১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ত্বকী হত্যা মামলার তদন্ত ‘শিগগির’ শেষের আশা র‌্যাবের

দীর্ঘ ১২ বছরেও এই হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়নি।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 01 Nov 2025, 03:23 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:35 PM

নারায়ণগঞ্জের তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যা মামলার তদন্ত কার্যক্রম দ্রুতই শেষ হবে বলে জানিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা র‌্যাব।

তদন্তে ‘অনেক অগ্রগতি’ হয়েছে জানিয়ে র‌্যাব-১১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন, “এখনও তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং আমাদের অনেক ডেভলপমেন্টও আছে। আমরা অতি শীঘ্রই এটা দিয়ে দিব আশা করছি।”

শনিবার ঢাকার কারওয়ান বাজারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। নরসিংদীর চরাঞ্চল থেকে ১১টি আগ্নেয়াস্ত্রসহ ৮ জনকে গ্রেপ্তারের তথ্য দিতে এ সংবাদ সম্মেলনে আসেন র‌্যাব কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন।

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের এক মাসের মধ্যে নারায়ণগঞ্জের তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যা মামলায় ছয়জনের গ্রেপ্তার ন্যায়বিচারের জন্য ‘আশা’ জাগিয়েছিল নিহতের পরিবারে।

তবে অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছর পেরিয়ে গেলেও আলোচিত এই হত্যা মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করতে পারেনি তদন্তকারী সংস্থা র‌্যাব।

গেল ১৮ সেপ্টেম্বর ত্বকী হত্যা মামলার অভিযোগপত্র দাখিলে আরও সময় চেয়ে নারায়ণগঞ্জের আদালতে আবেদন করে র‌্যাব। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তদন্ত কর্মকর্তা র‌্যাবের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দীপক রঞ্জন মজুমদারকে দ্রুত অভিযোগপত্র দাখিলের নির্দেশ দেয়।

মামলাটির অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে র‌্যাব-১১ অধিনায়ক সাজ্জাদ হোসেন বলেন, “অবশ্যই তদন্ত শেষে বিস্তারিতভাবে জানানো হবে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।”

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “পরিবারের সাথে আমাদেরও যোগাযোগ হচ্ছে। তদন্ত দীর্ঘদিনের একটা... এখন হুট করে চাইলেই...তদন্তটাকে তদন্তের মতো যেন সুন্দরভাবে শেষ হয় এবং এটার যেন একটা ভালো রেজাল্ট আসে আমরা সেটাই সবাই কামণা করি। অতি শীঘ্রই ইনশাল্লাহ...

“তদন্ত রিপোর্ট যখন দেওয়া হবে, তখন বিস্তারিত জানানো হবে। তদন্ত শেষ করার আগে আমি কীভাবে বলি?”

নারায়ণঞ্জের সাংস্কৃতিক ও নাগরিক আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক শিল্পী রফিউর রাব্বির বড় ছেলে তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী।

২০১৩ সালের ৬ মার্চ এই কিশোর শহরের শায়েস্তা খাঁ সড়কের বাসা থেকে বেরিয়ে স্থানীয় একটি পাঠাগারে যাওয়ার পথে অপহরণের শিকার হয়।

পরদিন তার ‘এ’ লেভেল পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়, যেখানে দেখা যায় ত্বকী সারা বিশ্বে পদার্থবিজ্ঞানে ৩০০ নম্বরের মধ্যে সর্বোচ্চ ২৯৭ পেয়েছিলেন।

৮ মার্চ শীতলক্ষ্যা নদীর কুমুদিনী খাল থেকে ত্বকীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করা হয়।

তবে দীর্ঘ ১২ বছরেও এই হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়নি। ত্বকীর পরিবার বরাবরই অভিযোগ করে আসছিলেন, প্রভাবশালী ওসমান পরিবারের সদস্যরা জড়িত থাকায় আওয়ামী লীগের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে এই হত্যাকাণ্ডের বিচারকাজ বন্ধ রয়েছে।

তবে ৫ অগাস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আলোচিত এই হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে ছয় জনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।