Published : 18 Aug 2026, 12:29 AM
ভূমি দখল, বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও রাষ্ট্রীয় ‘উদাসীনতার’ কারণে আদিবাসী নারীরা প্রান্তিক অবস্থানে চলে যাচ্ছেন এবং নারী ও আদিবাসী—দুই পরিচয়েই বৈষম্য ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন বলে মনে করছেন মানবাধিকারকর্মী ও আদিবাসী অধিকার আন্দোলনের নেত্রীরা।
বিশ্ব আদিবাসী দিবস উদযাপন উপলক্ষে সোমবার বিকেলে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ঢাকা কার্যালয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তারা এ বিষয়ে কথা বলেন।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ও বাংলাদেশ আদিবাসী নারী নেটওয়ার্ক যৌথভাবে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।
সভায় লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করে বাংলাদেশ আদিবাসী নারী নেটওয়ার্কের সমন্বয়ক ফাল্গুনী ত্রিপুরা বলেন, “গণমাধ্যমে আদিবাসীদের বর্ণিল জীবন তুলে ধরা হলেও তার পেছনের নারীদের সংগ্রামী চিত্র অনুপস্থিত থাকে। ভূমি দখলকে কেন্দ্র করে অরাজকতার প্রধান শিকার হন আদিবাসী নারীরা।”
তিনি বৈষম্য দূরীকরণে নারী অধিকার, ভূমি অধিকার ও ন্যায়বিচার প্রাপ্তিকে সমন্বিতভাবে বিবেচনার আহ্বান জানান এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন ও মাতৃভাষায় শিক্ষাসহ ১১ দফা দাবি পেশ করেন।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ফওজিয়া মোসলেমের সভাপতিত্বে সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু।
তিনি বলেন, “দেশে ৫৪টিরও বেশি আদিবাসী জনগোষ্ঠী রয়েছে। আদিবাসী নারীরা ভূমি ও ঐতিহ্যের সাথে যুক্ত থাকলেও সভ্যতার নামে আজ তাদের ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।”
মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তারা বলেন, গণমাধ্যমে আদিবাসীদের প্রায়ই ‘নেতিবাচক বা বিচ্ছিন্নতাবাদী’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। আদিবাসী কোনো নারী ধর্ষণের শিকার হয়ে থানায় গেলে ‘বিচারহীনতার সংস্কৃতির’ কারণে হয়রানির মুখে পড়তে হয়।
সভায় দ্য হাঙ্গার প্রজেক্ট-বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর প্রশান্ত ত্রিপুরা বলেন, “আদিবাসী ইস্যুতে রাষ্ট্রের অনীহা প্রতিটি শাসনামলেই দেখা গেছে। ভোটের আগে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও পরে তা বাস্তবায়ন করা হয় না।”
অন্যদিকে মানবাধিকার কর্মী দীপায়ন খীসা বলেন, "সমাজ এখনো এক নারীবিরোধী সংস্কৃতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তাই কেবল উচ্চপদে নারীর সংখ্যা বাড়লেই ক্ষমতায়ন নিশ্চিত হয় না।"
এএলএআরডি’র উপনির্বাহী পরিচালক রওশন জাহান মনিসহ গারো ছাত্র ইউনিয়ন, হিল উইমেন্স ফেডারেশন ও বাংলাদেশ আদিবাসী যুব ফোরামের প্রতিনিধিসহ প্রায় ৮০ জন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে রেনি, প্রহেলিকা ও ধীরা ত্রিপুরার অংশগ্রহণে ত্রিপুরা আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী 'কাথারক' নৃত্য পরিবেশন করা হয়।