Published : 12 Sep 2026, 03:29 PM
পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে দেশবাসীর সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সারাদেশে তিন মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ সহযোগিতা চান।
সরকারপ্রধান বলেছেন, “আমরা রাস্তাঘাট দিয়ে যখন যাই, আমরা দেখি বহু মানুষ অসচেতনভাবে যেখানে সেখানে যত্রতত্র আবর্জনা ময়লা ফেলে দিচ্ছে। আসুন না আমরা সকলে মিলে তাদেরকে সচেতন করার চেষ্টা করি
“…প্রত্যেকটা মানুষ যদি আমরা চেষ্টা করে, আমরা পরিবর্তন করতে পারব। যারা ময়লা করবে, যারা আবর্জনা তৈরি করবে; আমরা তাদেরকে নিরুৎসাহিত করি। আমরা তাদেরকে বলি যে, ‘ময়লা করেন না’। আমরা কি পারব কাজটা?
এই সময়ে উপস্থিতিরা সমস্বরে বলেন, “আমরা পারব।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “হ্যাঁ, আমরা পারব। আমি যে কথাটা বলেছি ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট বাংলাদেশের তরুণ সমাজ দেখে দিয়েছে, দেশকে কী করে পরিবর্তন করতে হয়…তরুণ সমাজের কাছে আমার আহ্বান, আসুন এবার রাষ্ট্রকে দেশকে আমরা পুনর্গঠন করি। আছেন আমার সাথে? আছেন, ইনশাল্লাহ।
“তাহলে কথা একটাই, এখন কাজ, কাজ, কাজ এবং পরিচ্ছন্ন, পরিচ্ছন্ন, পরিচ্ছন্ন…এটাই হতে হবে আমাদের আগামী দিনের মূল লক্ষ্য। একটি পরিচ্ছন্ন পরিবার, একটি পরিচ্ছন্ন সমাজ, সবার আগে বাংলাদেশ।”
তারেক রহমান বলেন, “আসুন নিজেকে সুস্থ রাখি আমরা, নিজের পরিবারকে সুস্থ রাখি, নিজের সমাজকে সুস্থ রাখি। নিজের দেশকে আমরা সুস্থ রাখার চেষ্টা করি। এই কাজটা কিন্তু খুব কঠিন না। আজকে হয়ত আপনাদের একটু কষ্ট হবে।
“প্রতি সপ্তাহে আপনি যদি আপনার নিজের বাসা হোক, স্কুল হোক, কলেজ হোক, প্রতিষ্ঠান হোক—একটা ঘণ্টা করে যদি প্রতিষ্ঠানে সময় দিই যে, যেই বাসাটায় থাকি আমরা, যেই জায়গাটায় কাজ করি আমরা, যেই প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়ি করি আমরা, যেখানেই থাকি না কেন আমরা একটা ঘণ্টা যদি আমরা সেই জায়গা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার জন্য কাজ করি, তাহলে অবশ্যই দ্রুততার সাথে আমরা সফল হব।”
সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মী, বিএনসিসি, স্কাউটস, গার্লস গাইড, রেড ক্রিসেন্ট, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। অনলাইনে সারাদেশের সব জেলা প্রশাসকও যুক্ত ছিলেন।
‘সবাই এক হলে কেউ ঠেকাতে পারবে না’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “আপনাদের কাছে আমি একটা সাহায্য চাই। আমার সাথে শুধু আপনারাই এই মাঠে দাঁড়িয়ে আছেন, তাই নয়। অনলাইনে সবগুলো জেলা আজকে এখানে কানেক্টেড আছে।
“সেই জেলাগুলোতে আপনাদের মত গার্লস গাইড, বিএনসিসি, স্কাউটস, পরিচ্ছন্নতা কর্মী, ভলেন্টিয়ারসহ ওসব জেলাতে দাঁড়িয়ে আছে, সবার কাছে একটি সাহায্য দরকার আমার। কেন সাহায্য দরকার?
“আমি একটা হিসাব দিচ্ছি আপনাদেরকে। আমি যতটুকু জানি বাংলাদেশের স্কাউটসের সংখ্যা প্রায় ২৩ লক্ষ, বিএনসিসি সদস্যের সংখ্যা ২২ হাজার। এছাড়া প্রাথমিক স্কুল মাদ্রাসা ছাড়া সারাদেশে হাই স্কুল, মাদ্রাসা, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় দেড় কোটি আর প্রাথমিক স্কুল-মাদ্রাসাসহ আড়াই কোটি। এইবার আপনারা আমাকে বলেন এতগুলো মানুষ আমরা যদি দেশকে পুনর্গঠন করতে চাই, কেউ কি ঠেকিয়ে রাখতে পারবে? কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না।”
‘আমরা পরিবর্তন করতে পারব’
তারেক রহমান বলেন, “এখন আপনাদেরকে দায়িত্ব নিতে হবে, দেশটা কীভাবে আমরা গড়ে তুলব? এই দেশটা আমাদেরকে গড়ে তুলতে হবে। কারণ এই দেশে আমরা বাস করি। আজকে এই যে আমরা এখানে একত্রিত হয়েছি, এই যে হাজার হাজার মানুষ এই মাঠে, সারা বাংলাদেশের সবগুলো জেলাতে মিলে লক্ষ লক্ষ মানুষ যারা আমরা একত্রিত হয়েছি, আমরা চেষ্টা করব পারব দেশটাকে পরিচ্ছন্ন করতে।
“পারব আমরা? ইনশাল্লাহ আমরা পারব। কারণ এই যেই সংখ্যাটা আমি বললাম, একটা দেশের এত বড় তরুণ সমাজ যদি দেশকে পরিবর্তন করতে চায়, তাহলে করা সম্ভব।”
‘আগামী তিনমাস ডেঙ্গু অভিযান’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আসুন আগামী তিন মাস আমরা এই যে ডেঙ্গুর যে সমস্যাটা, এই সমস্যাটার আমরা সমাধান করার চেষ্টা করব। হয়তো আমরা ১০০% পারব না, কিন্তু অন্তত ৮০% আমরা পারব।
“আপনারা যারা আছেন কম-বেশি অনেকেরই ধারণা আছে যে, কারো যদি ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়। ঠিক আছে ওষুধপত্র আছে। কিন্তু ডেঙ্গু যে সকল কারণে হয় আমরা সকলেই জানি…এই যে ভাঙ্গাচুড়া কাগজপত্র বিভিন্ন জায়গায় পড়ে থাকে, প্লাস্টিকের মাটি সেটাতে পানি জমে এই ডেঙ্গুর এডিস মশা তৈরি হয়। কাজেই আমরা যদি সকলে মিলে চেষ্টা করি আমরা আমাদের দেশের পরিবর্তন ঘটাতে পারব।”
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন ডেঙ্গু সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির সভাপতি স্থানীয় সরকার মন্ত্রী আবদুল মঈন খান, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আন্দালিব রহমান পার্থ, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম।