Published : 11 Sep 2026, 11:08 AM
শিশুসাহিত্যিক আমীরুল ইসলামকে মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তার মায়ের কবরে সমাহিত করা হবে।
শুক্রবার বাদ জুমা আমীরুল ইসলামের মরদেহ তার দীর্ঘদিনের কর্মস্থল চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে নেওয়া হবে। তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন সহকর্মীরা, সেখানেই তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
এরপর সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য বিকাল ৩টায় আমীরুল ইসলামের মরদেহ বাংলা একাডেমির বর্ধমান হাউস প্রাঙ্গণে রাখা হবে। সেখানে বিকাল সাড়ে ৩টায় দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলা একাডেমি থেকে মিরপুর নেওয়ার পথে বাংলামোটরের বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে ১৫ মিনিটের একটি যাত্রাবিরতি থাকবে।
এরপর মিরপুরের গোলারটেক ঈদগাহ জামে মসজিদে তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে মায়ের কবরে দাফন করা হবে সাহিত্যিককে।
দীর্ঘদিন কিডনি জটিলতায় ভুগে বৃহস্পতিবার গভীররাতে রাজধানীর একটি হাসপাতালে মারা যান ৬২ বছর বয়সি আমীরুল ইসলাম। তিনি সেখানে চারদিন ধরে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন।
১৯৬৪ সালের ৭ এপ্রিল ঢাকার লালবাগে জন্মগ্রহণ করেন আমীরুল ইসলাম। শিশুসাহিত্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিতে ২০০৬ সালে তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার পান।
‘খামখেয়ালি’ ছড়াগ্রন্থের জন্য সবচেয়ে কম বয়সে পেয়েছেন শিশু একাডেমীর অগ্রণী ব্যাংক শিশুসাহিত্য পুরস্কার, এ পুরস্কার পরে আরও পাঁচবার পেয়েছেন।
পেয়েছেন সিকান্দার আবু জাফর সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৪), নুরুল কাদের শিশুসাহিত্য পুরস্কার ২০০৩), ছোটদের পত্রিকা পুরস্কার ২০০৭, ছোটদের মেলা পুরস্কার (২০০৯/২০১০/২০১১), শামসুর রাহমান সাহিত্য পুরস্কার (২০১১), হাবীবুর রহমান শিশুসাহিত্য পুরস্কার ২০১৪, লাটাই ছড়াসাহিত্য পুরস্কার; কলকাতা থেকে অন্নদাশঙ্কর সাহিত্য পুরস্কার ২০১২।
আমীরুল ইসলামের প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা আড়াই শতাধিক। শিশুদের জন্য গল্প, ছড়া ও নানা ধরনের সৃজনশীল লেখা লিখেছেন তিনি।
বাংলা একাডেমির ফেলো, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের স্থাপনা-সদস্য আমীরুল ইসলাম ছিলেন সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘সাপ্তাহিক’র প্রকাশক।
আমীরুল ইসলাম বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত কিশোর-তরুণদের উৎকর্ষধর্মী মাসিক আসন্ন’র সম্পাদক ছিলেন দশ বছর। অধুনালুপ্ত দৈনিক বাংলার ছোটদের প্রথম চার রঙের কিশোরদের পাতা সম্পাদনা করেছেন পাঁচ বছর। সবশেষ চ্যানেল আইয়ের অনুষ্ঠান বিভাগে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন আমীরুল ইসলাম।
পৃথিবীর বিখ্যাত সব শহর বেড়ানো এ সাহিত্যিকের প্রিয় শখ ছিল পুরনো বই ও চিত্ৰকলা সংগ্ৰহ, বইপড়া, দাবাখেলা, রবীন্দ্রসংগীত শোনা।