যের আহ্বায়ক জামসেদ আনোয়ার তপনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, কমরেড খালেকুজ্জামান, আব্দুস ছাত্তার, সাংবাদিক আবু সাঈদ খান, এস এম এ সবুর, চাকসুর সাবেক ভিপি সামছুজ্জামান হীরা ও কবি মোহন রায়হান।