১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ফকিরাপুলে পুলিশকে গুলি করা ‘মাদক কারবারীসহ’ গ্রেপ্তার ১২

“প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাপ্পী তার অস্ত্রের উৎসের বিষয়ে কিছু নাম ও কিছু ব্যক্তির পরিচয় দিয়েছে।”

ফকিরাপুলে পুলিশকে গুলি করা ‘মাদক কারবারীসহ’ গ্রেপ্তার ১২
ঢাকার পল্টনে পুলিশকে গুলি করার ঘটনায় যশোরে গ্রেপ্তার করা তিনজন।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 29 Jun 2025, 09:35 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:17 PM

ঢাকার মতিঝিল থানাধীন ফকিরাপুল এলাকায় ‘মাদকবিরোধী অভিযান’ পরিচালনার সময় গোয়েন্দা পুলিশকে গুলি করে ‘পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিকে’ যশোর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য, গ্রেপ্তার বাপ্পী ওরফে মো আলী ওরফে ফিরোজ আলম ওরফে আহসানুল হক একজন ‘পেশাদার মাদক কারবারী’, তার মাদক কারবার পরিচালনার জন্য গ্রুপে ২৫ জন সদস্য রয়েছে।

১৮ জুন রাতে পুলিশকে গুলি করার পর ধারাবাহিক অভিযানে সর্বমোট ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, এরমধ্যে সবশেষ শনিবার বাপ্পীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

রোববার দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসে গোয়েন্দা শাখা-ডিবির যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম এসব তথ্য দিয়েছেন।

তিনি বলেন, “বাপ্পী ২০১০ সাল থেকে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত। এর আগেও তিনি একবার গ্রেপ্তার হয়ে সাড়ে চার বছর কারাগারে ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে আমাদের জানিয়েছে। 

“আমরা তার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত ১১টি মামলার তথ্য পেয়েছি।”

ডিবির অভিযানে উদ্ধার করা অস্ত্র ও গুলি।

ডিবির অভিযানে উদ্ধার করা অস্ত্র ও গুলি।

ফকিরাপুলে ‘মাদকবিরোধী অভিযানে’ গিয়ে ১৮ জুন রাত পৌনে ১টার দিকে গোয়েন্দা পুলিশের এএসআই আতিক হাসান পেটের বাঁ পাশে এবং কনস্টেবল সুজন বাঁ পায়ের হাঁটুতে গুলিবিদ্ধ হন।

ইয়াবা কেনা-বেচার তথ্য পেয়ে ডিবির একটি দল সে দিন রাতে অভিযানে গিয়েছিল তুলে ধরে নাসিরুল ইসলাম বলেন, “আমাদের টিম সেখানে অবস্থান করার সময় অসংলগ্নভাবে এক ব্যক্তিকে ঘোরাফেরা করতে দেখে। 

“তাকে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে কথাবার্তায় অসংলগ্নতা পাওয়া যায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে তার দেহ তল্লাশি করে কিছু ইয়াবা এবং তার মোবাইলে এ সংক্রান্ত কিছু বার্তা পাওয়া যায়।”

তিনি বলেন, ওই ব্যক্তিতে হেফাজতে নেওয়া হয়। আগের তথ্যের ‘সঠিকতা’ পায় ডিবির দলটি। এ কারণে তারা পল্টনে অবস্থান করছিল। এর মধ্যে রাত সাড়ে ১২টার দিকে কালো ব্যাগ নিয়ে আরও দুই ব্যক্তি সেখানে উপস্থিত হয়। এরপর একটি প্রাইভেট কার পল্টনের দিক থেকে ঘটনাস্থলে আসে। 

ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে গ্রেপ্তার ও অস্ত্র উদ্ধারের তথ্য দেয় পুলিশ।

ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে গ্রেপ্তার ও অস্ত্র উদ্ধারের তথ্য দেয় পুলিশ।

ডিবি কর্মকর্তা নাসিরুল বলেন, “তারা ব্যাগ লেনদেন করতে যাবে, এমন সময় আমাদের টিম দুইজনকে হেফাজতে নেয় এবং ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়।

“আমাদের এক সদস্য প্রাইভেট কারের চাবি হেফাজতে নিয়ে নেয়। সে সময় প্রাইভেট কার থেকে আমাদের উপর গুলিবর্ষণ শুরু করে। আমাদের টিমও পরিচয় দিতে দিতে আত্মরক্ষার্থে গুলি করে।”

