১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

অজুহাত দিয়ে দায়িত্ব এড়াতে চাচ্ছি না, গ্যাস ও বিদ্যুৎ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী

“সমস্যার সমাধানের জন্য নিরন্তন কাজ করারও চেষ্টা করছি, উপায়টি বের করার চেষ্টা করছি।”

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 04 Aug 2026, 11:41 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:47 PM

চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে অগ্রাধিকারভিত্তিতে সরকারের কাজ করার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, অজুহাত দিয়ে দায়িত্ব এড়ানো নয়, সমস্যার সমাধান করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার বিকালে জুলাই আন্দোলনের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তির অনুষ্ঠানে গ্যাস সংকটে মানুষের কষ্টের কথা তুলে ধরে তিনি এ বিষয়ে সরকারের অবস্থানের ব্যাখ্যা তুলে ধরেন।

তার সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে জনদুর্ভোগ নিরসনসহ গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট নিরসনে কী করা হয়েছে সেগুলো তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

রাজধানীর ফার্মগেইটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলায়তনে বিএনপির উদ্যোগে এ অনুষ্ঠান হয়।

জনগণের কষ্টের মধ্যে দিয়ে যাওয়ার কথা তুলে ধরে অনুষ্ঠানে তারেক রহমান বলেন, মানুষকে এসব সমস্যা থেকে বের করে আনতে সরকার কাজ করছে।

“আমরা অজুহাত দেওয়ার মাধ্যমে আমাদের দায়িত্ব এড়াতে চাচ্ছি না। সমস্যা আছে। আমরা জানি সেই সমস্যাটাকে সমাধান করতে চাই। অনেকেই বলছেন যে, বিভিন্ন বাসা বাড়িতে বা বিভিন্ন কল-কারখানায় গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে হয়তো অনেক জায়গায় অনেক কল-কারখানা চালানো যাচ্ছে না, অনেক বাসা-বাড়িতে হয়ত রান্নাবান্না করা যাচ্ছে না।

“ইয়েস, সমস্যা আছে- আমরা মানছি। সমস্যার সমাধানের জন্য আমরা নিরন্তন কাজ করারও চেষ্টা করছি, উপায়টি বের করার চেষ্টা করছি।”

সংকট কাটাতে সরকারের করণীয় তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনারা নিশ্চয়ই দেখেছেন গতকালের (সোমবার) পত্রিকায় দেখেছেন যে, আমরা পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়াননমার থেকে গ্যাস আনার জন্য আলোচনা এরই মধ্যে শুরু করেছি।

“শুধু এটিই নয়, আমরা কিছুদিন আগে আপনাদের খেয়াল আছে যে, আমি মালয়েশিয়া ও চীনে গিয়েছিলাম। মালয়েশিয়াতে আমি ওখানে যে পেট্রোনাস একটি কোম্পানি আছে সেই কোম্পানির সাথে আলোচনা করেছি। সেই কোম্পানি একটি কাজ করে থাকে। পেট্রোনাস কোম্পানি তারা কনটেইনারের মধ্যে করে গ্যাস নিয়ে যায়। কোম্পানিটি ইন্দোনেশিয়াতে করছে এবং জাপানের সাথেও তারা এটি চুক্তি করেছে। আমরা তাদের সাথে কথা বলেছি।“

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে গত সপ্তাহে ফোনে কথা বলার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে ব্যাপারে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

“উনি আমাকে ফোনে বললেন যে আগামীকাল তাদের সাথে (পেট্রোনাস) কথা বলছি এবং আমরা দেখব কত দ্রুত বাংলাদেশকে কীভাবে সহযোগিতা করা যায়। গতকাল পেট্রোনাস কোম্পানির সাথে জুম মিটিং হয়েছে এবং তারা চেষ্টা করেছে। যেহেতু তারা জাপানের সাথে অলরেডি ২০ বছরের কন্ট্রাক্ট করে ফেলেছে। তার ভেতরে তারা চেষ্টা করবে যত দ্রুত সম্ভব আগামী অক্টোবরের মধ্যে আমাদেরকে সেইভাবে গ্যাস দেওয়ার চেষ্টা করবে, যাতে আমাদের কল-কারখানাগুলোতে গ্যাস সংগ্রহ করতে পারি।“

একইভাবে আরও কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি দ্রুত আটটি বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু করতে গ্যাস আনার প্রক্রিয়া চলছে বলে দেশবাসীকে অবহিত করেন।

সরকারপ্রধান বলেন, “এখন এই যে কথাগুলো আপনাদেরকে বললাম এই কথাগুলো বলার কারণ হচ্ছে কুইক রেন্টটাল করে আমাদেরকে দেখানো হয়েছে একটা অবস্থা তৈরি করা হয়েছে। আসলে কোনো কিছুই ঠিক নেই। যদি ঠিক থাকতো তাহলে বর্তমানে আমাদেরকে এই সমস্যার সমাধান করতে সমস্যা পোহাতে হত না।

