‘ধরা পড়া রোহিঙ্গাদের’ দেখতে ঘুমধুম স্কুলে স্বজনদের ভিড়

এদিনই বাংলাদেশে প্রবেশকারী ২৩ রোহিঙ্গাকে ১২টি অস্ত্রসহ পুলিশে সোপর্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবি।

গোলাম মর্তুজা অন্তুবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 9 Feb 2024, 05:03 PM
Updated : 9 Feb 2024, 05:03 PM

মিয়ানমারের যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়ে আসা দেশটির সীমান্ত রক্ষা বাহিনী বিজিপির দুই শতাধিক সদস্যকে যেখানে রাখা হয়েছে, সেই ঘুমধুম উচ্চ বিদ্যালয়ে রোহিঙ্গারাও আছেন- এমন খবরে তাদের স্বজনদের ভিড় করতে দেখা গেছে সেখানে।

শুক্রবার দুপুরে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার স্কুলটির সামনে তাদের চোখেমুখে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দেখা যায়।

ছয় মাসের মেয়েকে কোলে নিয়ে বসে ছিলেন রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১০ এর বাসিন্দা নুরুস সালাম। তার সঙ্গে ছিলেন বোন ও আরেক সন্তান।

নুরুস সালামের ভাষ্য, তার ২০ বছরের ভাগ্নে ইয়াসিন আরাফাত এই ঘুমধুম উচ্চ বিদ্যালয়ে বিজিবি হেফাজতে ছিলেন। তিনি এসে ‘দেখেও গেছেন’। কিন্তু শুক্রবার আর পাচ্ছেন না।

আরাফাত ‘জিরো লাইনে’ কাজ করতেন জানিয়ে সালাম বলেন, সেখানে সংঘাত শুরু হলে ভাগ্নেকে চলে আসতে হয়।

তবে তার ভাগ্নে ‘জিরো লাইনে’ কী কাজ করতেন তা পরিবারকে জানায়নি বলে ভাষ্য সালামের।

রোহিঙ্গা নারী আমিনা খাতুন কুতুপালং ক্যাম্পে থাকেন। তার ১৬ বছরের ছেলে সাবের আড়াই মাস আগে বাড়ি ছাড়ার পর থেকে নিখোঁজ। মাসিক চুক্তিতে মাটি কাটার কাজে যাচ্ছে বলে মাকে জানিয়েছিল।

কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে তার কোনো খোঁজ নেই জানিয়ে মা আমিনা বলেন, তার ছেলে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসার সময় ধরা পড়েছে বলে লোকমুখে শোনেন। পরে তিনি কুতুপালং স্কুলে এসে শুক্রবার আর খুঁজে পাননি।

আমিনার কথায়, “আমার ছেলে এখানে ছিল। আমি নিজে এসে দেখে গেছি। সে আমাকে দেখে জানালা দিয়ে হাত নেড়েছে। আমি জিজ্ঞেস করেছি, ‘তুই এখানে কেন?’ ও বলেছে, ‘মিয়ানমার থেকে পালানোর সময় ধরা পড়েছি।’ আমি জিজ্ঞেস করলাম, ‘তুই বার্মায় কেন গেছিলি? ও এইবার আর কোনো জবাব দেয় না।”

আরেক রোহিঙ্গা নারী শফিকা খাতুন এসেছিলেন তার ১৫ বছরের ছেলে সাদেকের খোঁজে। ১২ হাজার টাকা বেতনে মাটি কাটার কাজ করার কথা বলে সাদেক ২৯ দিন আগে বাড়ি ছেড়ে যায়।

শফিকা বলেন, দুদিন আগে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের কয়েকজন বাসিন্দা তাকে জানান, সাদেককে তারা ঘুমধুম উচ্চ বিদ্যালয়ে বিজিবির হেফাজতে দেখে গেছেন।  তবে শুক্রবার এসে সাদেকের দেখা পাননি শফিকা।

“ছেলে বাড়ি ছাড়ার ১৫ দিন পরে একবার কথা হয়। আমাকে জানায়, সে সীমান্তের জিরো পয়েন্টে কাজ করে। তারা সেখানে ভালো আছে, সব ঠিক আছে। তারপর চার-পাঁচদিন ধরে কোনো খবরই পাচ্ছিলাম না। তারপরে মানুষ জানালো ‘তোর পোয়া আছে এখানে’।”

এদিকে শুক্রবার বাংলাদেশে প্রবেশকারী ২৩ রোহিঙ্গাকে ১২টি অস্ত্রসহ পুলিশে সোপর্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবি। তাদের মধ্যে ঘুমধুম উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে অপেক্ষা করা ব্যক্তিদের স্বজনরা আছেন কি না তা জানা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলামের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার সাড়া মেলেনি।

পুলিশ বলছে, বিজিবির সোপর্দ করা ব্যক্তিরা কক্সবাজারের উখিয়া সীমান্তের বিভিন্ন স্থান দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকেছে। তারা বাংলাদেশে অবস্থিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পের তালিকাভুক্ত বাসিন্দা। কিন্তু কী কারণে তারা মিয়ানমারে গিয়েছিল তা জানার চেষ্টা চলছে।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মাহফুজুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ ২৩ জন সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে বিজিবি। এরা বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিক (রোহিঙ্গা)।

“তাদের বিরুদ্ধে উখিয়া থানায় একটি মামলা হয়েছে। পুলিশ এদের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নিচ্ছে।”

Also Read: ২৩ রোহিঙ্গাকে অস্ত্রসহ পুলিশে সোপর্দ বিজিবির