Published : 13 Jan 2026, 12:44 PM
এক বছরের বেশি সময় ধরে অকার্যকর হয়ে থাকা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের জন্য নতুন চেয়ারপারসন ও কমিশনার খুঁজতে বাছাই কমিটি গঠন করেছে আইন মন্ত্রণালয়।
'জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫' অনুযায়ী এ কমিটি গঠন করা হয়েছে। ছয় সদস্যের এ কমিটির সভাপতি করা হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি ফারাহ মাহবুবকে।
কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহনাজ হুদা, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল হাসিব চৌধুরী, গণপূর্ত অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কুবলেশ্বর ত্রিপুরা।
এছাড়া জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি বা তার মনোনীত মানবাধিকার বিষয়ে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন একজন সাংবাদিক প্রতিনিধি এই কমিটির সদস্য হবেন।
সোমবার এই কমিটি গঠন করে আইন মন্ত্রণালয়ের এক অফিস আদেশে বলা হয়েছে, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা দেবে।
চব্বিশের অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সরকার ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন দপ্তরের নেতৃত্বে ব্যাপক রদবদল ঘটে।
অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার তিন মাস পর ২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নিয়োগ পাওয়া মানবাধিকার কমিশনের সদস্যরা একসঙ্গে ইস্তফা দেন।
এরপর দীর্ঘ সময় আর ওই পদগুলো পূরণ করা হয়নি। ফলে প্রতিষ্ঠানটি এখন অকার্যকর অবস্থায় রয়েছে।
চেয়ারম্যান ও কমিশনার না থাকায় এক হাজারের বেশি অভিযোগ নিষ্পত্তির অপেক্ষায় আছে। হত্যা, ধর্ষণ, নারীর প্রতি সহিংসতা, নিখোঁজ, গুম, হেফাজতে নির্যাতন ও মৃত্যু, বিচারবহির্ভূত হত্যা, সংখ্যালঘু নির্যাতন ও বিনা বিচারে আটকের অভিযোগ রয়েছে এর মধ্যে।
এদিকে সরকার গত ডিসেম্বরে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর সংশোধিত গেজেট জারি করেছে। নতুনভাবে ‘জাতীয় প্রতিরোধ ব্যবস্থা বিভাগ’ গঠন, স্বাধীন বাজেট, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং স্বাধীনতাবঞ্চিত ব্যক্তিদের সুরক্ষায় বিস্তৃত ক্ষমতা যুক্ত করা হয়েছে সেখানে।
পুরনো খবর