‘‘আমরা জানি ভেতরে জনগণ অবশ্যই কষ্টের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। আমরা আমাদের সাধ্যমত আমাদের অভিজ্ঞতা বুদ্ধি-বিবেক বিভিন্ন পরামর্শের ভিত্তিতে সাধ্যমতন চেষ্টা করছি এবং চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমরা কীভাবে জনগণকে এই পরিস্থিতি থেকে বের করে আনতে পারি। এর ভেতরে আমরা জানি যে বিশেষ করে জ্বালানি খাতে তেল বা গ্যাস বা বিদ্যুতের জন্য জনগণ সমস্যার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন।”

তিনি বলেন, “আমরা যদি শুধু জ্বালানি খাতের কথাই চিন্তা করি কীভাবে ফ্যাসিবাদী স্বৈরাচার এই জ্বালানি খাতকে তাদের পকেট ভারি করার একটি খাত হিসেবে এটাকে তারা বিবেচনা করেছিল। কাজেই স্বাভাবিকভাবেই এত বছরে লুটপাট করে সেই খাতকে বিধ্বস্ত করে ফেলা হয়েছে সেই খাতটিকে যদি পুনর্গঠন করতে হয় অবশ্যই সময়ের প্রয়োজন। আজকে অনেকেই দেখলাম বিভিন্ন জন বিভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন।“

গ্যাস প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘গত ১৭ বছর ধরে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের একটি সংস্থা আছে বাপেক্স নাম যাদের, এটির দায়িত্ব হচ্ছে যে, বাংলাদেশে কোথায় কী গ্যাস, তেল কী আছে এই কূপগুলো তারা খনন করবে। গত ১৭ বছরে এই বাপেক্সকে একদম পঙ্গু করে বসিয়ে রাখা হয়েছিল। তাদেরকে কোনো কাজ করতে দেওয়া হয়নি। অর্থাৎ এটা সম্পূর্ণভাবে বিদেশিদের উপরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল।

‘‘আমরা আসার এক দেড় মাসের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, বাপেক্সের জন্য দুটো রিগের ব্যবস্থা করছি যাতে দ্রুত তারা দেশের ভিতরে যেখানে যেখানে গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা আছে সেখান থেকে এই খনিগুলো যাতে এক্সট্র্যাক্ট করা যায়। এবং নিজেরা যাতে আমাদের এই খনিজ সম্পদগুলো যাতে দেশের জন্য ব্যবহার করতে পারি। সেইটাও প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে। হয়ত একটু সময় লাগবে কিন্তু ইনশাল্লাহ আমরা কিছুদিনের মধ্যে আমরা একটা ভালো ফল পাব।”

মানুষকে এসব থেকে বের করে আনতে কাজ করার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “অবশ্যই আমি মনে করি এটা জুলাই শহীদ বলেন জুলাই যোদ্ধা বলেন, বিগত গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যে সকল মানুষ শহীদ হয়েছেন যারা রাজপথে নেমে এসেছিলেন, এমনকি ১৯৭১ সালে যে সকল মানুষ শহীদ হয়েছেন যারা অস্ত্র ধরে দেশকে স্বাধীন করার জন্য যুদ্ধ করেছেন। নিশ্চয়ই একদম নির্দিষ্ট এভাবে না হলে এই মানুষগুলোতেও এরকমই একটা প্রত্যাশা ছিল এই মানুষগুলো যে বাংলাদেশের মানুষ যাতে ভালোভাবে বিদ্যুৎ-গ্যাস সুবিধা তারা পেতে পারে। নিশ্চয়ই এটি অন্যতম তাদের একটা চিন্তাভাবনা ছিল।”

কর্মসংস্থান সুযোগ সৃষ্টির জন্য সরকার যেসব উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন বিশেষ করে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ তুলে ধরেন তিনি।

মালয়েশিয়া ও চীন সফরের ফলাফল এবং সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্য ও সৌদি আরবের পররাষ্ট্র উপমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের বিষয়বস্তু তুলে ধরে তিনি বলেন, সরকার পরিস্থতির পরিবর্তনে এগিয়ে যাচ্ছে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে ও প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাহ উদ্দিন টুকুর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় জুলাইয়ের যুগপৎ আন্দোলনের শরিক নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণফোরামের সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ, গণসংহতি আন্দোলনের জুনায়েদ সাকি, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব মুফতি মহিউদ্দিন ইকরাম ও ভাসানী জনশক্তি পার্টির সভাপতি শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু বক্তব্য রাখেন।

মহানগর উত্তর বিএনপির আমিনুল হক, দক্ষিণ বিএনপির রফিকুল আলম মজনু, যুবদলের সভাপতি এম মোনায়েম মুন্না, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এসএম জিলানী, কৃষক দলের সভাপতি হাসান জাফির তুহিন ও ছাত্রদলের সভাপতি রকিবুল ইসলাম রাকিবও বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান, এজেডএম জাহিদ হোসেন, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।