Published : 23 Jan 2026, 02:04 AM
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে প্রতীক পাওয়ার পরদিন ভোটযুদ্ধের শেষ পর্বে মাঠে নেমেছেন প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা, যেখানে মানুষের মনোযোগের কেন্দ্রে থাকল বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি।
বিএনপি যেমন অভিযোগের বিষে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে চেয়েছে, তেমনি পাল্টা তোপ দেগেছে জামায়াত ও এনসিপি।
বৃহস্পতিবার নানা প্রতিশ্রুতি নিয়ে ভোটারদের কাছে ধরণা দিয়েছেন প্রার্থী ও সমর্থকরা।
আর দুয়েকটি বিক্ষিপ্ত সংঘাতের ঘটনা নিয়ে শুরুর দিনের ভোটের প্রচারে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ‘ভালো মনোভাব’ দেখতে পাওয়ার কথা বলেছে নির্বাচন কমিশন।

ভোটে থাকা দলগুলোর আচরণবিধি প্রতিপালনে ইতিবাচক মনোভাব দেখার কথা বলছেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ।
প্রচার শুরুর আগের দিন মিরপুরের জামায়াত-বিএনপি সমর্থকদের ‘গোলযোগের’ ঘটনাটি ছাড়া এখনও কোনো ‘অসহনীয় মনোভাব’ না দেখার কথা বলেছেন তিনি।
সিলেট, ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় বৃহস্পতিবার দলীয় প্রধানদের প্রচারের প্রসঙ্গ টেনে এ নির্বাচন কমিশনার বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ; প্রচারে সব রাজনৈতিক দলে এক ধরনের ভালো সংস্কৃতি, ভালো মনোভাব দেখছি; কেউ কারো প্রতি আক্রমণাত্মক বক্তব্য করবেন না; ঝামেলা করবেন না-এটা দলগতভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে। তারপরও টুকটাক কিছু হবে, অধৈর্য্যশীল হবে, তা আশা করি না। আমরা সবাই মিলে সুন্দর নির্বাচন করতে পারবো।”
সব দল ও প্রার্থী আইন ও বিধি মোতাবেক কাজ করবেন, এমন প্রত্যাশা রাখার কথা বলেছেন এই নির্বাচন কমিশনার।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের দিনের পাশাপাশি তার আগের দিন ১১ ফেব্রুয়ারিও সাধারণ ছুটি ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে আইন-শৃঙ্খলা সমন্বয় সেল গঠন করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এদিন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, “এবারই প্রথমবারের মতো প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে কমপক্ষে পাঁচজন অস্ত্রধারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত থাকবেন।
“এর মধ্যে কমপক্ষে দুইজন অস্ত্রধারী পুলিশ ও তিনজন অস্ত্রধারী আনসার। তবে গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রসমূহে তিনজন অস্ত্রধারী পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ছয়জন অস্ত্রধারী সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। ফলে ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের সুযোগ নেই।”

