১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

কেয়া হত্যা মামলা তুলে নিতে হুমকি, ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ঢাকার মহানগর হাকিম জুয়েল রানার আদালতে কেয়ার বাবা সৈয়দ আব্দুল্লাহ আল মামুন বাদী হয়ে এ মামলা করেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 15 Oct 2025, 04:02 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:29 PM

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী ফাহমিদা তাহসিন কেয়া হত্যা মামলা তুলে নিতে হুমকি ও অপহরণের চেষ্টার অভিযোগে তিনজনের বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে মামলা হয়েছে।

বুধবার ঢাকার মহানগর হাকিম জুয়েল রানার আদালতে কেয়ার বাবা সৈয়দ আব্দুল্লাহ আল মামুন বাদী হয়ে এ মামলা করেন।

আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে অভিযোগের বিষয়ে রমনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। 

আসামিরা হলেন-কেয়ার স্বামী সিফাত আলীর আত্মীয় মনির, দিপা শিকদার ও মাহফুজ সিকদার। 

বাদীপক্ষের আইনজীবী ইসফাকুর রহমান গালিব বলেন, “কেয়া হত্যা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য সৈয়দ আব্দুল্লাহ আল মামুনকে এজাহারভুক্ত আসামিরা প্রাণনাশের হুমকি দেন।  আসামিরা কেয়ার বাবাকে হত্যা ও অপহরণের উদ্দেশে দুটি মাইক্রোবাস নিয়ে আসে। যার সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে। এভাবে ভিকটিম পরিবারের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে ভবিষ্যতে অনেকে আইনি পদক্ষেপ নিতে ভয় পেতে পারেন। মামলা করার পর যদি বাদী হুমকি বা হামলার শিকার হন, তাহলে সেটি সরাসরি ন্যায়বিচার পাওয়ার পথে বড় বাধা তৈরি করে। 

“এজন্য সাক্ষী ও ভুক্তভোগী সুরক্ষা আইন দ্রুত প্রণয়ন ও কার্যকর করা জরুরি। অবিলম্বে এজাহারভুক্ত আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারপূর্বক ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।”

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, “গৃহবধূ ফাহমিদা তাহসিন কেয়াকে গত ১৩ অগাস্ট তার শশুরবাড়িতে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরবর্তীতে মিরপুর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। এরপর থেকেই আসামিপক্ষ কেয়ার মা ও বাবাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে। গত ৪ সেপ্টেম্বর কেয়ার মাকে আসামি দিপা শিকদার ফোন করে প্রাণনাশের হুমকিসহ তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হত্যা মামলা প্রত্যাহার করতে বলেন। এ ঘটনায় গত ১৭ সেপ্টেম্বর রমনা থানায় একটি সাধারন ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। পরবর্তীতে গত ৮ অক্টোবর সকাল ১১ টা ৪০ মিনিটের সময় ভিকারুন্নিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজের ১২ নং গেইটের সামনে কেয়ার বাবা বাজার করতে গেলে আসামি মনির, দিপা শিকদার ও মাহফুজ সিকদারসহ অজ্ঞাত ৪/৫ জন সন্ত্রাসী কালো রংয়ের গাড়িতে করে এসে তাকে সাতদিনের মধ্যে  মামলা উঠিয়ে নিতে প্রাণনাশের হুমকি দেন এবং ভয়ভীতি দেখান।”

মামলায় কেয়ার বাবা অভিযোগ করেছেন যে ওই সময় আসামিরা তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্চিতও করেন। পরবর্তীতে আসামিরা কেয়ার সন্তানদের অপরহনের উদ্দেশ্যে তার বাসার দিকে রওনা দিলে উপস্থিত বাধার মুখে আসামিরা চলে যান। 

এ ঘটনায় গত ৮ অক্টোবর রমনা থানায় জিডি করলেও কেয়ার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এ বিষয়ে থানায় যোগাযোগ করলে আদালতের দারস্ত হওয়ার পরামর্শ দেয় কর্তৃপক্ষ। এরপর এদিন আদালতে এসে মামলা করেন কেয়ার বাবা।

ভিকারুননিসার সাবেক শিক্ষার্থী কেয়া হত্যা, স্বামীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা