এবার ঈদে মহাসড়কে মোটরসাইকেলে মানা নেই
গতবছর কোরবানির ঈদে মহসড়কে মোটরসাইকেল চলাচল এক সপ্তাহ বন্ধ রেখেছিল সরকার।
গতবছর কোরবানির ঈদের সময় মহাসড়কে মোটরসাইকেল চলাচলের যে নিষেধাজ্ঞা ছিল, এবার রোজার ঈদে সেরকম কোনো বাধা থাকছে না বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
ঈদ সামনে রেখে রোববার বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) প্রধান কার্যালয়ে এক প্রস্তুতি সভায় তিনি এ কথা জানান।
দেশে যানবাহনের প্রায় অর্ধেক এখন মোটরসাইকেল; ঈদে এ বাহনটিতে কোনো নিষেধাজ্ঞা আসছে কি না, সেই প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, “মোটরসাইকেল চলবে, শুধু পদ্মা সেতু ছাড়া।”
আরেক প্রশ্নের উত্তরে কাদের বলেন, “মোটরসাইকেলের জন্য আমরা আলাদা লেইন রেখেছি। মোটরসাইকেল পার্শ্ব রাস্তায় টোল দিয়ে যাবে, সেখানে তেমন কোনো সমস্যা হবে না।”
মহামারীর লকডাউনের সময় দূর পাল্লার যানবাহন যখন বন্ধ ছিল, সে সময় অনেকেই মোটরসাইকেলে চড়ে দূর দূরান্তে গেছেন। ঈদের সময়ও বহু মানুষ মোটরসাইকেলে চড়ে পৌঁছেছেন গ্রামে।
এমনও দেখা গেছে, ফেরি বোঝাই করে শুধু মোটরসাইকেলই পদ্মা পাড়ি দিয়েছে। গত কয়েক বছর ঈদের সময় সড়ক দুর্ঘটনার তালিকায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার সংখ্যা থাকছে উপরের দিকে।
পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর পর গত বছরের ২৬ জুন যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। প্রথম দিনেই সেখানে ঢল নামে মোটর বাইকের আরোহীদের। তারা সেতুর উপর উঠে দল বেঁধে আনন্দ-উল্লাস আর হৈ-হুল্লোড়ে মাতেন।
সেই রাতে বাইক দুর্ঘটনায় দুজনের মৃত্যু হলে ২৭ জুন ভোর থেকে পদ্মা সেতুতে মোটরসাইকেল চলাচল নিষিদ্ধ করে সেতু বিভাগ।
এর কয়েকদিন পরই ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে সাতদিন মহাসড়কে মোটরবাইক চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেয় সরকার। তবে এ বছর যে এমন কোনো নিষেধাজ্ঞা যে আসছে না তা স্পষ্ট করেছেন কাদের।
আলোচনায় তিনি বলেন, সড়কে ব্যাপক উন্নয়ন হলেও ‘শৃঙ্খলা’ নেই।
“যতই আলাপ আলোচনা করেন, সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে গর্ববোধ করেন- সড়ক যোগাযোগে আমরা বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছি। একটা জায়গায় ঘাটতি আছে, সেটা শৃঙ্খলাজনিত ঘাটতি।
“শৃঙ্খলা সড়কে কার্যকর করতে পারিনি, পরিবহনেরও পারিনি। এখন শৃঙ্খলা কীভাবে ফিরিয়ে আনব সেটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আমরা অনেকেই কথা দিয়ে কথা রাখি না। আজকে এই বৈঠকে যে যা বলেছেন সেই কথাগুলো প্রতিপালন করলে অনেক কাজ হয়ে যাবে।“
পণ্যবাহী যান চলাচলের বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, "সব সময় ঈদের আগে তিন দিন ও পরে চার দিন পণ্যবাহী যান- বিশেষ করে ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকে। কিন্তু বাস্তবে ঈদের পর দিন থেকেই চলাচল শুরু হয়ে যায়। এবার সার্বিক বিবেচনায় শুধু ঈদের আগের তিন দিন সড়কে পণ্যবাহী যান চলাচল বন্ধ থাকবে।"
‘সিলেট-চট্রগ্রামের পথে স্বস্তি, ভয় গাজীপুর নিয়ে’
ঈদে ভোগান্তি কমাতে ঢাকার প্রবেশপথে বিশেষ নজরদারি করতে হাইওয়ে পুলিশ ও সড়ক কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেন ওবায়দুল কাদের।
তিনি বলেন, “ঈদের আগে নতুন করে কোনো রাস্তায় হাত দেওয়ার দরকার নাই। আমি গতবছর দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে অবাক চোখে গাজীপুরের দৃশ্যপট দেখেছি। আনন্দ করতে ঈদে বাড়ি যাবে, আর রাস্তায় এত কষ্ট। আপনারা যেভাবে ওয়াদা করেছেন সেভাবে যেন ডেলিভার্ড হয়।”
এবার উত্তরবঙ্গের পথে যানজটের আশঙ্কা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, “উত্তরবঙ্গ ছাড়া, সিলেট চট্রগ্রামে যানজট হবে না, এ কথা আমরা বলতে পারি। ভয় হচ্ছে গাজীপুর নিয়ে। এই যে বিআরটি… বাস র্যাপিড ট্রানজিট যথেষ্ট ভোগান্তি মানুষকে দিচ্ছে। এটাকে যেকোনো মুল্যে পাসেবল রাখতে হবে। উত্তরবঙ্গের রাস্তা অচল হয়ে যাবে যদি গাজীপুরের রাস্তা অচল হয়।”
সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শাহজাহান খান, সড়ক ও সেতু সচিব এ বি এম আমান উল্লাহ নুরী, বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব এনায়েত উল্লাহ, যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন
