ঋণখেলাপিদের নাম সংসদে প্রকাশ করতে অর্থমন্ত্রীর প্রতি দাবি জানিয়েছেন ফরিদপুর-৩ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য এ কে আজাদ।
Published : 24 Jun 2024, 12:09 AM
কক্সবাজারে সেনানিবাস না থাকলে মিয়ানমারের বিদ্রোহী সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি এই এলাকা দখল করে নিত বলে দাবি করেছেন কক্সবাজার-৩ আসনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ও সরকারদলীয় হুইপ সাইমুম সরওয়ার কমল।
রোববার জাতীয় সংসদে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের উপর আলোচনায় অংশ নিয়ে কক্সবাজার সদর, রামু ও ইদগাঁও এলাকার সংসদ সদস্য এ কথা বলেন।
মিয়ানমারের পরিস্থিতি উল্লেখ করে কমল বলেন, “মিয়ানমারের আরাকান আর্মি সশস্ত্র লড়াই করছে। আমার নির্বাচনি এলাকা থেকে মাত্র দুই কিলোমিটারের মধ্যে তাদের অবস্থান। প্রধানমন্ত্রী সেনানিবাস না দিলে আজকে কক্সবাজার অনিরাপদ হয়ে যেত। এতদিন তারা দখল করে ফেলত। প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে সেনানিবাসের জন্য ২০ হাজার কোটি টাকা দিয়েছেন, আমাদেরকে রক্ষা করেছেন।”
বাংলাদেশে অবস্থান করা মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ, ভারত, ভূটান, নেপাল, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা নিয়ে একটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিষদ গঠন করা হোক। তাহলে বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাড়বে, ভারতের নিরাপত্তা বাড়বে।”
কক্সবাজারের হাজার হাজার মানুষ বিদেশের বিভিন্ন কারাগারে আছে দাবি করে তিনি বলেন, “মিয়ানমারের কারাগারে আটক অনেককে ফেরত আনা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন দেশে আটক বাংলাদেশিদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ফেরত আনার দাবি করছি।”
কক্সবাজার জেলার যেসব প্রবাসী সৌদি আরব, মালয়েশিয়াসহ আরব উপসাগরীয় দ্বীপে থাকেন, তারা যখন বিভিন্ন মিশনে (কূটনৈতিক মিশন) পাসপোর্ট নবায়ন করতে যায়, মিশনে থাকা কর্মকর্তারা তাদের চেনেন না বলেও অভিযোগ করেন আওয়ামী লীগ নেতা। জানান, তাদেরকে রোহিঙ্গা বলে তারিয়ে দেওয়া হয়।
“তারা বুঝে না কক্সবাজার ও রোহিঙ্গাদের ভাষার মধ্যে তফাত” এই মন্তব্য করে মিশনগুলো কক্সবাজারের ভাষা বুঝা কর্মকর্তা নিয়োগ দিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানান কমল।
মসজিদের ইমামদের চাকরি সরকারিকরণের দাবিও জানান আওয়ামী লীগ নেতা।
কালো টাকার কর ৫ শতাংশ করার দাবি
অপ্রদর্শিত আয় বৈধ করতে ১৫ শতাংশ কর দেওয়ার যে প্রস্তাব করা হয়েছে, সেটি কমানোর দাবি করেছেন কিশোরগঞ্জ-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগ নেতা সোহরাব উদ্দীন।
তিনি বলেন, “এর আগে ১০ শতাংশ কর দিয়ে অপ্রদর্শিত আয় প্রদর্শনের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। কেউ টাকা সাদা করেনি। ১৫ শতাংশ কর দিতে হলে কেউ অপ্রদর্শিত আয় প্রদর্শন করবে না। এটি ৫ শতাংশ করা হলে বিপুল অপ্রদর্শিত আয় প্রদর্শন করবে মানুষ।”
দুর্নীতিকে দেশের ‘বড় ব্যাধি’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “উন্নয়নের সঙ্গে দুর্নীতিও বেড়ে গেছে। দুর্নীতির লাগাম টানা না গেলে উন্নয়ন ধরে রাখা যাবে না।
