Published : 29 Jun 2026, 12:32 AM
ঢাকাসহ ছয় জেলায় মৃদ্যু তাপপ্রবাহের মধ্যে সিলেট, সুনামগঞ্জ ও উত্তরাঞ্চলের পাঁচ জেলায় স্বল্পমেয়াদী বন্যার আভাস দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
কেন্দ্রের বুলেটিনে বলা হয়েছে রোববার বন্যার এই পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর বলেছে, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ছয়টি জেলায় যে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, তা সোমবার কমে যেতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র বলেছে, রোববার কুশিয়ারা নদীর পানি সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে বিপৎসীমার ৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল৷ সন্ধ্যা ৬টার দিকে তিস্তা নদীর পানি সমতল ডালিয়া পয়েন্টে ছিল ৫২ দশমিক ২২ মিটার; যা বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপরে। বিগত তিন ঘণ্টায় সেখানে ১৯ সেন্টিমিটার পানি বেড়েছে।
এছাড়া তিস্তা নদী ডালিয়া (নীলফামারী), কুশিয়ারা নদী মারকুলি (সুনামগঞ্জ) এবং সোমেশ্বরী নদী কলমাকান্দা (নেত্রকোণা) স্টেশনে সতর্কসীমায় প্রবাহিত হচ্ছে।
এদিকে রোববার সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম বিভাগ, ভারতের মেঘালয় ও অরুণাচল রাজ্যে অতি ভারি এবং পশ্চিমবঙ্গে ভারি বৃষ্টিপাত হয়েছে।
আবহাওয়া সংস্থাগুলোর বরাত দিয়ে কেন্দ্র বলছে, দেশের অভ্যন্তরে রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগ এবং তৎসংলগ্ন উজানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, অরুণাচল ও মেঘালয় রাজ্যে আগামী চারদিন ভারি থেকে অতি ভারি এবং পরবর্তী এক দিন মাঝারি-ভারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদ-নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আগামী পাঁচ দিন অব্যাহত থাকতে পারে। আগামী ১ থেকে ৩ জুলাই ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদী কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়া জেলায় সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে এবং নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল কোথাও কোথাও প্লাবিত হতে পারে।
এ সময়ে গঙ্গার পানি সমতল হ্রাস পেয়েছে, অপরদিকে পদ্মা নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে। গঙ্গা-পদ্মা নদীসমূহের পানি সমতল আগামী দুইদিন স্থিতিশীল এবং পরবর্তী তিন দিন বৃদ্ধি পেতে পারে; তবে বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে।
তবে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি সমতল বেড়েছে, যা আগামী তিন দিন এ ধারায় থাকতে পারে। আগামী ৭২ ঘন্টায় ওই নদী দুটি সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় কয়েকটি পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে এবং নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।
এছাড়া উত্তরাঞ্চলীয় রংপুর বিভাগের তিস্তা, দুধকুমার ও ধরলা নদীর পানি সমতল স্থিতিশীল থাকলেও আগামী তিন দিন বাড়তে পারে। আগামী ৪৮ ঘণ্টায় ওই নদী তিনটি বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হতে পারে। ফলে নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, রংপুর ও গাইবান্ধা জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদী বন্যার কবলে পড়তে পারে।
গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের সারিগোয়াইন ও যাদুকাটা নদী দুটির পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে। এ সময়ে মনু, খোয়াই, ধলাই, সোমেশ্বরী ও ভূগাই-কংস নদীর পানি সমতল কমলেও আগামী তিন দিন বাড়তে পারে।
এ সময় ভূগাই-কংস ও সোমেশ্বরী নদী শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোণা জেলায় সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে। ফলে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল কোথাও কোথাও সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।
ঢাকাসহ ৬ জেলায় মৃদু তাপপ্রবাহ
অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ শাহিনুল ইসলাম রোববার সন্ধ্যায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “রোববার ঢাকা, টাঙ্গাইল, রাজশাহী, পাবনা, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া জেলায় মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছিল। সোমবারের মধ্যে অনেক স্থানেই তাপপ্রবাহ কমে যেতে পারে।”
তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কম হলে তাকে মৃদু তাপপ্রবাহ ধরা হয়। ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রির কম তাপমাত্রাকে বলা হয় মাঝারি এবং ৪০ থেকে ৪২ ডিগ্রির কম তাপমাত্রাকে তীব্র তাপপ্রবাহ বলা হয়। আর তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রির উপরে উঠলে তাকে বলা হয় অতি তীব্র তাপপ্রবাহ।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, রোববার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল রাজশাহীতে। সেখানে তাপমাত্রার পারদ ঠেকেছে ৩৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।
এই সময়ে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল সিলেট ও নীলফামারীর ডিমলায়, ২৪ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
চট্টগ্রামের কুতুবদিয়ায় গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ ৬০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ডের তথ্য দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
সোমবার রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং খুলনা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারী ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সেইসঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে।