Published : 11 Sep 2026, 11:06 AM
চার দিন হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে থাকার পর চিরবিদায় নিলেন শিশুসাহিত্যিক আমীরুল ইসলাম। তার বয়স হয়েছিল ৬২ বছর৷
বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন বলে তার বড় ভাই কামাল আহমেদ বাচ্চু জানিয়েছেন।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "আমীরুল আমাদের ছেড়ে চলে গেছে। রাত ১টা ০৭ মিনিটে চিকিৎসক আমাদের খবরটি নিশ্চিত করেছেন৷"
আমীরুল ইসলাম চ্যানেল আইয়ের অনুষ্ঠান বিভাগের প্রধান ছিলেন। তিনি অনেক দিন ধরেই কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন৷
চ্যানেল আইয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা হাবিবুল হুদা পিটু জানিয়েছিলেন, কয়েক দিন আগে
আমিরুল ইসলামকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে রোববার রাতে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়।
১৯৬৪ সালের ৭ এপ্রিল ঢাকার লালবাগে জন্মগ্রহণ করেন আমীরুল ইসলাম। শিশুসাহিত্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিতে ২০০৬ সালে তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার পান।
‘খামখেয়ালি’ ছড়াগ্রন্থের জন্য সবচেয়ে কম বয়সে পেয়েছেন শিশু একাডেমীর অগ্রণী ব্যাংক শিশুসাহিত্য পুরস্কার, এ পুরস্কার পরে আরও পাঁচবার পেয়েছেন।
পেয়েছেন সিকান্দার আবু জাফর সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৪), নুরুল কাদের শিশুসাহিত্য পুরস্কার ২০০৩), ছোটদের পত্রিকা পুরস্কার ২০০৭, ছোটদের মেলা পুরস্কার (২০০৯/২০১০/২০১১), শামসুর রাহমান সাহিত্য পুরস্কার (২০১১), হাবীবুর রহমান শিশুসাহিত্য পুরস্কার ২০১৪, লাটাই ছড়াসাহিত্য পুরস্কার; কলকাতা থেকে অন্নদাশঙ্কর সাহিত্য পুরস্কার ২০১২।
আমীরুল ইসলামের প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা আড়াই শতাধিক। শিশুদের জন্য গল্প, ছড়া ও নানা ধরনের সৃজনশীল লেখা লিখেছেন তিনি।
বাংলা একাডেমির ফেলো, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের স্থাপনা-সদস্য আমীরুল ইসলাম ছিলেন সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘সাপ্তাহিক’র প্রকাশক।
আমীরুল ইসলাম বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত কিশোর-তরুণদের উৎকর্ষধর্মী মাসিক আসন্ন’র সম্পাদক ছিলেন দশ বছর। অধুনালুপ্ত দৈনিক বাংলার ছোটদের প্রথম চার রঙের কিশোরদের পাতা সম্পাদনা করেছেন পাঁচ বছর। সবশেষ চ্যানেল আইয়ের অনুষ্ঠান বিভাগে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন আমীরুল ইসলাম।
পৃথিবীর বিখ্যাত সব শহর বেড়ানো এ সাহিত্যিকের প্রিয় শখ ছিল পুরনো বই ও চিত্ৰকলা সংগ্ৰহ, বইপড়া, দাবাখেলা, রবীন্দ্রসংগীত শোনা।