Published : 05 May 2026, 08:46 PM
কয়েকদিনের ভারি বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নয়টি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মঞ্জুর রহমান বলেছেন, এ নদীগুলোর পানি ১১টি পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও ‘বৃষ্টি না হওয়ায়’ সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি আগের দিনের তুলনায় কিছুটা উন্নতির দিকে।
মঙ্গলবার বিকালে তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সার্বিকভাবে পরিস্থিতি আগের দিনের তুলনায় ভালো। নেত্রকোনায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে, কারণ ভুগাই-কংস এবং সোমেশ্বরী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে থাকলেও গতকাল ও আজ নতুন করে বৃষ্টি না হওয়ায় পানি কমছে।

“তবে কালনি-কুশিয়ারা নদী ব্যবস্থায় নতুন কিছু পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে।”
সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ ও হবিগঞ্জের মারকুলিতে কুশিয়ারা নদীর পানি এখন বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে জানিয়ে মঞ্জুর রহমান বলেন, “এসব স্থানের বিষয়ে আগেই পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় সতর্কতা জারি রয়েছে।”
মঙ্গলবার নতুন করে দুইটি নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করলেও সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি উন্নতির দিকে বলে তুলে ধরেন তিনি।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের এই নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, “বিপৎসীমা অতিক্রমকারী পয়েন্টের সংখ্যা কিছুটা বাড়লেও সেটিকে সার্বিক অবনতি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এক জায়গায় বিপৎসীমা অতিক্রম করল, কিন্তু সেখানে নিম্নাঞ্চলে আগেই যদি পানি থেকে যায়, যেরকম বৃষ্টির কারণে তো পানি থাকে, আল্টিমেটলি ওই বিপদসীমা পার হলেও সেখানে আর সরাসরি প্রভাব পড়ে না।”
মঞ্জুর রহমান বলেন, “নেত্রকোণায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে এবং সোমেশ্বরীসহ কয়েকটি নদীর পানি এখনও বিপৎসীমার উপরে থাকলেও তা কমতে শুরু করেছে। নতুন করে কালনি-কুশিয়ারা নদী ব্যবস্থার কয়েকটি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় সিলেট ও সুনামগঞ্জে পরিস্থিতির কিছুটা অবনতির শঙ্কা তৈরি হয়েছে।”
মঙ্গলবার বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সবশেষ বুলেটিনে জানানো হয়েছে, এদিন সকাল ৯টায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মোট ৯টি নদী ১১টি পয়েন্টে প্রাক-মৌসুমী বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
এ নদীগুলোর মধ্যে সিলেটে কুশিয়ারা নদী ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে, হবিগঞ্জে কুশিয়ারা নদী মারকুলি পয়েন্টে ও নালজুর নদী জগন্নাথপুর পয়েন্টে, নেত্রকোণায় বাউলাই নদী খালিয়াজুরী পয়েন্টে, ভুগাই-কংস নদী জারিয়াজাঞ্জাইল পয়েন্টে, সোমেশ্বরী নদী কলমাকান্দা পয়েন্টে, মগরা নদী নেত্রকোণা ও আটপাড়া পয়েন্টে, হবিগঞ্জে কালনি-কুশিয়ারা নদী আজমেরিগঞ্জ পয়েন্টে, সুতাং নদী সুতাং-রেলওয়ে সেতু পয়েন্টে এবং মৌলভীবাজারে মনু নদী মৌলভীবাজার পয়েন্টে প্রাক-মৌসুমী বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
গত ২৪ ঘন্টায় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উজানে এবং অভ্যন্তরে হাওর অববাহিকায় কোনো উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়নি বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর ও বৈশ্বিক আবহাওয়া সংস্থাগুলোর বরাত দিয়ে বুলেটিনে বলা হয়েছে, এই অঞ্চলে আগামী একদিন হালকা থেকে মাঝারি এবং পরবর্তী দুই দিন মাঝারি-ভারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে।
২৪ ঘণ্টায় ১২ থেকে ২২ মিলিমিটার বৃষ্টি হলে তাকে মাঝারি, ২৩ থেকে ৪৩ মিলিমিটার হলে মাঝারি-ভারি, আর ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হলে তাকে ভারি বৃষ্টি বলে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বলছে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর অববাহিকার সিলেট, সুনামগঞ্জ জেলার সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি সমতল আগামী তিন দিন ধীরগতিতে বৃদ্ধি পেতে পারে; ফলে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার কুশিয়ারা নদী সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা অবনতি হতে পারে।
নেত্রকোনা জেলার ভুগাই-কংস ও সোমেশ্বরী নদীর পানি সমতল আগামী তিন দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে। নেত্রকোনা জেলার ভুগাই-কংস অববাহিকার হাওর সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে।
বুলেটিনে বলা হয়েছে, নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জ জেলার ধনু-বাউলাই নদীসমূহের পানি সমতল আগামী তিন দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে, এই অববাহিকার হাওর সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে।
মৌলভীবাজার জেলার মনু নদীর পানি সমতল আগামী একদিন বৃদ্ধি পেতে পারে ও পরবর্তী দুই দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে। জুড়ি নদীর পানি সমতল আগামী এক দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে ও পরবর্তী দুই দিন বৃদ্ধি পেতে পারে।
অপরদিকে হবিগঞ্জ জেলার খোয়াই নদীর পানি সমতল আগামী একদিন স্থিতিশীল থাকতে পারে ও পরবর্তী দুই দিন বৃদ্ধি পেতে পারে। সুতাং নদীর পানি সমতল আগামী তিন দিন হ্রাস পেতে পারে, ফলে হবিগঞ্জ জেলার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলেও জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।