কোটা: হাই কোর্টের রায় প্রকাশ, ছাত্রলীগের অবস্থানে ‘নতুন মাত্রা’
সরকারি চাকরিতে কোটার যৌক্তিক সমাধানের দাবিতে সমাবেশ করেছে ছাত্রলীগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রীও বলেছেন, “আলোচনার ভিত্তিতে যৌক্তিক সমাধান দরকার।”
সরকারি চাকরিতে কোটা নিয়ে সপ্তাহ জুড়ে কর্মসূচির শেষ দিনে এসে বাধার মুখে পড়তে হল আন্দোলনকারীদের।
চট্টগ্রাম ও কুমিল্লায় পুলিশের লাঠিপেটার শিকার হয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তবে ঢাকায় শাহবাগে জড়ো হতে বাধা দিলেও পুলিশ শক্তি প্রয়োগ করেনি। বিপুল সংখ্যক পুলিশের বাধার মধ্যেও ঘণ্টা চারেক ধরে ‘বাংলা ব্লকেড নামে’ অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে তারা।
বৃহস্পতিবার রাজপথে নেমেছে ছাত্রলীগও; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবেশ করে আন্দোলনকারীদের ক্লাসে ফিরতে বলেছেন, আবার নিজেদের মধ্যে হাঙ্গামাতেও জড়িয়েছে দুই পক্ষ। তবে তারাও কোটার যৌক্তিক সমাধান চেয়েছে।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনও এদিন বিবৃতি দিয়ে মেধা ও কোটার ‘যথার্থ সমন্বয়’ চেয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রী আলাপ আলোচনায় যৌক্তিক সমাধানের কথা বলেছেন।
মঙ্গলবার বাদ দিয়ে গত রোববার থেকে প্রতিদিনই বাংলা ব্লকেড নামে অবরোধ কর্মসূচি দিয়ে আসছিল কোটা আন্দোলনকারীরা। সপ্তাহের শেষ দিন তারা শুক্রবার কেবল শিক্ষাঙ্গনে সমাবেশ ও মিছিলের ঘোষণা দিয়েছে।
এদিন কোটার বিষয়ে হাই কোর্টের রায়ের বাস্তবায়নযোগ্য অংশ প্রকাশ হয়েছে, যাতে বলা হয়েছে, সব কোটাই থাকবে, তবে সরকার চাইলে কোটার হার পরিবর্তন করতে পারবে। আর কোটায় যোগ্য শিক্ষার্থী পাওয়া না গেলে মেধা তালিকা থেকে তা পূরণ করা যাবে।
অবশ্য ২০১৩ সাল থেকেই কোটায় যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে মেধা তালিকা থেকে তা পূরণ করা হচ্ছে।
২০১৮ সালের পরিপত্রের আগে মোট ৫৬ শতাংশ কোটায় এবং ৪৪ শতাংশ মেধা তালিকায় নিয়োগ করার কথা বলা হলেও প্রথম শ্রেণির চাকরিতে মেধা তালিকা থেকে ৬২ শতাংশ নিয়োগের তথ্য মিলেছে।
অবশ্য সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিল করে ২০১৮ সালের পরিপত্রকে অবৈধ ঘোষণা করে হাই কোর্ট যে রায় দিয়েছিল, সেটিতে অবশ্য চার সপ্তাহের স্থিতাবস্থা দেওয়া হয়েছে, ফলে এই মুহূর্তে প্রখম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে চাকরিতে কোনো কোটা নেই।
পুলিশের হঁশিয়ারির পর কে কী বললেন
বৃহস্পতিবার সকালেই ঢাকা মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থেকে সরে আসার অনুরোধ জানানো হয়, না হলে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।
এদিকে দিনভর সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে বলেছেন কয়েকজন। আদালতের প্রতি আস্থা রেখে আন্দোলন থেকে সরে যেতে বলছিলেন তারা।
প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান আপিল বিভাগে একটি মামলার শুনানির সময় বলেন, “কোটা নিয়ে যারা আন্দোলন করছেন- তাদের পরামর্শ দিন, তারা কেন নির্বাহী বিভাগের কথা বলে? নির্বাহী বিভাগের যে কোনো সিদ্ধান্ত তো আদালতে চ্যালেঞ্জ হতে পারে। কোটা আন্দোলনকারীদের জন্য আদালতের দরজা সবসময় খোলা। তারা তাদের দাবিগুলো আইনজীবীদের মাধ্যমে তুলে ধরতে পারেন। আমরা সেটি গুরুত্ব সহকারে শুনব।”
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সংবাদ সম্মেলনে এসে ২০১৮ সালে কোটা বাতিল হয়ে যাওয়ার পর সরকারি চাকরিতে কী প্রভাব তা তুলে ধরেছেন।
তিনি বলেন,“কোটা ব্যবস্থা বাতিল করার পরে সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় আবেদন ও সফলতার হারে পিছিয়ে পড়ছেন নারীরা। কোটাযুক্ত বিসিএস-এর তুলনায় কোটামুক্ত বিসিএস-এ নারীরা পিছিয়ে পড়েছে ৩.৪৩ শতাংশ। একটি বিসিএস-এ কোটা না থাকায় পুলিশের ক্যাডারে মাত্র চার জন নারী অফিসার সুযোগ পেয়েছেন। ফরেন সার্ভিসে সুযোগ পেয়েছে মাত্র দুই জন নারী।”
