Published : 14 Sep 2026, 09:14 PM
ঢাকার মেরুল বাড্ডার আনন্দনগর এলাকার কার্টন কারখানার পরিত্যক্ত কক্ষ থেকে এক রিকশাচালকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বিদ্যুৎ হোসেন নামে ২৬ বছর বয়সী ওই যুবকের লাশ লুঙ্গি দিয়ে সিলিংয়ের সঙ্গে ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ঝুলছিল।
সোমবার দুপুরে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয় বলে জানান বাড্ডা থানার এসআই জয়ন্ত দত্ত।
নিহতের স্ত্রী রূপালী বেগম বলেন, বিদ্যুতকে সকাল থেকেই তারা খুঁজছিলেন। পরে ওই কারখানায় কাছে গিয়ে পরিত্যক্ত কক্ষের দরজা খোলা পেয়ে ভেতরে ঢুকে স্বামীকে তিনি ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।
বিদ্যুৎ ও রূপালীর ৮ বছরের সংসারে ৭ বছরের মেয়ে আছে। প্রায় দেড় মাস ধরে দুজন আলাদা থাকছিলেন বলে জানান তার স্ত্রী।
তাদের মেয়ে বিদ্যুতের সঙ্গেই শাশুড়ির কাছে থাকে, আর রূপালী আন্দনগর এলাকায় বোনের বাসায় থাকছিলেন। তিনি মানুষের বাসাবাড়িতে কাজ করেন।
রূপালী বলেন, তার স্বামী আগে রিকশা চালালেও প্রায় ৮-৯ মাস ধরে কোনো কাজ করতেন না। এতে সংসারে অনেক টাকা ঋণ হয়ে যায়।
সংসার চালাতে রূপালী বিদেশ যাওয়ার সিদ্ধান্তও নিয়েছিলেন। কিন্তু বিদ্যুৎ স্ত্রীর বিদেশ যেতে বাধা দিচ্ছিলেন, এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্য চলছিল।
“আমার স্বামী সারা দিন বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিত এবং নেশার মধ্যেও ডুবে গিয়েছিল।”
শনিবার রাত ১১টার দিকে বিদ্যুতের সঙ্গে তার সবশেষ ফোনে কথা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “সে বলেছিল ফ্যাক্টরিতে বসে আছে, বাসায় ফিরতে দেরি হবে।
“সে বলেছিল, আমাকে কোথাও না পেলে ওই ফ্যাক্টরি থেকে এসে নিয়ে যেও। মাঝে মাঝে বন্ধুদের সঙ্গে ওই ফ্যাক্টরিতে আড্ডা দিত।”
শনিবার রাতের পর থেকে বিদ্যুতের সঙ্গে আর যোগাযোগ করতে পারেননি রূপালী। বারবার কল দিলেও বিদ্যুৎ সাড়া দেননি।
রূপালী আরো বলেন, সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ওই ফ্যাক্টরিতে খুঁজতে গিয়ে বিদ্যুৎকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।