Published : 03 Sep 2026, 06:33 PM
যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী এলাকায় মাদরাসাতুল ইতক্বান লি উলূমিল কুরআনের এক ছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় করা হত্যা মামলায় শিক্ষক হাফেজ মোহাম্মদ উল্যাহকে জামিন দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার ঢাকার পঞ্চদশ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মিজানুর রহমান শুনানি শেষে এক হাজার টাকা মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করেন বলে বাদীপক্ষের আইনজীবী এস এম আবুল কালাম (আজাদ) জানান।
এদিকে আসামির জামিনের আদেশে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আট বছর বয়সী ওই মাদ্রাসাছাত্রের বাবা। তিনি এ জামিনের বিরোধিতা করতে আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
২০২৫ সালের ২০ ডিসেম্বর যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী এলাকার মাদরাসাতুল ইতক্বান লি উলূমিল কুরআনের চতুর্থ তলার শিক্ষকদের টয়লেট থেকে গলায় গামছা পেঁচানো অবস্থায় ওই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সে সময় ঘটনাটিকে ‘আত্মহত্যা’ বলা হলেও পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যার সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছিল। পুলিশ তখন বলেছিল, ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ঘটনায় পরদিন মুদাচ্ছিরের বাবা জিয়াউর রহমান তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগে মামলা করেন। আসামিরা হলেন হাফেজ মোহাম্মদ উল্যাহ, মাওলানা ক্বারী আনিছুর রহমান এবং শিক্ষক ইনচার্জ হাফেজ মাওলানা জহিরুল ইসলাম।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা মুদাচ্ছিরকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছিলেন অথবা ছেলেটি তাদের এমন কোনো ঘটনা দেখে ফেলেছিল, যে কারণে তাকে হত্যা করা হতে পারে।
বাদীর ধারণা, ২০ ডিসেম্বর বিকেল সোয়া ৪টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার মধ্যে আসামিদের সঙ্গে অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজন মিলে শিশুটিকে হত্যা করেন। পরে ঘটনাটি ‘অন্যদিকে প্রবাহিত করতে’ মরদেহ শিক্ষকদের টয়লেটে ভেন্টিলেশনের সঙ্গে গামছা দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়।
মামলা হওয়ার প্রায় দুই মাস পর হাফেজ মোহাম্মদ উল্যাহকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে ছিলেন।
বৃহস্পতিবার তার পক্ষে আইনজীবী আবুল কালাম খান জামিনের আবেদন করে শুনানি করেন।
তিনি বলেন, “এ আসামি ঘটনার সাথে জড়িত না। তাকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি। জেল হাজতে থাকায় পরিবার মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। যে কোনো শর্তে জামিনের প্রার্থনা করছি।”
বাদীপক্ষে জামিনের বিরোধিতা করেন আইনজীবী বোরহান উদ্দিন, যিনি বিডিআর বিদ্রোহ মামলার প্রধান প্রসিকিউটর ছিলেন।
শুনানিতে তিনি বলেন, “মাদ্রাসার ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ঘটনার দিন বিকেলেও শিশুটি উৎফুল্ল, প্রাণচঞ্চল ছিল। হঠাৎ কি কারণে ৮ বছরের ওই শিশুকে বিকেলে শিক্ষকদের টয়লেটে গলায় গামছা অবস্থায় পাওয়া যায়, যা রহস্যজনক বটে। আসামিরা বাচ্চাকে হত্যা করেছে। তার জামিনের বিরোধিতা করছি।”
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল করা পর্যন্ত এক হাজার টাকা মুচলেকায় মোহাম্মদ উল্যাহর জামিন মঞ্জুর করেন আদালত।
‘আমার ছেলে মশারির দড়ি পর্যন্ত বাঁধতে পারে না’
আসামির জামিনের পর ক্ষোভ প্রকাশ করে শিশুটির বাবা বলেন, “আট বছরের বাচ্চা আত্মহত্যা করতে পারে না। আমার ছেলে মশারির দড়ি পর্যন্ত বাঁধতে পারে না। আর সে গলায় ফাঁস দেবে! আর গামছায় যেভাবে গিট্টু দেওয়া হয়েছে একজন বুঝমান ব্যক্তিও এরকম গিট্টু দিতে পারে না।”
মামলার অপর দুই আসামিকে এখনও গ্রেপ্তার না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
ছেলেটির বাবা বলেন, “তারা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেপ্তার করছে না।”