মোহাম্মদপুরে মা-মেয়ে খুন: প্রতিবেদন জমার তারিখ পেছাল
প্রতিবেদন দিতে আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি দিন ঠিক করে দিয়েছেন বিচারক।
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মা ও মেয়েকে হত্যা মামলায় প্রতিবেদন জমা দিতে তদন্ত কর্মকর্তাকে এক মাস সময় দিল আদালত।
মঙ্গলবার মামলার প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। কিন্তু মোহাম্মদপুর থানার এসআই সহিদুল ওসমান মাসুম প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি। এজন্য ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম প্রতিবেদন জমা দিতে আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি দিন ঠিক করে দিয়েছেন।
প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই মিজানুর রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন।
গত ৮ ডিসেম্বর মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোডের বাসায় ৪৮ বছর বয়সী লায়লা আফরোজ এবং তার ১৫ বছর বয়সী মেয়ে নাফিসা লাওয়াল বিনতে আজিজকে গলা কেটে খুন করা হয়। ওইদিন রাতে মোহাম্মদপুর থানায় হত্যা মামলা করেন লায়লার স্বামী আ জ ম আজিজুল ইসলাম।
আজিজুল ইসলাম উত্তরার সানবিমস স্কুলের পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষক। স্ত্রী ও একমাত্র কন্যাকে নিয়ে মোহাম্মদপুরের ওই বাসায় প্রায় ১৩ বছর ধরে বসবাস করে আসছিলেন তিনি। তাদের গ্রামের বাড়ি নাটোরে।
প্রতিদিনের মতো সোমবার সকাল ৭টার দিকে স্কুলের উদ্দেশে বাসা থেকে বেরিয়ে যান আজিজুল। স্কুলে পরীক্ষা চলমান থাকায় বাসায় ফেরেন তাড়াতাড়ি। বেলা ১১টার দিকে ফিরে বাসার এসেই তিনি স্ত্রী-কন্যার লাশ দেখতে পান। পরে তার চিৎকারে আশেপাশের বাসিন্দারা বেরিয়ে আসেন, খবর দেওয়া হয় পুলিশে।
ওই বাসায় ঘটনার চারদিন আগে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ নিয়েছিলেন আয়েশা আক্তার।
ভবনের একাধিক সিসিটিভি ভিডিও বিশ্লেষণ করে পুলিশ বলেছিল, ওইদিন সকাল ৭টা ৫১ মিনিটে বোরখা পরে ওই বাসায় ঢোকেন আনুমানিক ২০ বছর বয়সী আয়েশা। আর ৯টা ৩৬ মিনিটে স্কুলড্রেস পরে নির্বিঘ্নে বাসা থেকে বেরিয়ে যান। ওই স্কুলড্রেসটি ছিল খুন হওয়া নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাফিসার।
এর একদিন পর ঝালকাঠির নলছিটি থেকে আয়েশাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) এস এন মো. নজরুল ইসলাম বলেন, চুরির জেরেই মা-মেয়েকে এলোপাতারি ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেন আয়েশা।
এ ঘটনায় আয়েশা ও তার স্বামী রাব্বি আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
