১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

বিশেষ দায়িত্বে ৩০ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও হুইপ, কে কোন জেলায়?

জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে সরকারি দপ্তরগুলোকে পরামর্শ দেবেন তারা।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 27 Aug 2026, 11:31 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:54 PM

সরকারের কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয়ের জন্য দেশের ৬৪ জেলায় ৩০ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপকে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। 

জেলার গুরুতর অপরাধ দমন, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধসহ সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে সরকারি দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবেন দায়িত্বপ্রাপ্তরা।

বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে এ ৩০ জনকে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি জানানো হয়।

তালিকা অনুযায়ী বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদকে রাজশাহী ও নাটোর, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেনকে লালমনিরহাট-নীলফামারী ও পঞ্চগড়, পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুকে লক্ষ্মীপুর, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীকে চুয়াডাঙ্গা, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরকে হবিগঞ্জ, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীকে মৌলভীবাজার এবং পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানিকে চট্টগ্রামের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতকে শেরপুর-ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুকে ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুর, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানকে খুলনা-সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট, গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহেরকে ফেনী ও নোয়াখালী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুলকে মানিকগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জ, পার্বত্য বিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরীকে কক্সবাজার জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে শরীফুল আলমকে টাঙ্গাইল ও নরসিংদী, শামা ওবায়েদকে মাদারীপুর ও শরীয়তপুর, অনিন্দ্য ইসলাম অমিতকে মেহেরপুর-কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ, আব্দুল বারীকে বগুড়া ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে ঢাকা এবং পার্বত্য তিন জেলা খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও রাঙামাটির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনকে। 

এছাড়া হাবিবুর রশিদকে গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ, রাজীব আহসানকে বরগুনা-পটুয়াখালী ও পিরোজপুর, মীর শাহে আলমকে রংপুর-গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম, ফারজানা শারমিনকে সিরাজগঞ্জ ও পাবনা, শেখ ফরিদুল ইসলামকে যশোর-মাগুরা ও নড়াইল, ইমরান খান চৌধুরীকে জামালপুর ও কিশোরগঞ্জ, আহম্মদ সোহেল মঞ্জুরকে বরিশাল-ভোলা ও ঝালকাঠির, শামীম কায়সারকে জয়পুরহাট ও নওগাঁর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

হুইপদের মধ্যে জি কে গউছ পেয়েছেন সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার দায়িত্ব। মিয়া নূরুদ্দিন আহমেদ অপুকে রাজবাড়ী-ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জ এবং এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজানকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও চাঁদপুরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, “যেহেতু ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনোত্তর গঠিত সরকারের মন্ত্রিপরিষদ উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছে যে, বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে দেশের বিভিন্ন জেলায় উন্নয়নের বরাদ্দ কাগজে-কলমে থাকলেও ব্যাপক দুর্নীতির মাধ্যমে লুটপাট হয়েছে। 

“এবং এ সকল লুট করা অর্থের একাংশ বিদেশে পাচার হয়েছে, যা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। 

“লুটপাটের অর্থের অন্য অংশ দেশের ভেতরে মাদকসহ সামাজিক অবক্ষয়, জননিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর কাজে ব্যবহৃত হয়েছে। যা রাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।”

এমন পরিস্থিতি এ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপদের ৬৪ জেলার দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে তুলে ধরে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সংবিধানের ৫৫ (২) অনুচ্ছেদ এবং কার্যপ্রণালি বিধিমালার সংশ্লিষ্ট বিধান অনুসারে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত এ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপদের কার্যপরিধি সম্পর্কে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে- 

১. মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার নিয়ন্ত্রণ, চোরাচালান প্রতিরোধ, গুরুতর অপরাধ দমনসহ জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরসমূহকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবেন তারা।

২. সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিসহ সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের তদারকি ও পরামর্শ দেবেন।

৩. দায়িত্বপ্রাপ্তরা প্রয়োজনবোধে সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা পর্যায়ে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন সভায় অংশগ্রহণ এবং পরামর্শ দিতে পারবেন।