২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

কোটা আন্দোলন: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের জমায়েতে নিজেদের মধ্যে হাঙ্গামা

সংগঠনের দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও হাতাহাতির পর ছাত্রলীগের সভাপতি বলেন, “সংগঠন কারও মামার বাড়ির আবদার নয়। আমরা খোঁজ রাখছি, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”

কোটা আন্দোলন: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের জমায়েতে নিজেদের মধ্যে হাঙ্গামা
সরকারি চাকরিতে কোটা নিয়ে আন্দোলন চলার মধ্যে বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্য পাদদেশে জমায়েত হয় ছাত্রলীগ। সেখানে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 11 Jul 2024, 09:14 PM

Updated : 10 Sep 2026, 12:11 PM

কোটা আন্দোলনকারীদের ক্লাসে ফেরার আহ্বান জানিয়ে আয়োজিত সমাবেশে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও হাতাহাতির  পর সংগঠনের সভাপতি তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। বলেছেন, সংগঠন করতে হলে শৃঙ্খলা মানতে হবে। নইলে সময়মত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাশে দাঁড়ানোকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। তবে এ ঘটনায় কেউ আহত হয়নি।

ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের কাছ থেকে জানা যায়, সমাবেশের সামনে দাঁড়ানোকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকতের সমর্থকদের সঙ্গে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক সজল কুণ্ডুর সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়।

এ সময় একদল আরেক দলকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ফটক পর্যন্ত ধাওয়া করে নিয়ে যায়। সেখানে পাল্টা ধাওয়া হয় এবং এক পর্যায়ে শুরু হয় হাতাহাতি।

পরে তানভীর হাসান সৈকত মঞ্চ থেকে  থেকে নেমে নেতাকর্মীদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। এ সময় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক প্রায় ১০ মিনিট স্লোগান দিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন।

এ ঘটনার পর ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন বলেন, “স্লোগান থামান, স্লোগানের চেয়ে ডিসিপ্লিন জরুরি। আর সেই ডিসিপ্লিনের কী অবস্থা সেটা আমরা দেখেছি।”

সংগঠনের শৃঙ্খলা না মানলে সময় মত ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, “সংগঠন কারও মামার বাড়ির আবদার নয়। আমরা খোঁজ রাখছি, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”

সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিল করে ২০১৮ সালে সরকারের পরিপত্র অবৈধ ঘোষণা করে হাই কোর্টের রায়ের প্রতিক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের যে আন্দোলন চলছে, তার মধ্যে প্রথমবারের মত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নামে ছাত্রলীগ।

এরই মধ্যে অবশ্য হাই কোর্টের আদেশ চার সপ্তাহের স্থিতাবস্থা দিয়েছে আপিল বিভাগ। তবে আন্দোলনকারীরা দমে না গিয়ে ফের রাজপথে নেমেছে বৃহস্পতিবার, তবে এদিন প্রথমবারের মত পুলিশের বাধার মুখে পড়তে হয়েছে তাদের, সেই সঙ্গে ছাত্রলীগের কর্মসূচি পালনও পুরো ঘটনায় নতুন একটি মাত্রা যোগ করেছে।  

ছাত্রলীগ মাঠে নামে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাডেমিক পরিবেশ অব্যাহত রাখা, জনদুর্ভোগ তৈরি না করে ক্লাস-পরীক্ষায় ফিরে আসা এবং সরকারি চাকরিতে কোটার যৌক্তিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক, ইতিবাচক ও যুগোপযোগী সমাধানের দাবিতে।

বেলা আড়াইটায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিন থেকে মিছিল নিয়ে রাজু ভাস্কর্যের সামনে সমাবেশ করার ঘোষণা ছিল ছাত্রলীগের।

এরই মধ্যে বিকেল ৪ টার দিকে কোটা আন্দোলনকারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে মিছিল বের করে।

পরে বিকাল সাড়ে ৫টা টায় ছাত্রলীগ কর্মসূচি শুরু হয়। সেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও সংগঠনের ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের নেতাকর্মীরা ছিলেন।

এর মধ্যে হাই কোর্টের রায়ের বাস্তবায়নযোগ্য অংশ প্রকাশ হয়েছে, তাতে বলা হয়েছে, সরকারি চাকরিতে সবগুলো কোটাই থাকতে হবে। তবে কোটায় যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে মেধা তালিকা থেকে নিয়োগ দেওয়া যাবে। আর সরকার চাইলে কোটার হার পরিবর্তন করতে পারেন।

অবশ্য ২০১৩ সাল থেকেই কোটায় যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে মেধা তালিকা থেকে তা পূরণ করা হচ্ছে।

২০১৮ সালের পরিপত্রের আগে মোট ৫৬ শতাংশ কোটায় এবং ৪৪ শতাংশ মেধা তালিকায় নিয়োগ করার কথা বলা হলেও প্রথম শ্রেণির চাকরিতে মেধা তালিকা থেকে ৬২ শতাংশ নিয়োগের তথ্য মিলেছে।