এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি শেখ ফাহিমের ঢাকার বাসায় নোটিস ঝুলাবে দুদক
তার মা ফাতেমা সেলিম, ভাই শেখ ফজলে নাঈম এবং বোন শেখ আমেনা সুলতানা সোনিয়ার কাছেও সম্পদের হিসাব চাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম ও তার পরিবারের সদস্যদের সম্পদের হিসাব চাওয়ার নোটিস তাদের ঢাকার বাসার ঠিকানায় ঝুলিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
চব্বিশের আন্দোলনের পর থেকে প্রকাশ্যে না থাকা শেখ ফাহিমের বাসায় এর আগে গত মার্চে এ নোটিস পাঠানো হয়েছিল। তখন সেটি কেউ গ্রহণ করেননি। তারা সম্পদের হিসাবও দেননি। এ কারণে মামলার তদন্তের আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এ নোটিস বাসার দরজায় লটকিয়ে দেওয়ার কথা বলেছে দুদক।
শেখ ফাহিমের বাবা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুফাত ভাই শেখ সেলিমের বিরুদ্ধে মামলার পাশাপাশি ফাহিমসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের সম্পদের হিসাব চেয়েছিল দুদক। তখন ব্যবসায়ী নেতা ফাহিমের ঢাকার বাসায় নোটিস পাঠানো হয়েছিল।
দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম বলেন, শেখ সেলিমের বিরুদ্ধে গত ৪ মার্চ মামলা হয়। ওইদিন তিনি, তার ছেলে ফাহিমসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিস জারির সিদ্ধান্ত হয়েছিল।
পরে ফাহিম, তার মা ফাতেমা সেলিম, ভাই শেখ ফজলে নাঈম এবং বোন শেখ আমেনা সুলতানা সোনিয়ার কাছে সম্পদের হিসাব চেয়ে নোটিস দিয়েছিল দুদক।
গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর শেখ ফাহিম বিদেশে চলে গেছেন বলে আলোচনা রয়েছে।
দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে শেখ ফাহিমের নামে জ্ঞাত আয় বর্হিভূত ২ কোটি ৫০ লাখ ৪৪ হাজার ৩৬ টাকার বেশি সম্পদ পাওয়ার তথ্য দেন কমিশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল। এমন পরিস্থিতিতে ফজলে ফাহিমের নামে বা বেনামে আরও সম্পদ আছে কি না, তা খুঁজে বের করতে সম্পদ বিবরণী চাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। মঙ্গলবার তাদের বাসায় নোটিস ঝুলানোর সিদ্ধান্ত হয় কমিশনে।
ফাতেমা সেলিমের নামে আয় বর্হিভূত ১ কোটি ৭০ লাখ ৬১ হাজার ৩৫৫ টাকার বেশি সম্পদ পাওয়ার দাবি করেছে দুদক। শেখ ফজলে নাঈমের ক্ষেত্রে এই অঙ্ক ১১ কোটি ৭০ লাখ ৬১ হাজার ৪৪ টাকা। শেখ আমেনা সুলতানা সোনিয়ার নামে জ্ঞাত আয় বর্হিভূত ৬ কোটি ৭৮ লাখ ৫৫ হাজার টাকার বেশি সম্পদ পাওয়ার তথ্য দেওয়া হয়েছে।
শেখ সেলিমের পরিবারের এই চার সদস্যের ক্ষেত্রে দুদকের প্রাথমিক হিসাবে আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদের মোট পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ২২ কোটি ৭০ লাখ টাকা। তাদের নামে বা বেনামে আরও সম্পদ আছে কি না, তা যাচাই করতে সম্পদ বিবরণী চাওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে কমিশন।
শেখ সেলিম আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দীর্ঘদিন গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। দুদকের তথ্য অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধেও সাড়ে ১৩ কোটি টাকার বেশি জ্ঞাত আয় বর্হিভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা হয়েছে।
এদিকে মানিকগঞ্জ-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক নাঈমুর রহমান দুর্জয়ের স্ত্রী ফারহানা রহমান হ্যাপিসহ আরও ৩ জনের কাছেও সম্পদের হিসাব চাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক।
ফারহানা রহমানের নামে ১ কোটি ৩৯ লাখ ৬৭ হাজার ১৬৭ টাকার জ্ঞাত আয় বর্হিভূত সম্পদ পাওয়ার কথা বলেছে কমিশন।
এছাড়া ঘিওরের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান জনির নামে ৬৯ লাখ ৯৪ হাজার ১৮৪ টাকার জ্ঞাত আয় বর্হিভূত সম্পদ পাওয়ার দাবি করেছে দুদক।
অন্যদিকে যুবলীগ নেতা আবুল বাশারের ১৪টি ব্যাংক হিসাবে ২০১০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত মোট ৮৬ কোটি ৮০ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪৯ টাকার ‘অস্বাভাবিক লেনদেন’ পাওয়ার কথা বলেছে কমিশন।
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, অবৈধ বালু ব্যবসা, দুর্নীতি ও অর্থপাচারের মাধ্যমে তিনি ওই অর্থ অর্জন করেছেন।
দুর্জয়ের বিরুদ্ধে আগে থেকেই দুদকের একটি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে। ১ কোটি ২১ লাখ ৮১ হাজার ৭৯০ টাকার জ্ঞাত আয় বর্হিভূত সম্পদ অর্জন ও দখলে রাখা এবং ২২টি ব্যাংক হিসাবে ৯৩ কোটি ৬৫ লাখ ৯৯ হাজার ৬৫০ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগে ২০২৪ সালের ১৮ ডিসেম্বর মামলাটি হয়।
