১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

‘আমরা শুরু করব, তোমাদের এগিয়ে নিতে হবে’, নতুন কুড়ি স্পোর্টসে প্রধানমন্ত্রী

উপস্থিত ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের ‘প্রধান অতিথি’ হিসেবে সম্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 02 May 2026, 07:22 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:32 PM

ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের ‘আগামী দিনের ভবিষ্যৎ’ হিসেবে অভিহিত করে তাদেরকে লেখাপড়া ও খেলাধুলার মাধ্যমে বেড়ে ওঠার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার বিকালে সিলেট স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের’ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের এ আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, “আমি চাই, তোমরা যারা গ্যালারিতে বসে আছো, তোমরা প্রত্যেকে একেকজন বাংলাদেশের অ্যাম্বেসেডর হবে, তোমাদেরকেই বাংলাদেশের দায়িত্ব নিতে হবে। কারণ তোমরাই ভবিষ্যৎ।”

‘‘এখন পড়তে হবে, নিজেকে রেডি করতে হবে, আর খেলতে হবে। একই সঙ্গে যে গান শিখতে চায় সে গান শিখবে, সেই ব্যবস্থা আমরা করব, যে মিউজিশিয়ান হতে চায়, সে মিউজিশিয়ান হবে, সেই ব্যবস্থা আমরা করব, যে খেলতে চায়, সে খেলায়াড় হবে, সেই ব্যবস্থা আমরা ইনশাল্লাহ করব।”

সিলেটসহ ৬৪ জেলায় একযোগে অনুষ্ঠিত নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬ এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের ‘প্রধান অতিথি’ হিসেবে সম্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। 

তিনি বলেন, “আজ এই ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা, তোমরাই প্রধান অতিথি।”

শিক্ষার্থীদের তুমুল করতালির মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নিজের লিখিত বক্তব্য পাঠ না করে বলেন, ‘‘আজ বক্তৃা দিতে ইচ্ছা করছে না। তোমাদের সঙ্গে কথা বলি। ”

তিনি বলেন, ‘‘তোমরাই হচ্ছো বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। তোমাদের মধ্যে থেকে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় তৈরি হবে, তোমাদের মধ্যে থেকে ভবিষ্যতে বড় বড় ডাক্তার তৈরি হবে, তোমাদের মধ্য থেকে আন্তর্জাতিক লইয়ার হবে, তোমাদের মধ্য থেকে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মানের ইঞ্জিনিয়ার তৈরি হবে…. তোমাদের মধ্য থেকে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরি হবে।

“দেশকে তোমরা নেতৃত্ব দেবে, তোমরা সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে। তোমাদের মধ্য থেকে এমপি হবে, মন্ত্রী হবে, প্রধানমন্ত্রী হবে, প্রেসিডেন্ট হবে।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘ছোট বন্ধুরা, আমাদের সময় প্রায় শেষ। এখন বাংলাদেশ তাকিয়ে আছে তোমাদের দিকে। আমরা শুরু করে দিয়ে যাব। তোমাদেরকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে বাংলাদেশকে। পারবে?”

এই সময় গ্যালারিতে অবস্থানকারী শিক্ষার্থীরা উচ্চ কণ্ঠে বলেন, “হ্যাঁ।”

জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ইয়েস, সবাই পারবে ইনশাল্লাহ।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “তোমাদের প্রত্যেককে গড়ে উঠতে হবে। তাহলেই বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। আগামীর বাংলাদেশ সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করছে তোমাদের উপরে। তোমরা যত ভালোভাবে, সুন্দরভাবে গড়ে উঠবে, বাংলাদেশ তত সুন্দরভাবে, তত শক্তিশালী ভিত্তির উপরে গড়ে উঠবে।”

সিলেট স্টেডিয়ামে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এই অনুষ্ঠান হয়। অনুষ্ঠানে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের প্রামাণ্যচিত্র দেখানো হয়। এরপর প্রচার করা হয় ‘আমরা নতুন, আমরা কুঁড়ি’ থিম সং।

পরে স্টেডিয়ামের উন্মুক্ত মাঠে বিকেএসপির শিক্ষার্থীরা ক্রিকেট, কাবাডি, ফুটবল, অ্যাথলেটিক্স, দাবা, ব্যাডমিন্টন, সাঁতার ও মার্শাল আর্টের বিষয়ে অ্যাক্রোব্যাট প্রদর্শন করে। প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের ক্রীড়া শৈলী দেখেন এবং করতালির মাধ্যমে উৎসাহ দেন।

স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

পরে সিলেটসহ ৬৪ জেলায় একযোগে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

একই সঙ্গে তিনি নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের ট্রফি ও লোগো উন্মোচন করেন।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধায়নে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে ক্রীড়া পরিদপ্তর। 

আশির দশকের প্রতিভা অন্বেষন কর্মসূচি ‘নতুন কুঁড়ি’র ধারাবাহিকায় এবার ক্রীড়াক্ষেত্রে প্রতিভা খুঁজে বের করতে নেওয়া হয়েছে এই উদ্যোগ।

নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস চিন্তা কীভাবে এল, সেই গল্প তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজ থেকে সাড়ে চার বছর হবে, আমিনুল গিয়েছিল লন্ডনে। ওকে নিয়ে একটা রেস্টুরেন্টে খাবার খেতে যাই। আমার সঙ্গে তোমাদের আন্টি (জুবাইদা রহমান) গিয়েছেন, এখানে কয়ছর (সংসদ সদস্য) বসে আছে, সেও ছিল।

“আমরা গল্প করছি, কথা বলছি বাংলাদেশের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে। তারপর আমরা কথা শুরু করলাম, যেহেতু আমিনুল স্পোর্টসের মানুষ, আমি স্পোর্টস নিয়ে আলাপ শুরু করলাম যে, স্পোর্টস নিয়ে আমরা কী কী করব? বিভিন্ন বিষয়ে আলাপ করলাম। আলাপ করতে করতে এক পর্যায়ে আমরা খাবার টেবিলে বসে ঠিক করলাম, আমরা নতুন কুড়ি স্পোর্টস চালু করব বাংলাদেশে।”

তিনি বলেন, “এই নতুন কুড়ি স্পোর্টসে কারা থাকবে? এই যে তোমরা আজকের এই গ্যালারিতে বসে আছো…তোমাদের সঙ্গে কিন্তু আরো প্রায় সবগুলো জেলা অনলাইনে কানেক্টেড, সারা বাংলাদেশ কিন্তু তোমাদের সঙ্গে কানেক্টেড।

“বাংলাদেশের নতুন কুঁড়ির ছোট বন্ধুরা, তোমাদের সকলকে আমি বলছি, শুধু সিলেটে যারা তারা নয়, পুরা বাংলাদেশকে আমি বলছি, সব বন্ধুদেরকে— এইটা হচ্ছে আজকে তোমাদের অনুষ্ঠান।”

অনুষ্ঠানে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক ও ক্রীড়া সচিব মাহবুব-উল আলমও বক্তব্য রাখেন।

এতে অন্যদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী জুবাইদা রহমান, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহিদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, সংসদের হুইপ জি কে গউছ, সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদির লুনা, এম এ মালেক ও সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।