“দেশ বাঁচাতে হলে দুর্নীতি প্রতিরোধ করতে হবে। ব্যাংকে দুর্নীতি বেড়ে গেছে। ব্যাংকের পদস্থ কর্মকর্তা, চেয়ারম্যান তারাই দুর্নীতিতে নিমজ্জিত। উদাহরণস্বরূপ বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান আব্দুল হাই বাচ্চু হাজার কোটি টাকা নিয়ে বিদেশ চলে গেছেন। তার বিচার হয়নি।”
তারল্য সংকটের কারণে ব্যাংকে ‘টাকা নেই’ মন্তব্য করে সোহরাব বলেন, “কিছুদিন আগে কিছু দুর্বল ব্যাংককে একীভূত করার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু তা এখনো কার্যকর হয়নি। গ্রাহকেরা টাকা তুলে নিয়ে গেছেন। অদূরদর্শী সিদ্ধান্তের কারণে এভাবে নাম প্রকাশ করার কারণে ব্যাংকগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের ফান্ড শূন্য হয়েছে।”
পুঁজিবাজার নিয়ে ভাবার পরামর্শও দেন এই সংসদ সদস্য। বলেন, “কিছু ব্যক্তি পুঁজিবাজারে এসে হাজার কোটি টাকা লুটপাট করে চলে গেছে। তারা পরিচিত মুখ।”
তবে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মাসুদ উদ্দীন চৌধুরী অপ্রদর্শিত আয় বা কালো টাকা ন্যূনতম কর দিয়ে বৈধ করার বিরোধী।
তিনি বলেন, “১৫ শতাংশ কর দিয়ে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এতে সৎ করদাতাদের নিরুৎসাহিত এবং যারা কর দেন না কালো টাকার মালিক তাদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। এটি কোনো বিবেচনায় যুক্তিসঙ্গত?
তিনি বলেন, “কালো টাকা দুই রকম। একটা বেশি কালো, আরেকটা কিছুটা কম কালো। যেটা অর্জনের রাস্তা বৈধ কিন্তু কর দেননি, যেমন চিকিৎসক, আইনজীবীদের আয়, এটা কর দিয়ে বৈধ করার সুযোগ দেওয়া যায়। কিন্তু যেটার অর্জনের রাস্তায় অবৈধ সেটাকে কোনোভাবেই বৈধতা দেওয়া যাবে না। এক্ষেত্রে দিতে হলেই জরিমানা দিয়ে এবং বিনিয়োগের শর্ত দিয়ে তা করা যেতে পারে “
বিরোধী দলটির আরেক সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “দেশের অর্থনীতি এখন চরম চাপে। এ বিষয়ে সমাধান তো দূরের কথা, এ বিষয়ে বাজেটে আলোচনাই করা হয়নি।“
ঋণখেলাপির নাম প্রকাশ করুন
এই দাবি জানিয়ে ফরিদপুর-৩ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য এ কে আজাদ বলেন, “বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে খেলাপি ঋণ ১ লাখ ৮২ হাজার কোটি টাকা। মূলত তার পরিমাণ ৫ লাখ কোটি টাকা। এই টাকা কারা নিল, তাদের নাম ১২ বছরের বালক থেকে শুরু করে আমরা সবাই জানি। অর্থমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছি, আপনি স্বচ্ছতা জবাবদিহিতার জন্য সংসদে তাদের নাম প্রকাশ করুন।
“তারাই ব্যাংকের টাকা লন্ঠন করে বিদেশে পাচার করেছে। এখন যদি ১৫ শতাংশ কর দিয়ে তাদের টাকা আনতে দেওয়া হয় এটা হবে অন্যায় অবিচার।”
আওয়ামী লীগ নির্বাচনি ইশতেহারে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা করার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “তাহলে এ রকম একটা সার্বভৌম পার্লামেন্ট ১৫ শতাংশ কর নিয়ে কালো টাকাকে কীভাবে বৈধতা দিতে পারে আমার বোধগম্য নয়। যারা করদাতা, তাদের ৩০ শতাংশ দিতে হলে ওদের কেন দিতে হবে না। কেন বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন করা যাবে না।”
দেশে এতগুলো মন্ত্রণালয় ও দপ্তর দরকার আছে কিনা, সেটা দেখার জন্য প্রশাসনিক কমিটি করার দাবিও জানান এ কে আজাদ। বলেন, “তারা অডিট করে সরকারকে প্রস্তাব দিক।”