যেমন গেল প্রথম দিনের প্রচার
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের প্রচার চলবে বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়ে চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল পর্যন্ত। ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোট হবে।
এবার সর্বোচ্চ প্রার্থী রয়েছে বিএনপির ২৮৮ জন; ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ২৫৩ জন; জামায়াতে ইসলামীর ২২৪ জন; জাতীয় পার্টির ১৯২ জন; গণঅধিকার পরিষদের ৯০ জন এবং এনসিপির ৩২ জন ভোটে রয়েছেন।
ভোটের প্রচার শুরু করতে গিয়ে আগের দিন বুধবার রাতেই সিলেটে শাহজালালের (র.) মাজার জিয়ারতের পর্ব সারেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সেখানকার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে সমাবেশের মধ্য দিয়ে নির্বাচনের প্রচারযাত্রা শুরু করেন তিনি। তার আগে সকালে তরুণদের নিয়ে ‘দ্য প্ল্যান: ইয়ুথ পলিসি টক উইথ তারেক রহমান’ শীর্ষক আলোচনাসভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এতে সিলেটের ১৯টি কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের অরাজনৈতিক শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।
সিলেটের ছয়টি আসনের পাঁচটিতে প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি। সিলেট-৫ আসনে বিএনপির সঙ্গে সমঝোতা করে প্রার্থী দিয়েছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম।
সিলেটে জনসভা সেরে বিএনপি চেয়ারম্যান মৌলভীবাজারের শেরপুর আইনপুর খেলার মাঠে সমাবেশের পর হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে নির্বাচনি সমাবেশে বক্তব্য দেন।
মৌলভীবাজারের চার আসনের সবকটিতেই প্রার্থী দিয়েছে দলটি। হবিগঞ্জের চার আসনেও বিএনপির প্রার্থী রয়েছেন।
বিকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ ও নরসিংদীতে সমাবেশের পর নারায়ণগঞ্জে ফেরেন বিএনপি চেয়ারম্যান। রাতে সেখানে সমাবেশের মধ্য দিয়ে তিনি প্রথম দিনের প্রচার কার্যক্রম শেষ করেন।
এসব সমাবেশে ‘জান্নাতে যাওয়ার’ কথা বলে জামায়াতের ভোট চাওয়া ও মুক্তিযুদ্ধে নৃশংসতায় দলটির ভূমিকার সমালোচনার পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে ‘ভোট চুরি ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগ করেন তারেক রহমান।

মৌলভীবাজারের সমাবেশে তিনি বলেছেন, “আমরা দেখেছি গত ১৫ বছর ১৬ বছর জনগণের ভোট ডাকাতি হয়েছে, এখন এই দেশে এখন বর্তমানে আরেকটি রাজনৈতিক দল তারা এই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।…
“কারণ এরা মানুষকে বিভ্রান্ত করছে এবং এরা ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। পত্রিকায় পড়েছি আমরা, সোশাল মিডিয়াতে দেখেছি যে ব্যালট পেপার তারা গায়েব করে দিচ্ছে; সব ব্যালট পেপার নিজেদের পক্ষ নিয়ে নিয়েছে অর্থাৎ আবার ভোট চুরির প্রক্রিয়া তারা শুরু করেছে।”
হবিগঞ্জের সমাবেশে তিনি বলেছেন, “আমরা অতীতে কি দেখেছি? কিছু হলেই পাশের এক দেশে চলে যায় কেউ কেউ, চলে যায় না? এখনও চলে গিয়েছেন। আবার গতকালকে আমরা দেখেছি যে, এক লোক পালিয়ে গিয়েছিল? কোথায় পালিয়ে গিয়েছিল জানেন? পিন্ডি পালিয়ে গিয়েছিল।
“এই যাদের কথা, ষড়যন্ত্র করছে বললাম; এই বিকাশ নম্বর নিচ্ছে, এনআইডি নম্বর নিচ্ছে, মা-বোনদের বিভ্রান্ত করছে বিভিন্ন কথা বলে- তাদের এক লোক পালিয়ে গিয়েছিল পিন্ডিতে। পিন্ডি পালিয়ে গিয়েছিল। কেউ যায় দিল্লি, কেউ যায় পিন্ডি। কিন্তু বিএনপি রয়ে গিয়েছে এই দেশে, এই দেশের মানুষের পাশে।”
প্রতীক বরাদ্দের দিন বুধবার ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াতের আমিরের আসনে দলটি নারী কর্মীরা বাসায় বাসায় গিয়ে ভোটারদের আইডি কার্ড ও ‘বিকাশ নম্বর’ সংগ্রহ করছেন বলে অভিযোগ করেন বিএনপির প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। যদিও জামায়াতের তরফে সে অভিযোগ নাকচ করা হয়েছে।
সে অভিযোগের মধ্যে বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন বিজ্ঞপ্তি দিয়ে নির্বাচনি প্রচারের আড়ালে এনআইডি ও ভোটারদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে সতর্ক করে দিয়েছে।
এদিন সকালে নিজের ঢাকা-১৫ আসনে গণসংযোগের মাধ্যমে প্রচার শুরু করেন জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান। এরপর দুপুরে একই এলাকায় জনসভার মধ্য দিয়ে দলের প্রচার কার্যক্রম উদ্বোধন করেছেন তিনি।

