Published : 24 Aug 2026, 01:37 AM
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি নোটিসও কোনো ব্যক্তি ও তার পরিবারের ওপর বড় চাপ তৈরি করতে পারে বলে মনে করেন সদ্য কমিশনারের দায়িত্ব নেওয়া মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূইয়া।
এ কারণে অভিযোগের প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ের সময়েই বাড়তি সতর্ক থাকতে চান তিনি; জোর দিতে চান মানবাধিকার রক্ষা করে দুদকের কাজ চালানোর ওপর।
এ কে এম আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বাধীন দুদকে কমিশনার (অনুসন্ধান) হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সাজ্জাদ হোসেন, যিনি এর আগে ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের (এফআরসি) চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সঙ্গে আলাপচারিতায় রোববার নতুন এই কমিশনার বলেছেন, তাড়াহুড়ো করে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তিকে অনুসন্ধানের আওতায় আনা ঠিক হবে না।
দুদককে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের পুরনো অভিযোগের প্রসঙ্গে সাজ্জাদ হোসেন বলেন, “যেকোনো মানুষের মানবাধিকার সংরক্ষণ করে আমাদের কাজ করতে হবে। অনেক মানুষ আছেন, যাদের কাছে দুদকের কোনো নোটিস গেলে তিনি হয়তো আতঙ্কে হার্টফেল করেও মারা যেতে পারেন।”
দুদকের কমিশনার হিসেবে গত বুধবার দায়িত্ব পালন শুরু করা সাজ্জাদ হোসেন ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সদস্যও।
দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা প্রায় পাঁচ হাজার অভিযোগের প্রাথমিক যাচাই-বাছাই ও অনুসন্ধানসংক্রান্ত কাজ দ্রুত করতে চায় নতুন কমিশন।
দায়িত্ব নেওয়ার পর গত তিন দিনে বিভিন্ন পর্যায়ের সব মিলিয়ে প্রায় ৩০০ ফাইল ছেড়েছেন বলে তথ্য দেন নতুন এই কমিশনার। আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে জমে থাকা এসব ফাইলের একটি বড় অংশের কাজ শেষ করার কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এগোনোর কথা বলেন তিনি।
তবে কাজের গতি বাড়াতে গিয়ে যাচাই-বাছাইয়ে তাড়াহুড়ো করতে চান না সাজ্জাদ হোসেন। বলেন, “মানুষের দুর্ভোগ কমিয়ে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করাই হল মূল কাজ। দুর্ভোগ বাড়িয়ে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা ভালো কাজ নয়।”
প্রথম দিন দুদক কার্যালয়ে পরিচিতি ও মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সামনে আসেন কমিশনের নতুন চেয়ারম্যান এ কে এম আসাদুজ্জামান এবং অপর দুই সদস্য জাহাঙ্গীর আলম খান ও সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া (ডানে)।
দুদকে কোনো অভিযোগ আসার পর প্রথম ধাপের যাচাই-বাছাইকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন তিনি। এ পর্যায়ের সিদ্ধান্তের ওপরই অভিযোগটি অনুসন্ধানে যাবে কি না, তা নির্ভর করে।
তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরুর আগে অভিযোগের ভিত্তি ও তথ্য ভালোভাবে যাচাই করতে চান তিনি। এজন্য প্রয়োজন হলে সময় নেবেন।
তার ভাষ্য, তাড়াহুড়ো করে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তিকে অনুসন্ধানের আওতায় আনা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পাশাপাশি তার পুরো পরিবারও চাপের মধ্যে পড়ে।
নিরপরাধ কেউ যাতে দুদকের অনুসন্ধানের আওতায় না আসেন, সেটিও নিশ্চিত করতে চান তিনি।
কমিশনার সাজ্জাদ বলেন, “আমরা একটি সুন্দর সমাজ গঠন করতে চাই। মাস্তানি করার জন্যতো সমাজ গঠন করতে চাই না। কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যাতে অনুসন্ধানের আওতায় না আসেন, সেটি আমরা নিশ্চিত করতে চাই।”
অভিযোগের মুখে থাকা কেউ কথা বলতে চাইলে তার সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগও থাকবে বলে তুলে ধরেন এই কমিশনার।
অতীতে ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে দুদক তুলনামূলক দুর্বল ছিল কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমরা কাজ করছি, কোনো চাপ নেই। এখন অভিযোগ যার নামেই আসবে, সেটিই আমরা যাচাই-বাছাই করব। আমরাতো নিজেরা অভিযোগ সৃষ্টি করি না।”
অভিযোগ কার বিরুদ্ধে এসেছে, তার চেয়ে অভিযোগের বিষয়বস্তু ও তথ্য যাচাই করাকেই গুরুত্ব দিতে চান তিনি।
নাগরিকদের কাছ থেকে পাওয়া অভিযোগের পাশাপাশি দুদকের নিজস্ব তথ্য সংগ্রহের ব্যবস্থাও শক্তিশালী করার কথা বলেন সাজ্জাদ হোসেন।
দুর্নীতি দমনের নামে মানুষের ভোগান্তি বাড়ানো নয়, মানবাধিকার রক্ষা করে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠাই হওয়া উচিত দুদকের কাজ।