Published : 21 Jul 2025, 10:48 PM
ঢাকার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভবনে বিমান বাহিনীর উড়োজাহাজ বিধ্বস্তের ঘটনায় দগ্ধ হওয়া ৩৮ জনের একটি তালিকা দিয়েছে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট।
তালিকা ঘেঁটে দেখা গেছে, দগ্ধদের বেশির ভাগই শিক্ষার্থী এবং অধিকাংশের বয়স ১০ থেকে ১৩ বছরের মধ্যে।
৩৮ জনের মধ্যে ১১ জন ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তারা হলেন— মাহতাব, এবি শামীম, নাফিস, শায়ান ইউসুফ, মাহিয়া, মাসুকা, বাপ্পি, মাহরিন, মাসুমা, আফনান ফায়াজ ও সামিয়া। এদের মধ্যে ৪৬ বছর বয়সী মাহরিনের শরীরের শতভাগ দগ্ধ হয়েছে। ৯৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে শামীম, শায়ান, নাফিস ও আফনানের।
আইসিইউয়ে থাকা বাকি ছয়জনের মধ্যে মাহতাবের ৮৫ শতাংশ, সামিয়ার ২৫ শতাংশ, মাহিয়ার ৫০ শতাংশ, মাসুকার ৮৫ শতাংশ, বাপ্পির ৩৫ শতাংশ ও মাসুমার শরীরের ৬০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।
বাকি ২৭ জনের মধ্যে মোনতাহার ৫ শতাংশ, রূপী বর্ণের ৬ শতাংশ, জায়ানার ৮ শতাংশ, শিক্ষক আশরাফুল ইসলামের ১৫ শতাংশ, ইউশার ৬ শতাংশ, পায়েলের ১০ শতাংশ, তাসনিয়ার ৫ শতাংশ ও কাব্যের ২০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।
এদের বাইরে জাকিরের ৫ শতাংশ, সায়েবার ১৬ শতাংশ, তৌফিকের ৯ শতাংশ, নিশির ১৩ শতাংশ, আলভিরার ৫ শতাংশ, নুসরাতের ৬ শতাংশ, জুনায়েদের ১৪ শতাংশ, শ্রেয়ার ৫ শতাংশ, শিক্ষক সুমাইয়া লরিনের ১৫ শতাংশ ও কাফি আহমেদের ১০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।
বাকিদের মধ্যে মধ্যে আয়াতের ১২ শতাংশ, রোহানের ৫০ শতাংশ, আবিদুর রহমানের ২০ শতাংশ, আয়ানের ৪০ শতাংশ, আরিয়ান আফিফের ৩৫ শতাংশ, মাকিনের ৬২ শতাংশ, সায়েমার ৮ শতাংশ ও মেহরিনের ৪ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। লিমন নামের একজন আহত হয় ‘হিট বার্নে’।
বিমান বাহিনীর উড়োজাহাজ বিধ্বস্তের ঘটনায় অন্তত ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত ও দগ্ধ হয়েছেন দেড় শতাধিক।
আন্তঃবাহিনীর জনসংযোগ পরিদপ্তর-আইএসপিআর বলছে, বিমান বাহিনীর ‘এফ-৭ বিজিআই’ উড়োজাহাজটি সোমবার দুপুরে উড্ডয়নের ১২ মিনিটের মাথায় বিধ্বস্ত হয়।
বিধ্বস্ত হওয়ার পরপরই উড়োজাহাজটিতে আগুন ধরে যায়। অনেক দূর থেকেও সেখানে ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। জ্বলন্ত উড়োজাহাজটির আগুন নেভাতে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় ফায়ার সার্ভিসের নয়টি ইউনিট।
মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের জনসংযোগ কর্মকর্তা শাহ বুলবুল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ওই ভবনে বাচ্চাদের ক্লাস চলছিল। আগুনে ভবন থেকে কেউ বের হতে পারেনি। অনেকেই সেখানে দগ্ধ হয়েছে।”
দুর্ঘটনাস্থল থেকে আহত ও দগ্ধদের রিকশা, ঠেলাগাড়িসহ বিভিন্ন বাহনে করে সরিয়ে নিতে দেখা যায়। এক ডজনের বেশি অ্যাম্বুলেন্সে করে তাদের পাঠানো হয় হাসপাতালে।
তাদের একটি অংশকে প্রাথমিকভাবে ঢাকা সিএমএইচ, উত্তরার ক্রিসেন্ট হাসপাতাল, উত্তরা আধুনিক হাসপাতাল, কুর্মিটোলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কুয়েত মৈত্রী হাসপাতাল, লুবনা জেনারেল হাসপাতাল এন্ড কার্ডিয়াক সেন্টারে নেওয়া হয়। দগ্ধদের অধিকাংশকে পরে পাঠানো হয় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে ঘটনাস্থালে সাংবাদিকদের বলেন, তাদের কর্মীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে ২০ জনের লাশ উদ্ধার করেছে।
আইএসপিআরও পরে জানায়, বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমানের পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মো. তৌকির ইসলামসহ মোট ১৯ জন সেখানে মারা গেছেন।