Published : 17 May 2026, 07:38 PM
অনলাইন জুয়ার সাইট পরিচালনার সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের ৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
পুলিশের এ ইউনিট বলছে, গত ছয় মাস ধরে এই চক্রটি অনলাইনে জুয়ার সাইট চালিয়ে দিনপ্রতি প্রায় ২ কোটি টাকা আয় করত; যার বড় অংশ হুন্ডি ও ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে বিদেশে পাচার হত।
গ্রেপ্তাররা হলেন–আশরাফ উদ্দীন আহম্মেদ, সজীব চক্রবর্তী, আশরাফুল ইসলাম, জসীম উদ্দীন, তৈয়ব খান, সৌমিক সাহা, মো. কামরুজ্জামান ও আব্দুর রহমান।
রোববার বিকেলে ঢাকার মালীবাগে সিআইডি সদরদপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত আইজিপি মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, “জুয়ার সাইটগুলোতে অংশ নেওয়া লোকজন মোবাইল ব্যাংকিং সেবা বিকাশ, রকেট, নগদ ও বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে এবং ক্রিপ্টো ওয়ালেট ব্যবহার করে লেনদেন করে আসছিল।
“পরে সেসব অর্থ ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ডিজিটাল হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হত। সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার নিয়মিত নজরদারির সময় অনলাইন জুয়ার সাইট পরিচালনা করতে দেখে পল্টন থানায় একটি মামলা করে।

“এর প্রেক্ষিতে ৬ মে ময়মনসিংহ ও কিশোরগঞ্জে অভিযান চালিয়ে প্রথমে চক্রের আশরাফ উদ্দীন আহম্মেদ, সঞ্জীব চক্রবর্তী, আশরাফুল ইসলাম ও জসীম উদ্দীনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার নরসিংদীর পলাশ এবং ঢাকার ধানমন্ডি থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় তৈয়ব খান, সৌমিক সাহা, কামরুজ্জামান ও আব্দুর রহমানকে।”
অভিযানের সময় গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে বিপুল সংখ্যক ডিজিটাল ডিভাইস ও গুরুত্বপূর্ণ আলামত জব্দ করার তথ্যও তুলে ধরেন সিআইডি প্রধান।
তিনি বলেন, গ্রেপ্তাররা জিজ্ঞাসাবাদে অনলাইন জুয়া ও ডিজিটাল হুন্ডি কার্যক্রমের সঙ্গে ‘সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা’ স্বীকার করেছেন।
“পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে সিআইডি ও বিএফআইইউ আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে চক্রটির আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক ও সংশ্লিষ্ট ক্রিপ্টো ওয়ালেট শনাক্তের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।”
তবে এই চক্রের কার্যক্রমের সঙ্গে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা প্রতিষ্ঠানের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলেও সিআইডির ভাষ্য।
আরেক প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত আইজিপি বলছেন, সিআইডি অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত ১১৬টি ওয়েবসাইট শনাক্ত করে সেগুলো বাংলাদেশে বন্ধ করতে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে তালিকা পাঠিয়েছে।
এছাড়া অবৈধ লেনদেনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মোবাইল ফাইনান্সিয়াল সার্ভিসের ৮৭৯টি হিসাবের তথ্য বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট-বিএফআইইউতে পাঠানো হয়েছে।