কোটামুক্ত একটি বিসিএস-এ ২৪টি জেলার কোনো প্রার্থী পুলিশ ক্যাডারে চাকরি পায়নি, ৫০টি জেলায় নারীরা সরকারি চাকরি থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সব চাকরির হিসাব দিয়ে সড়ক মন্ত্রী বলেন, “কোটা পদ্ধতি থাকা অবস্থায় শতকরা ২৬ ভাগের উপরে নারী প্রার্থীরা চাকরি পেয়েছিল। এরপর কোটা তুলে দেওয়ায় এই হার শতকরা ১৯ ভাগে নেমে এসেছে।”
কোটা পদ্ধতি বাতিল হওয়ায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রার্থীরা সব চেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জানিয়ে কাদের বলেন, “পাবলিক সার্ভিস কমিশনের কোনো কোনো পরীক্ষায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর একজন প্রার্থীও নিয়োগ লাভের সুযোগ পায়নি।”
কোটা বিরোধী আন্দোলনকারীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও। পাশাপাশি হুঁশিয়ারি দিতে তিনি বলেন, “যখন জানমালের নিশ্চয়তার অভাব হয়ে যায় তখন পুলিশ বসে থাকবে না।”
জনপ্রশাসন মন্ত্রী ফরহাদ হোসেন কোটা পদ্ধতি সংস্কারের পক্ষে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, “আলোচনার ভিত্তিতে যৌক্তিক সমাধান দরকার। কোটা কতটুকু থাকবে সেটা ঠিক করা দরকার। এই আলোচনা, যুক্তিতর্ক কোর্টে হওয়া দরকার।”
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন আহমেদ বিবৃতি দিয়ে বলেছেন, “সকলের অধিকার এবং অন্তর্ভুক্তিকে কেন্দ্রবিন্দুতে রেখে মেধাভিত্তিক জাতীয় সংস্কৃতির বিকাশ হতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোটা সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়ের যথার্থ সমন্বয় ও সামঞ্জস্য বিধান করা গুরুত্বপূর্ণ।”
যৌক্তিক সমাধান চায় ছাত্রলীগ, কোটা চায় না ছাত্রদল
সরকারি চাকরিতে কোটা নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে ছাত্রলীগ ও ছাত্রদল।
বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ সমাবেশ করেছে ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাডেমিক পরিবেশ অব্যাহত রাখা, জনদুর্ভোগ তৈরি না করে ক্লাস-পরীক্ষায় ফিরে আসা এবং সরকারি চাকরিতে কোটার যৌক্তিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক, ইতিবাচক ও যুগোপযোগী সমাধানের দাবিতে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও সংগঠনের ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের নেতাকর্মীরা ছিলেন এই সমাবেশে।
চাকরিতে বিদ্যমান কোটা ব্যবস্থার ‘যুক্তি ও বাস্তবসম্মত’ সংস্কার করা যেতে পারে মনে করছে সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম- মুক্তিযুদ্ধ'৭১।
মুক্তিযোদ্ধাদের এ সংগঠনটি এক বিবৃতিতে বলেছে, “মুক্তিযুদ্ধের ৫৩ বছর পার হওয়ার পর পূর্বেকার কোটা ব্যবস্থার যুক্তিসঙ্গত ও বাস্তবসম্মত সংস্কার হতে পারে, যাতে নতুন প্রজন্মের সত্যিকার মেধাবীরা বঞ্চিত না হয়।”
এদিন নয়া পল্টনে সংগঠনের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে ছাত্রদলের সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন বলেন, “বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তিদের অতি সীমিত সংখ্যক কোটা ছাড়া বাংলাদেশে এই মুহূর্তে আর কোনো কোটার প্রয়োজন নেই।”
একই সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ২০১৮ সালের পরিপত্র অবৈধ ঘোষণা করে হাই কোর্টের রায় নিয়ে প্রশ্ন তুলে দাবি করেন, এটি প্রধানমন্ত্রীর চাওয়া ছিল।
তিনি বলেন, ‘‘আমাদের কাছে তো মনে হয় যে, আওয়ামী লীগ সরকার, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যেন আদালতের একটা টেলিপ্যাথিক সম্পর্ক। অর্থাৎ শেখ হাসিনা যেটা ভাবেন, আদালতের রায়ের মধ্য দিয়ে সেটা চলে আসে। এই টেলিপ্যাথিক সস্পর্কটা হয় কী করে?”
