Published : 02 May 2026, 08:20 PM
সাপ্তাহিক ছুটির দিন শনিবার কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে রাজধানীর অনেক এলাকায় তৈরি হয়েছে জলাবদ্ধতা; এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী।
সড়কে পানি জমে থাকার কারণে চলাচলে দুর্ভোগে পড়ছেন পথচারীরা, দোকানপাটে পানি ঢুকে পড়ায় বিপাকে পড়েন ক্ষুদ্র ও ভাসমান ব্যবসায়ীরাও।
শনিবার দুপুর দেড়টা থেকে ঘণ্টা দুয়েকের বৃষ্টিতে তলিয়ে যায় রাজধানীর মালিবাগ ও মৌচাকের সড়ক। মৌচাক মার্কেটের নিচতলার দোকানপাটেও পানি ঢুকে পড়ে। সেখানে কেনাকাটা করতে আসা লোকজনকে পানি মাড়িয়েই চলতে দেখা যায়।

বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে মৌচাক মার্কেটের সামনে বাস দাঁড়ালেও পানির কারণে সেখানে নামতে পারেননি বেসরকারি চাকরিজীবী শোভন আরাফাত। স্ত্রীকে নিয়ে কেনাকাটা করতে বেরিয়েছিলেন তিনি।
ক্ষোভ প্রকাশ করে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে আরাফাত বলেন, “এই দেশের অবস্থা কোনোদিনও বদলাবে না। স্ত্রীকে নিয়ে বের হয়েছিলাম ফরচুন শপিং মল থেকে কিছু কেনাকাটা করব বলে। কিন্তু বাস থেকেই নামতে পারলাম না। এখন সামনে গিয়ে নেমে উল্টো দিকে হেঁটে ফিরতে হবে।”
জলাবদ্ধতার কারণে মগবাজার এলাকায় দুর্ভোগে পড়েন বয়স্ক খাদিজা বেগমও।
তার কথায়, “জোয়ান পোলাপান তো কষ্ট হইলেও লাফঝাপ মাইরা পার হইতে পারে। আমি বুড়া মানুষ। এমন বৃষ্টির দিনে বাইর হইলে নিজে চলবার আর উপায় পাই না।”
মৌচাক এলাকার পানির মধ্যে প্যান্ট গুটিয়ে হাঁটছিলেন আইইএলটিএস পরীক্ষার্থী খাইরুল আকন্দ। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “আমার আইইএলটিএস পরীক্ষার ডেট ছিল। বৃষ্টির কারণে যাওয়ার সময়ও ভুগতে হয়েছে। এখন ফেরার পথে চরম জলাবদ্ধতার কারণে এভাবে হাঁটছি।”
রাস্তাঘাটে আবর্জনা ঠিকমতো পরিষ্কার না করায় পানি জমে এই দুরাবস্থা তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বৃষ্টি আর জলাবদ্ধতার কারণে রিকশায় ভাড়া বেশি নেওয়ার অভিযোগ করেন মাহমুদ আলী নামে এক ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, “যেটুকু রাস্তা হেঁটে পার হওয়া যায়, সেটুকুও এখন রিকশায় পার হতে হচ্ছে। রিকশাচালকরাও যেন পেয়ে বসেছে।
“সাধারণ যে দূরত্বে তারা ২০ টাকায় যায়, এখন সেই একই দূরত্বের জন্য ৪০-৫০ টাকা করে চাচ্ছে।”
শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় ২৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
বৃষ্টির কারণে ফুটপাতের দোকানি ও ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতারাও পড়েছেন বিপাকে। বেচাকেনায় ভাটা পড়ার কথা বলছেন তারা।
মালিবাগ মোড়ের ফল বিক্রেতা লাবুর ভাষ্য, “বৃষ্টির কারণে রাস্তায় মানুষ নেই, তাই বিক্রিও কম।”
একই কথা বলেন বাসে বাসে ঘুরে ইলেকট্রনিকস পণ্য বিক্রি করা সজীব। তার কথায়, “সরকারি ছুটির দিনে অনেক বিক্রি হলেও, আজ (শনিবার) মানুষ বের হয়েছে কম। আর বৃষ্টির পানিতে ইলেকট্রনিক জিনিসপত্র নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা তো আছেই। সেরকম হলে পুঁজিই বরবাদ।”

বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতায় ভোগান্তির বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদার বলেন, সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতা হলেও তা ধীরে ধীরে কমছে। জলাবদ্ধতার মূল কারণ পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা।
তিনি বলেন, “ডিএসসিসি এলাকায় বর্তমানে মাত্র তিনটি ‘আউটলেট’ দিয়ে পানি বুড়িগঙ্গায় নামানো হচ্ছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অপর্যাপ্ত। পানি নামতে সময় লাগায় সাময়িক জলাবদ্ধতা তৈরি হয়।
“এ সংকট কাটাতে আরও দুটি ‘আউটলেট’ নির্মাণের অনুমোদন পাওয়া গেছে। দুই থেকে আড়াই মাসের মধ্যে কাজ শুরু হতে পারে।”
মাহাবুবুর রহমান বলেন, কার্যকর ব্যবস্থার জন্য অন্তত আট থেকে নয়টি ‘আউটলেট’ দরকার। পাশাপাশি এক্সপ্রেসওয়েসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণে ড্রেনেজ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মগবাজার-মালিবাগ এলাকায় সমস্যাটি বেশি জটিল হয়ে উঠেছে।
বৃষ্টিপাত আরও কয়েকদিন
আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক শনিবার বিকালে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “৬ মে পর্যন্ত ঢাকায় বৃষ্টিপাতের প্রবণতা থাকবে, ৭ তারিখ থেকে তা কমে আসতে পারে।”
আবহাওয়া অধিদপ্তরের শনিবার সকাল ৯টার নিয়মিত পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ, ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
সেইসঙ্গে ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে অতিভারি বর্ষণ হতে পারে।