০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

শেখ হাসিনা কি শ্বশুরবাড়ি বেড়াইতে আসবেন যে তাকে পাসপোর্ট দেব, প্রশ্ন হুমায়ুনের

“সন্ত্রাসী আর অপরাধীকে ধরতে পাসপোর্ট লাগে না, এটা হস্তান্তর হয়।”

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 05 Nov 2026, 05:49 PM

Updated : 05 Nov 2026, 05:57 PM

জুলাই অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ফাঁসির দণ্ড নিয়ে দিল্লিতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পাস দেওয়ার প্রসঙ্গকে ‘হাস্যকর’ বলে বর্ণনা করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

ভারতের সঙ্গে প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী তার হস্তান্তর চাওয়ার কথা তুলে ধরে বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে তিনি বলেছেন, শেখ হাসিনা হচ্ছেন ‘পলাতক সন্ত্রাসী’।

“এখানে কি শ্বশুরবাড়ি রংপুর বেড়াইতে আসবে যে—তারে পাসপোর্ট দেব, আর পাসপোর্ট দিয়ে আসবে? আমাদের অ্যাকটিভ এক্সট্রাডিশন ট্রিটি আছে টেররিস্টদেরকে ধরার, ক্রিমিনালকে ধরার।”

ঢাকা সফরে আসা চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিংকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদায় জানানোর পর সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন।

ডিসেম্বরে ফেরার ঘোষণা দেওয়া আওয়ামী লীগ সভাপতি হাসিনা পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পাসের জন্য আবেদন করেছেন কি না, এই প্রশ্ন করা হয়েছিল হুমায়ুন কবিরকে।

উত্তরে তিনি বলেন, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডায় অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ সরকারপ্রধানদের বৈঠক থেকে বৃহস্পতিবার দেশে ফিরেছেন তিনি। এ কারণে বিষয়টি এখনও তার জানা নেই।

পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পাসের বিষয়টাই ‘হাস্যকর লাগল’ বলে মন্তব্য করেন হুমায়ুন কবির।

২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলন দমাতে প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে গত নভেম্বরে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে তার অনুপস্থিতিতেই মৃত্যুদণ্ড দেয়।

জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেই আন্দোলনে প্রায় ১৪০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। তবে নির্বাসনে থাকা শেখ হাসিনা হত্যার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। মৃত্যুর সংখ্যা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তার আইনজীবীরা।

ভারত শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ায় দিল্লির সঙ্গে ঢাকার সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটে। দুদেশের মধ্যকার প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী তাকে ফেরত দেওয়ার কথা বারবার বলে আসছে ঢাকা।

ঢাকার তরফে হাসিনাকে ফেরত দিতে কয়েক দফা চিঠি দেওয়া হলেও দিল্লির কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। এক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া পর্যালোচনার কথা বলে আসছে ভারত।

ফাঁসির রায় মাথায় নিয়ে ভারতে নির্বাসনে থাকা শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বর নাগাদ দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনার কথা বলেছেন বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “সন্ত্রাসী আর অপরাধীকে ধরতে পাসপোর্ট লাগে না, এটা হস্তান্তর হয়। তার প্রত্যর্পণের বিষয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আর আইনি প্রক্রিয়াগুলো বিদ্যমান রয়েছে।

“সুতরাং এখানে পাসপোর্ট দেওয়ার বা হস্তান্তরের প্রয়োজন নাই। তারা অপরাধী…একটা অপরাধী, স্বৈরাচার, একটা পালিয়ে যাওয়া টেররিস্ট; এখানে হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করে পালিয়ে গেছে, তাকে কি নরমাল কমার্শিয়াল ট্রাভেলার হিসেবে দেখব যে, পাসপোর্ট দেব আসেন, আসিয়া আপনার শ্বশুরবাড়ি রংপুর বেড়াইয়া যান?”

ভারত যেন তাকে হস্তান্তর করে, সেই চাওয়ার কথা তুলে ধরে হুমায়ুন কবির বলেন, “তাকে তো হস্তান্তর চাই আমরা। তাকে হস্তান্তর করা হবে এবং সে একজন সন্ত্রাসী, একজন পলাতক অপরাধী।

“বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের মধ্যে কার্যকর থাকা প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী অপরাধী ও সন্ত্রাসীদের প্রত্যর্পণের সুযোগ রয়েছে।”