Published : 01 Dec 2025, 11:42 PM
প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ‘কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সি’ (কোইকা) এর প্রেসিডেন্ট চাং ওন-সাম।
সোমবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এ সাক্ষাতে উন্নয়ন সহযোগিতা, বিনিয়োগ, দক্ষতা প্রশিক্ষণ ও বাংলাদেশের এলডিসি থেকে উত্তরণসহ পারস্পরিক স্বার্থের বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
বৈঠকে কোইকা প্রেসিডেন্ট বলেন, “আবারো বাংলাদেশে আসতে পেরে আমি সত্যিই আনন্দিত। আমি কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে উষ্ণ শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।”
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের রাজনৈতিক ও উন্নয়নমূলক উদ্যোগের প্রতি কোইকার সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
চাং ওন-সামকে তার সফরের জন্য ধন্যবাদ দিয়ে বাংলাদেশ ও কোরিয়া আরও দ্রুতগতিতে একসঙ্গে এগিয়ে যাবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন প্রধান উপদেষ্টা।
সরকারের অর্থনৈতিক ভিশন তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা কোরিয়ান বিনিয়োগকারী ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে উৎপাদন ও বাণিজ্যে বাংলাদেশকে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, “আমরা একটি উৎপাদন কেন্দ্র হয়ে উঠতে চাই। আমরা এখানে আপনাদের পণ্য উৎপাদন করতে পারি এবং সেগুলো সর্বত্র বিক্রি করতে পারি। আমাদের জনশক্তি ও সামর্থ্য আছে এবং আমাদের তরুণ জনগোষ্ঠী কঠোর পরিশ্রমে আগ্রহী।”
প্রধান উপদেষ্টা ভাষা প্রশিক্ষণ, স্বাস্থ্যসেবা ও দক্ষতা উন্নয়নে জনকেন্দ্রিক সহযোগিতার ওপর বিশেষ জোর দেন।
তিনি বাংলাদেশে কোরিয়ান ভাষা প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সম্প্রসারণের অনুরোধ করেন, যাতে দেশটিতে শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানে বাংলাদেশি তরুণদের সুযোগ বাড়ে। এ ছাড়া নার্সিং ও স্বাস্থ্যসেবা প্রশিক্ষণে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরেন তিনি।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “এটি আমাদের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা ও বৈশ্বিক স্বাস্থ্যসেবার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের নার্সদের প্রশিক্ষণে আরও মনোযোগ দিতে হবে।”
জবাবে কোকা প্রেসিডেন্ট চাং ওন-সাম দক্ষতা উন্নয়ন ও শিক্ষায় সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী এবং এসডিজি সমন্বয়ক ও সিনিয়র সচিব লামিয়া মোরশেদ সাক্ষাতে উপস্থিত ছিলেন।