তার ভাষ্য, “প্রাইভেট কারে থাকা ওই ব্যক্তি গুলিবর্ষণ করতে করতে সামনের দিকে এগিয়ে যায়, তাকে ধাওয়া করলে গুলি করতে করতে অন্ধকার গলিতে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

“জব্দ করা ব্যাগ এবং গাড়ি তল্লাশি করে ৯ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পরে ওই তিনজনের কাছ থেকে গুলি করা ব্যক্তির নাম পরিচয় জানতে পারে ডিবি সদস্যরা।”

এরপর ডিবির অভিযান শুরু হয় তুলে ধরে এই গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, বৃহস্পতিবার বিভিন্নস্থানে অভিযান চালিয়ে ‘বাপ্পী গ্রুপের’ ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে অনিক নামে একজনের কাছ থেকে একটি ৭.৬৫ এমএম পিস্তল, দুটি ম্যাগজিন, ১৪ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। 

গ্রেপ্তার ছয়জনের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে ডিবি গুলিবর্ষণকারী বাপ্পীকে ধরতে অভিযান অব্যাহত রাখে তুলে ধরে নাসিরুল বলেন, বরিশাল, সাতক্ষীরা, যশোর, ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় অভিযানের ধারাবাহিকতায় ডিবি জানতে পারে বাপ্পী সীমান্ত পেরিয়ে বিদেশে চলে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। 

এ তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার রাতে যশোরের ঘোপের মোড় এলাকার একটি দোতলা বাড়িতে তার অবস্থান শনাক্ত করার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাপ্পীকে গ্রেপ্তার করতে গেলে বাড়ির ভেতর থেকে ‘নাটক সাজিয়ে’ পুলিশকে ‘হুমকি’ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। 

ডিবির এই কর্মকর্তা বলেন, “বাড়িটি নজরুল নামের এক ব্যক্তির, তার জামাতাও বাপ্পী গ্রুপের সদস্য। আমরা তাকে গ্রেপ্তার করতে গেলে সিলিন্ডারের গ্যাস ছেড়ে দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে বাড়িতে থাকা নারী ও শিশুদেরকে হত্যা করবে বলে ভয় দেখাতে থাকে। পরে আমরা ফায়ার সার্ভিসের সহায়তা নিই।”

স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে প্রায় তিন ঘণ্টার অভিযানে ডিবির দলটি বাপ্পীকে গ্রেপ্তার করার কথা বলেছেন তিনি।

বাপ্পীর কাছ থেকে একটি ৭.৬২ এমএম পিস্তল এবং দুটি ম্যাগজিন ভর্তি গুলি উদ্ধার করার তথ্য দিয়ে নাসিরুল বলেন, তার সঙ্গী আবু খালিদ সাইফুল্লাহ ওরফে বোমা রিপন ও মো. কামরুল হাসানকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাপ্পীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাকে নিয়ে ঢাকার ডেমরায় তার ভাড়া বাসায় অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় আরও দুটি পিস্তল।

ডিবি কর্মকর্তা নাসিরুল বলেন, “বাপ্পীর মালিকানায় চারটি পিস্তল ও ১৫১ রাউন্ড গুলি ছিল। তাকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে মাদকের পাচারের পথ, অস্ত্র ও গুলির উৎস বের করার চেষ্টা করব। 

“আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় সে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছিল। সে ঝুট ব্যবসায় ঢুকবে বলেও আমাদেরকে জানিয়েছে। এ কারণে সম্ভবত অস্ত্র সংগ্রহে আগ্রহী হয়ে উঠেছিল।

“প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাপ্পী তার অস্ত্রের উৎসের বিষয়ে কিছু নাম ও কিছু ব্যক্তির পরিচয় দিয়েছে। আমরা তার তথ্যের ভিত্তিতে কাজ করতে চাই। অস্ত্র কোথা থেকে কিনেন, কোথা থেকে আসে, বের করতে চাই।”

শীর্ষ সন্ত্রাসীদের বিষয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “কিছু ক্ষেত্রে কিছু সন্ত্রাসী গ্রুপের সাথে সম্পৃক্ততা আছে, এমন ঘটনা ঘটেছে। বিভিন্ন জয়গায় যে শীর্ষ সন্ত্রাসীরা বা তাদের সাথে যোগসাজসে তাদের জুনিয়র লেভেলে যারা কার্যক্রম করছে তাদের ব্যপারে তৎপর আছি। তাদের গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত রেখেছি।”