Published : 21 Nov 2024, 03:33 PM
পেশাগত মর্যাদা ‘সমুন্নত রাখতে’ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের বিশেষ পরামর্শকের পদে যোগ দেবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন আইনজীবী এহসানুল হক সমাজী।
পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে কোনো পক্ষেই মামলা পরিচালনা করবেন না বলেও তিনি জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার বিডিনিউজকে নিজের এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে তিনি কারণও ব্যাখ্যা করেন।
সমাজী বলেন, “আমি উক্ত নিয়োগের বিষয়ে অবগত নই। যদি উক্ত নিয়োগের সংবাদ সত্য হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে আমার বক্তব্য হল, আমি ইতোপূর্বে কিছু অভিযুক্ত ব্যক্তির পক্ষে মহামান্য ট্রাইবুনালে মামলা পরিচালনার উদ্যেশ্যে যাই। আমার পেশাগত মর্যাদা সমুন্নত রাখা এবং সকল প্রকার বিতর্ক এড়ানোর উদ্যেশ্যে উক্ত পদে যোগদান না করাটাই সমীচীন বলে আমি মনে করি।“
পাশাপাশি সার্বিক পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের কোনো পক্ষে মামলা পরিচালনা সমীচীন হবে না বলেও মন্তব্য করেছেন এই আইনজীবী।
এর আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের বিশেষ পরামর্শক হিসেবে লন্ডনভিত্তিক ল ফার্ম গের্নিকা ৩৭ গ্রুপের যুগ্ম প্রধান টবি ক্যাডম্যান ও বাংলাদেশের ফৌজদারী আইন বিশেষজ্ঞ এহসানুল এক সমাজীকে নিয়োগ দেওয়ার কথা জানানো হয়েছিল।
এর মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর বিদেশি আইনজীবী হিসেবে কাজ করা টবি ক্যাডম্যান চিফ প্রসিকিউটরের বিশেষ পরামর্শকের দায়িত্ব পেয়েছেন বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর বিএম সুলতান মাহমুদ নিশ্চিত করেছেন।
ক্যাডম্যানও এক্সে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্তির কথা জানিয়ে লিখেছেন, "আমি আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, আমাকে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের একজন স্পেশাল প্রসিকিউটর অ্যাডভাইজার নিয়োগ দেওয়ায় আমি খুবই সম্মানিত বোধ করছি।”
গত ১৮ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনা করতে যান এহসানুল হক সমাজী।
তখন এজলাসে বিচারকদের উদ্দেশ্য করে চিফ প্রসিকিউটর তাজুল বলেন, “এহসানুল হক সমাজী প্রসিকিউশনের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পাচ্ছেন। তাই তিনি আসামি পক্ষে লড়তে পারেন না।“
সে সময় এ বিষয়ে জানতে চাইলে এহসানুল হক সমাজী সাংবাদিকদের বলেন, “আমি এখনো অফিসিয়ালি এ বিষয়ে কিছু জানতে পারিনি। অফিসিয়ালি জানার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব।
এর আগে গত ২৭ আগস্ট ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) পদে সমাজীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তবে দায়িত্ব পাওয়ার দুই দিনের মাথায় ‘ব্যক্তিগত ও পারিবারিক’ কারণ দেখিয়ে ওই দায়িত্ব নিতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে নিয়োগ পাওয়া পিপি আবদুল্লাহ আবুকে সরিয়ে এই পদে সমাজীকে আনা হয়।
পিপি পদে সমাজীকে নিয়োগ দেওয়ার পরপরই বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা সরকারের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সামবেশ করে তার নিয়োগ বাতিলের দাবি জানান। তাদের (বিএনপিপন্থি আইনজীবী) অভিযোগ ছিল, সমাজী আওয়ামীপন্থি আইনজীবী হিসেবে পরিচিত।
প্রতিবাদকারীরা সমাবেশে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, পদত্যাগ না করলে সমাজীকে তার দায়িত্ব পালন করতে দেওয়া হবে না।
ট্রাইব্যুনালে চিফ প্রসিকিউটরের বিশেষ পরামর্শকের দায়িত্বে টবি ক্যাডম্যান