জামায়াতের ওই জনসভায় জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ নির্বাচনি জোটসঙ্গীদের কয়েকজন বক্তব্য দিয়েছেন।
বিএনপির দিকে ইঙ্গিত করে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দেওয়ার পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ডের নামে ‘খাজনা’ তোলার অভিযোগ করেন জামায়াতের আমির।
বিএনপি সরকার গঠন করলে যে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে, সেই প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেছেন, “আমরা ওই ধরনের কোনো কার্ডের ওয়াদা দিচ্ছি না। ২০০০ টাকা দিয়ে একটা পরিবারের কোনো কিছু সমাধান হবে?
“আর আমার ভাই নাহিদ ইসলাম বলেছেন, তাতে আবার ভাগ বসিয়ে দেওয়া হবে; ‘খাজনা আগে, তারপর অন্যটা’, ‘২০০০ এর ১০০০ আমার খাজনা-আমাকে আগে দাও, তারপরে তোমারটা তুমি বুঝে নাও’। তাও না কাল্পনিক কিছু মানুষের চরিত্র এঁকে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। সরকারের হাতে তুলে দেওয়া হবে, বেকারের হাতে নয়।”
দেশে কাউকে চাঁদাবাজি করতে দেওয়া হবে না বলেও মন্তব্য করেছেন জামায়াত আমির।

তার আগে দেওয়া বক্তব্যে ঢাকা-১১ আসনের প্রার্থী নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা শুনছি বিভিন্ন কার্ড দেওয়া হবে। ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে, কৃষক কার্ড দেওয়া হবে। আমরা চাই কার্ড দেওয়া হোক, জনগণ সুবিধা পাক। কিন্তু এই কার্ড জনগণ পর্যন্ত পৌঁছাবে তো?
“২০০০ টাকার কার্ড নিতে ১০০০ টাকা ঘুষ দেওয়া লাগবে না তো? তাহলে ঘুষ-চাঁদাবাজি, সেটা যদি আমরা নির্মূল না করতে পারি—এই সকল সুযোগ সুবিধা কি জনগণের কাছে পর্যন্ত পৌঁছাবে?”
এর আগে সকালে ঢাকায় তিন নেতার মাজার ও শরীফ ওসমান হাদির কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে নির্বাচনি প্রচার কার্যক্রম শুরু করে এনসিপি।
ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমির সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম বরিশাল প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু করেছেন।
তিনি বলেছেন, “মানুষ ইসলামি আইন চায়। শরীয়াহভিত্তিক দেশ গড়তে চায়। কোরআন-সুন্নাহর ভিত্তিতে যদি দেশ গড়তে পারি; তাহলে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।”

ইসলামী আন্দোলনের আমির সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম সারাদেশে সফর করতে পারেন। নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হননি।
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) কাদের কেরামতিয়া মসজিদে কেরামত আলী (র.) কবর জিয়ারতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনি প্রচার শুরু করেছেন। পরে তিনি জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের কবর জিয়ারত করেন। এরপর তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মসূচিতে অংশ নেন। ‘না’তে ভোট দিয়ে গণভোটের বিপক্ষে অবস্থান নিতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জিএম কাদের।
জিএম কাদের রংপুর-৩ আসনে লাঙ্গল প্রতীকে ভোট করছেন।

ঢাকা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে নির্বাচনি প্রচার শুরু করেছে বামপন্থি কয়েকটি দলের নির্বাচনি জোট গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট। প্রচার কার্যক্রম উদ্বোধন করে জোটের শরিক বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবির সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম সাংবাদিকদের সামনে বলেন, “দুইটা ভোট হবে, একটা হলো এমপি ভোট, আরেকটা গণভোট। হওয়ার কথা নিরপেক্ষ ভোট। সেখানে তিনটা পক্ষ হতে পারে। একটা পক্ষ ‘হ্যাঁ’ বলবে, একটা পক্ষ ‘না’ বলবে একটা পক্ষ বিরত থাকবে।
“সরকার যদি বলে ধানের শীষে ভোট দাও বা এই মার্কায় ভোট দাও, কিংবা দাঁড়িপাল্লায় ভোট দাও, সরকার কি দাবি করতে পারে যে ‘আমরা নিরপেক্ষ’? তাহলে মানুষ এত রক্ত দিল কেন?”
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় জুলাই শহীদদের জন্য দোয়া আয়োজন ও বাবার কবর জিয়ারত করে মাথাল মার্কার নির্বাচনি প্রচার শুরু করেছেন।
যুগপৎ আন্দোলনের শরিক হিসেবে গণসংহতি আন্দোলনকে সাকির আসনটি ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি।

বিক্ষিপ্ত গোলযোগ, ভিন্ন রকম প্রচার
প্রচারের প্রথম দিনই কুমিল্লার হোমনা উপজেলায় বিএনপি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে; এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগও পাওয়া গেছে।
সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া) আসনে একই মঞ্চে সব প্রার্থীর উপস্থিতিতে জাতীয় পার্টির প্রার্থীর গণভোটে ‘না’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানানোকে কেন্দ্র করে হট্টগোল-উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। এ সময় সাময়িক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলেও বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
সিরাজগঞ্জের ওই আসনে জামায়াতে ইসলামীর কর্মীদের প্রাইভেট কার ও মোটরসাইকেল ভাঙচুরের অভিযোগ পেয়েছে পুলিশ।
সেখানে জামায়াতের রফিকুল ইসলাম খান ও জাতীয় পার্টির হিলটন প্রামাণিক ভোট করছেন।

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কবর জিয়ারত করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটের প্রচার শুরু করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব; যিনি দলীয় নির্দেশ অমান্য করায় এরই মধ্যে বিএনপি থেকে বহিষ্কার হয়েছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা নির্বাচন কমিশনে এসে প্রশাসন ও পুলিশের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেন; ইসির কাছে নালিশ দিয়েছেন।
বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত এই স্বতন্ত্র প্রার্থীর অভিযোগ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মাছউদ বলেন, “আমরা আশ্বস্ত করেছি। সবার প্রতি সমান আচরণ আমাদের। নিরপেক্ষভাবে কাজ করবো।”
বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহসম্পাদক রুমিন ফারহানার আসনে প্রার্থী হয়েছে দলটির জেলা কমিটির সদস্য এস এন তরুণ দে। এখানে আসন বিএনপি শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব জুনায়েদ আল হাবীবকে ছেড়ে দিয়েছে।
এদিকে নির্বাচন কমিশন এসে যারা অভিযোগ জানাচ্ছেন তা খতিয়ে দেখে আমলে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে; তবে ৩০০ আসনে নির্বাচনী তদন্ত কমিটির কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে প্রতিকার না পেলে কমিশনও ব্যবস্থা নেবে।

জেল-জরিমানা
নির্বাচন কমিশনে আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেল রয়েছে। তফসিল ঘোষণার পর থেকে ৩০০ আসনের পরিস্থিতি প্রতিবেদন আসে স্থানীয় পযায় থেকে। প্রচারের প্রথম দিনে সিইসি ও নির্বাচন কমিশন সার্বিক খোঁজ খবর রাখছেন।
ইসি কর্মকর্তারা জানান, নির্বাহী হাকিম ৮ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত আচরণবিধি প্রতিপালন/অভিযোগ নিয়ে ৬৭ নির্বাচনি এলাকায় ৪ লাখ ৫৪ হাজার ৯০০ টাকা জরিমানা করেছে। ৭৭টি আচরণবিধি ভঙ্গের কারণে ৫৯টি মামলা হয়েছে।
নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির ৪ জানুয়ারি থেকে ৮৭৩টি প্রতিবেদন পাঠিয়েছে ইসি সচিবালয়ে।
এরমধ্যে পোস্টার অপসারণে ১২৫টি ব্যবস্থা এবং ১৯০টি বিষয়ে কারণ দর্শানো নোটিস দেওয়া হয়েছে। নোটে উপস্থাপনের জন্য ৭৫টি, ‘সামারি ট্রায়ালে’ জরিমানা ৪টিতে এবং বিবিধি ৪৭৯টি বিষয় রয়েছে।
এছাড়া ইসি ২৬টি বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছে।
ইসিতে নয়, নির্বাচনি অনুসন্ধানে কমিটি যাওয়ার পরামর্শ
তফসিল ঘোষণার পর থেকে ভোটের মাঠে আচরণবিধি লঙ্ঘন ও অভিযোগের বিষয়ে নির্বাহী হাকিম, বিচারিক হাকিমদের কমিটি কাজ করছে এবং ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে জানান নির্বাচন কমিশন সচিব।
ইতোমধ্যে মাঠ পযায়ে অনেক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তুলে ধরে বৃহস্পতিবার ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, “নির্বাচন কমিশন থেকে ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যাপার না। ব্যবস্থাটা নেওয়ার কথা হচ্ছে ‘অ্যাডজুডিকেশন কমিটি’ এবং প্রাথমিকভাবে তাদের কাছে নেওয়া হবে।”
প্রথম দিনের ভোটের প্রচারে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেছেন পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পরে জানানো হবে।
যেসব বিষয়ে অভিযোগ আসছে তা খতিয়ে দেখছে ইসি সচিবালয়।
সচিব বলেন, কোনো কোনো জায়গায় সতর্ক করা হয়েছে, কোনো কোনো জায়াগায় জরিমানা করা হয়েছে। কোনো কোনো জায়গায় মূলত এই দুটোর ভিতরে সীমিত।”
তিনি বলেন, ঢাকা-১২ আসনে সবচেয়ে বেশি ১৫ জন আর সবচেয়ে কম প্রতিদ্বন্দ্বি ২ জন। এখন ভোটে রয়েছে ১৯৮১ জন। ৫১ দলের প্রার্থী রয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছে ২৪৯ জন।

এবার নির্বাচনে সব দল ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে ৭৬ জন নারী প্রার্থী থাকার তথ্য দেন তিনি। দল ও প্রার্থীকে আচরণবিধি অনুসরণের অনুরোধ জানানোর পাশাপাশি অভিযোগ থাকলে নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটিকে যাওয়ার পরামর্শ তিনি দিয়েছেন।
“আমি সবিনয় সবাইকে অনুরোধ করব যে আপনারা ইলেক্টোরাল ইনকয়ারি ইলেক্টোরাল ইনকয়ারি অ্যান্ড অ্যাডজুডিকেশন কমিটির কাছে বলেন। ওখানে আপনারা লিখিতভাবে আপনারা জানান যে এত তারিখে এই সময় এই ঘটনাটা ঘটেছে। ‘সো ক্যান টেক অ্যাপ্রোপ্রিয়েট’।”
ঢাকায় ভোটের প্রচারে নেমে ভোটারদের এনআইডি সংগ্রহের তথ্য গণমাধ্যমে জেনে নাগরিকদের সচেতন করতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
মিরপুরের ঘটনা তুলে ধরে তিনি জানান, এনআইডি কার্ড সংগ্রহ করলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ; এনআইডি কার্ড কাউকে হস্তান্তর করা যাবে না। এই অভিযোগটা করার কথা ইলেক্টরাল ইনকয়ারি কমিটির কাছে।
“যেহেতু আমাদের নজরে এসছে এবং এটা আচরণবিধি ভঙ্গ সেজন্য আমরা সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য করছি।”
আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে প্রয়োজনে প্রার্থিতা বাতিলের মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছে ইসি।
নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেছেন, আচরণবিধিতে প্রার্থিতা বাতিলের মতো কঠোর ব্যবস্থা আমরা রেখেছি। তৃণমূল পযায় থেকে শুরু করে সর্বত্র আইন শৃঙ্খলাবাহিনী, ভ্রাম্যমাণ আদালত, ইলকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটি-আচরণবিধি পরিপন্থি কোনো কার্যক্রম চোখে পড়লে আইনগগত ব্যবস্থা নেবে।”
“আমরা কঠোরভাবে নির্দেশ দিয়েছি যদি ব্যত্যয় ঘটে বা দায়িত্ব পালনে অবহেলা করে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেব।”