২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

দশ বছরে মারা গেছে ১৪৬ হাতি: বনমন্ত্রী

“বাংলাদেশের বন্য হাতির অস্তিত্ব বর্তমানে গুরুতর সংকটের মুখে রয়েছে।”

দশ বছরে মারা গেছে ১৪৬ হাতি: বনমন্ত্রী

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পর্যটন ভবনের শৈলপ্রপাত মিলনায়তনে ‘হাতি সংরক্ষণ: বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক এ আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 26 Sep 2026, 08:54 PM

Updated : 26 Sep 2026, 09:01 PM

দশ বছরে ১৪৬ হাতির মৃত্যু হয়েছে বলে বন অধিদপ্তরের বরাতে বলেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।

শনিবার রাজধানীতে এক আলোচনা সভায় মন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের বন্য হাতির অস্তিত্ব বর্তমানে গুরুতর সংকটের মুখে রয়েছে।”

তিনি বলেন, ২০১৬ সালে দেশে আনুমানিক ২৬৮টি হাতি ছিল। বন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ১৪৬টি হাতির মৃত্যু হয়েছে।

আবাসস্থল ও চলাচলের করিডোর সংকুচিত হওয়া, বন উজাড়, খাদ্যের সংকট, সড়ক ও রেলপথ নির্মাণ, জলবায়ু পরিবর্তন এবং বৈদ্যুতিক ফাঁদের মতো বিভিন্ন কারণে মানুষ ও হাতির সংঘাত বাড়ছে, বলেন বনমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “এশীয় হাতির চলাচলের জন্য বিস্তৃত এলাকা প্রয়োজন, অথচ বাংলাদেশ অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। ফলে হাতি সংরক্ষণ একটি জটিল কাজ এবং এটি কোনো একক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সম্ভব নয়।”

এজন্য বন অধিদপ্তর, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন, অবকাঠামো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, সংরক্ষণ সংস্থা, গবেষক এবং স্থানীয় জনগণের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন বলে মন্ত্রী মনে করেন।

বন্দি হাতির লাইসেন্স, সংখ্যা ও অবস্থার যথাযথ রেকর্ড সংরক্ষণ এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করার তাগিদ দেন তিনি।

বনমন্ত্রী বলেন, প্রশিক্ষণের নামে হাতিকে শিকলবন্দি রাখা, প্রহার ও নির্যাতনের অভিযোগ এবং সার্কাসসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহারের বিষয়গুলো যথাযথ আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় গুরুত্বের সঙ্গে পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

মানুষের তত্ত্বাবধানে থাকা হাতির জন্য উপযুক্ত চিকিৎসা ও দায়িত্বশীল আচরণও নিশ্চিত করার বিষয়ে জোর দেন তিনি।

পার্বত্য চট্টগ্রামের সীমান্তবর্তী দুর্গম এলাকায় হাতি শিকার ও পাচারে উদ্বেগ প্রকাশ করে আবদুল আইউয়াল মিন্টু বলেন, এসব এলাকায় কার্যকর নজরদারি জোরদার করতে বন অধিদপ্তর ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়াতে হবে।

আগারগাঁওয়ে পর্যটন ভবনের শৈলপ্রপাত মিলনায়তনে ‘হাতি সংরক্ষণ: বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক এ আলোচনা সভা হয়।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা), আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘ-আইইউসিএন বাংলাদেশ, ক্রিয়েটিভ কনজারভেশন অ্যালায়েন্স, আরণ্যক ফাউন্ডেশন এবং দীপ ইকোলজি অ্যান্ড স্নেক কনজারভেশন ফাউন্ডেশন যৌথভাবে এ আলোচনা সভা আয়োজন করে।

বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) এর প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরী, পক্ষীবিদ ও বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ মুহাম্মদ আলী রেজা খান এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) শামিমা বেগম।