Published : 05 Feb 2026, 10:50 AM
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সাভারের আশুলিয়ায় ছয়জনকে গুলি এবং তাদের লাশ পোড়ানোর ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় জানা যাবে বৃহস্পতিবার।
বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ মামলার রায় ঘোষণা করবে।
এ ট্রাইব্যুনালের বাকি দুই বিচারক হলেন- মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামসহ এ মামলার ১৬ আসামির ভাগ্য নির্ধারণ করবেন তারা।
আসামিদের মধ্যে গ্রেপ্তার রয়েছেন আটজন। তারা হলেন—ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, ডিবির তৎকালীন পরিদর্শক আরাফাত হোসেন, এসআই মালেক, এসআই আরাফাত উদ্দিন, এএসআই কামরুল হাসান, এসআই শেখ আবজালুল হক ও কনস্টেবল মুকুল চোকদার।
পলাতক আসামিরা হলেন– সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, ঢাকা রেঞ্জের সাবেক উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) সৈয়দ নুরুল ইসলাম, ঢাকা জেলার সাবেক পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান রিপন, আশুলিয়া থানার সাবেক ওসি এ এফ এম সায়েদ, সাবেক পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান, সাবেক পুলিশ পরিদর্শক নির্মল কুমার দাস, সাবেক এএসআই বিশ্বজিৎ সাহা ও যুবলীগ কর্মী রনি ভূইয়া।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনে দিনে সাভারের আশুলিয়ায় পুলিশের গুলিতে পাঁচজন নিহত হন এবং একজন গুরুতর আহত হন। পরে নিহত পাঁচজনের লাশ এবং আহত ব্যক্তিকে পুলিশ ভ্যানে তুলে পেট্রোল ছড়িয়ে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলা হয়।
নিহতদের মধ্যে পাঁচজনের পরিচয় মিলেছে। তারা হলেন সাজ্জাদ হোসেন (সজল), আস সাবুর, তানজীল মাহমুদ সুজয়, বায়েজিদ বুসতামি ও আবুল হোসেন।


এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ দায়ের করা হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে।
গত বছরের ২ জুলাই এ মামলায় ১৬ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেয় প্রসিকিউশন। অভিযোগটি আমলে নিয়ে পলাতক আট আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
এরপর ২১ অগাস্ট এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। ওই সময় উপস্থিত আট আসামির সাতজনই নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। তবে দোষ স্বীকার করেন এসআই শেখ আবজালুল হক। রাজসাক্ষী হয়ে জবানবন্দিও দিয়েছেন তিনি।
গত ২০ জানুয়ারি এ মামলার যুক্তিতর্ক সম্পন্ন হয়। রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে রায়ের জন্য অপেক্ষমান (সিএভি) রাখা হয় মামলাটি।
ওইদিন আসামিপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন, মিরাজুল আলম ও আবুল হাসান। প্রসিকিউশনের পক্ষে যুক্তি খণ্ডন করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম।
সবশেষ গত ১ ফেব্রুয়ারি ট্রাইব্যুনাল এ মামলার রায়ের জন্য ৫ ফেব্রুয়ারি দিন রাখে। এটি হবে ট্রাইব্যুনাল-২ থেকে ঘোষিত প্রথম রায়।
এর আগে ট্রাইব্যুনাল-১ জুলাই অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় দুটি মামলার রায় দিয়েছে।
এর মধ্যে গতবছরের ১৭ নভেম্বর প্রথম মামলার রায়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
একই মামলার অপর আসামি সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেওয়ায় তাকে লঘুদণ্ড হিসেবে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় মানবতাবিরোধী অপরাধের দ্বিতীয় মামলার রায় আসে গত ২৬ জানুয়ারি। ঢাকা মহানগর পুলিশের সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয় ট্রাইব্যুনাল।