বিকালে শাহবাগে যা হল
বুধবার সকাল থেকে সন্ধা পর্যন্ত বাংলা ব্লকেডে তীব্র ভোগান্তির দিন আপিল বিভাগ হাই কোর্টের রায়ে স্থিতাবস্থা দিলেও কোটা আন্দোলনকারীরা কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানান। তারা বৃহস্পতিবার বিকাল ৩ টায় শাহবাগে আবার ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেয়।
সকালে ঢাকা মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে আন্দোলনকারীদের সরে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানান ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার খ মহিদ উদ্দিন। না হলে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
তবে বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মিছিল নিয়ে শাহবাগে এসে অবস্থান নেয় শিক্ষার্থীরা। পুলিশের সঙ্গে মুখোমুখি অবস্থানে থেকে হাতাহাতি করে ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা থাকলেও শেষ পর্যন্ত বিষয়টি সংঘাতে গড়ায়নি।শিক্ষার্থীদের পুলিশের সাঁজোয়া যানের ওপরে উঠে লাফালাফিও করতে দেখা যায়। তবে পুলিশ চুপ ছিল।
সন্ধ্যায় ডিএমপি অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, “কোটা নিয়ে আদালতের রায়ের পর শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কোনো সুযোগ ছিল না। তাই আমরা তাদের রাস্তায় না নামতে অনুরোধ করেছিলাম। কিন্তু তারা নেমে পড়লেন, তারপরেও পুলিশ ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছে।
“পুলিশ চায় না শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কিছু হোক। তাদেরও বোঝা উচিত। তাদেরও দায়িত্বশীল হওয়া উচিত। আমরা আশা করি আজকেই এটা (আন্দোলন কর্মসূচি) শেষ হবে।”
রাত সাড়ে রাত ৯ টার দিকে শাহবাগ মোড় ছাড়ে আন্দোলনকারীরা। তার আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম সড়ক অবরোধ করে অবস্থান কর্মসূচি থেকে সরে এসে শুক্রবার সারাদেশে মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ কর্মসূচির ঘোষণা করেন।
তিনি বলেন, “আজকে দেশের বিভিন্ন জায়গায় আমাদের আন্দোলনকারীদের উপর হামলা করা হয়েছে, বাধা দেওয়া হয়েছে। এই হামলার প্রতিবাদ ও এক দফা দাবিতে আগামীকাল বিকেল ৪ টায় সারাদেশে বিভিন্ন ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।”
কুমিল্লায় হাঙ্গামা-চট্টগ্রামে লাঠিপেটা
বিকাল সোয়া ৩টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আনসার ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায় সড়ক অবরোধ করতে যায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা। এ সময় তাদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদুনে গ্যাস ও ফাঁকা গুলি করে।
পরে শিক্ষার্থীরা কোটবাড়ি এলাকায় প্রায় ৬ ঘণ্টা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। এতে মহাসড়কের উভয়মুখী লেনে অন্তত ২৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
শিক্ষার্থীরা গাছের গুঁড়ি ফেলে ও টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে এই বিক্ষোভ দেখায়। রাত সাড়ে ১০টায় তার মহাসড়ক ছাড়ে।
দিনভর সংঘাতে পুলিশ সদস্য ও শিক্ষার্থী মিলিয়ে ১৫ জন আহত হয়েছেন বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ এফ এম আবদুল মঈন অবরোধস্থলে গেলে শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে ফিরে আসতে বাধ্য হন।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন, ‘বিকালে আনসার ক্যাম্পের সামনে যখন পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে ও লাঠিপেটা করেন, তখন উপাচার্য কোথায় ছিলেন?’
চট্টগ্রামে সড়ক অবরোধ করতে নেমে পুলিশের বাধার মুখে পড়ে আন্দোলনকারীরা। বিকালে ষোলশহর মোডে জড়ো হয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে স্লোগানও তোলে তারা। এ সময় পুলিশ তাদের লাঠিপেটা করে বলে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের একটি অংশ সেখান থেকে ছত্রভঙ্গ হয়ে ষোলশহর মোড়ে ফিরে সেখানেই অবস্থান নেয়। পুলিশি বেষ্টনির মধ্যে সমাবেশও করে তারা।
তবে প্রথমে টাইগারপাস মোড়ে জড়ো হয় আন্দোলনকারীরা। তারা ব্যারিকেড দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধের চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। সেখানেও পুলিশের সঙ্গে তাদের বাক-বিতণ্ডা হয়।
এক পর্যায়ে পুলিশ শিক্ষার্থীদের চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে। তখন শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে ষোলশহর দুই নম্বর গেইটে জড়ো হয়।
আরও পড়ুন:
