১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩

আশিতম জন্মদিনে লতা মঙ্গেশকরকে শুভেচ্ছা“এক চাঁদ, এক সূর্য আর একটাই লতা”

আশীষ চক্রবর্ত্তী আশীষ চক্রবর্ত্তী

Published : 28 Sep 2009, 09:16 PM

Updated : 03 Oct 2022, 04:54 PM

Image
lata10.jpg


লতা দীনানাথ মঙ্গেশকর (জন্ম. ইন্দোর, মহারাষ্ট্র, ভারত ২৮/৯/১৯২৯)

জীবনযুদ্ধে জয়ী মানুষ হিসেবে শুধু তাঁর নাম বলে থেমে গেলেও ভুল হবে না। এর চেয়ে বড় প্রতিকূলতাকে জয় করে, এর চেয়ে বেশি সফল হওয়া তো আর কারো পক্ষে সম্ভব নয়! আজকের এই অবস্থানে আসতে কী অসম্ভবকেই না সম্ভব করেছেন লতা মঙ্গেশকর।

বাবা দীনানাথ মঙ্গেশকর ছিলেন শাস্ত্রীয় সঙ্গীত শিল্পী এবং মঞ্চ অভিনেতা। নাটকের গ্রুপ ছিল তাঁর। স্ত্রী সুধামতি, চার মেয়ে লতা, মীনা, আশা, উষা আর
—————————————————————–
লতা নিজেও রেডিয়োতে খুব মন দিয়ে শুনতেন সায়গলের গান। বড় সাধ ছিল, একদিন বড় শিল্পী হবেন, সায়গলের পাশে দাঁড়িয়ে ডুয়েট গাইবেন। তো নিজের আয়ে প্রথম রেডিয়োটা কিনলেন লতা। চালিয়ে দিয়ে ভাবছেন বহুদিন পর একটু শান্তিতে বসে সায়গলজীর গান শুনবেন। একটু পরেই শুরু হলো খবর। প্রথম খবর—কুন্দন লাল সায়গল আর বেঁচে নেই! সেই কষ্ট সইতে পারেননি লতা। কাঁদতে কাঁদতে 'অপয়া' রেডিয়োটাকে ফিরিয়ে দিয়ে এসেছিলেন দোকানে।
—————————————————————-
একমাত্র ছেলে হৃদয়নাথকে নিয়ে তাঁর সুখের সংসার। কিন্তু ১৯৩৪ সালে ভারতের প্রথম টকি আলম আরা মুক্তি পাওয়ার পর তার প্রতিক্রিয়া এত ভয়াবহ হলো যে 'বলওয়ানত মানডাল' বন্ধ করতে বাধ্য হলেন দীনানাথ। হঠাৎ এক রকম বেকার হয়ে পড়ায় মানসিকভাবেও ভেঙে পড়লেন। হতাশা ভুলতে ডুবলেন মদ্যপানে। তাতে কি আর সুদিন ফেরে! সন্তানদের বড় বেশি ভালবাসতেন। নাটকের দল নিয়ে আজ এখানে, কাল ওখানে ঘুরে বেড়াতে হতো বলে তাদের লেখাপড়া খুব ভালো করে শেখাতে পারছিলেন না। তবে গান শিখিয়েছিলেন সমস্ত আন্তরিকতা ঢেলে। বিশেষ করে বড় মেয়ে লতাকে তো তালিম দিয়েছিলেন খুব যত্ন করে। মেয়েটাকে ভালোও বাসতেন খুব। ওর নাম রাখার সময় যে কত কাণ্ড হলো! দীনানাথ নিজে ছিলেন শৌখিন জ্যোতিষী। তাই জন্মের মুহূর্তের কত কী হিসেব কষে টষে প্রথমে নাম রাখা হলো হেমা। কিন্তু নিয়ম মেনে রাখলেও ওই নাম তাঁর নিজেরই বোধহয় খুব একটা পছন্দ হতো না। তাই আদর করে সবসময় ডাকতেন, 'হৃদিয়া'। পরে অবশ্য হেমা বা হৃদিয়া—কোনো নামই টেকেনি। পরিবারের অন্যদের মুখে মুখে কেন যেন ফিরতে লাগলো লতা নামটা, এক সময় পরিবারের বড় মেয়ের নামই হয়ে গেল লতা মঙ্গেশকার।

Image
lata_mangeshkar_asha_bhonsl.jpg

…….
আশা ভোসলের সঙ্গে
…….
তো ১৯৩৪ থেকে হতাশা সইতে সইতে, শরীরের ওপর অত্যাচার করতে করতে দীনানাথ অবশেষে ১৯৪২ সালে সব হতাশা থেকে চিরমুক্তি পেলেন—মারা গেলেন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে। বাবার মৃত্যুতে সমস্ত পরিবারের দায়িত্ব এসে পড়লো লতার কাঁধে।

বয়স তখন মাত্র ১২। এ বয়সে কী করা যায়! গান ছাড়া তেমন কিছু জানাও নেই। আর শুধু গান দিয়ে খুব ভালো কিছু করারও জো নেই, কণ্ঠ তো তখন একেবারেই কচি, ফিল্ম বা অন্য কোথাও তা খুব বেশি কাজে আসবে না। বাধ্য হয়েই লতা নামলো অভিনয়ে। শুরুটা মারাঠি ছবি দিয়ে। বাবার মৃত্যুর অষ্টম দিনেই মেকআপ নিয়ে কিশোরীটিকে যেতে হলো 'প্যাহলি মঙ্গলাগাওর' ছবির শুটিংয়ে। মুম্বাই চলচ্চিত্রের এক সময়ের নামকরা অভিনেত্রী নন্দার বাবা ভিনায়েক রাও-এর এ ছবিতে অবশ্য গানও গাইতে হয়েছে তাকে।

Image
pt-dinanath-mangeshkar.jpg

…….
পণ্ডিত দীনানাথ মঙ্গেশকর (২৯/১২/১৯০০ – ২৪/৪/১৯৪২)
…….
সেই শুরু। জীবদ্দশায় বাবা নাকি প্রায়ই একে-ওকে বলতেন,'দেখো, আমার বড় মেয়ে একদিন অনেক বড় শিল্পী হবে।' সেই মেয়ের প্রথম প্লেব্যাক কিত্তি হাসাল নামের এক মারাঠি ছবিতে। একে একে আটটি ছবিতে অভিনয় করা হলো। ১৯৪৩ সালে প্রথম হিন্দি গানও গাওয়া হয়ে গেল মারাঠি ছবি গজবহু-তে। তার গাওয়া 'মাতা এক সপুত কি দুনিয়া বদল দে তু' গানটা ভিনায়েক রাওয়ের এত ভালো লাগলো যে স্টাফ আর্টিস্ট হিসেবে সাইন করিয়ে নিলেন লতাকে। বেতন ধরা হলো ৬০ রুপি। দু বছর পর ভিনায়েক তার ইউনিট নিয়ে চলে যান মুম্বাই। নতুন উদ্যমে শুরু হয় কাজ। ১৯৪৭ সালে প্রথম হিন্দি ছবিতে গান গাওয়া হলো লতার (ছবি আপ কি সেবা মে, গান: পা লাগু কার জোরি)। সে বছর বেতন ৬০ থেকে বেড়ে হলো ৩৫০ রুপি। যেন সুসময়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে হলো উল্টোটা। হঠাৎ মারা গেলেন ভিনায়েক রাও (১৯৪৭)। লতার মাথার ওপর যেন আবার ছাদ ধসে পড়লো!

তারপরও মুষড়ে পড়েননি। মুম্বাই আসার পর বেশ কিছুদিন শাস্ত্রীয় সঙ্গীত শিখেছেন উস্তাদ আমানত আলী ভিণ্ডিবাজারওয়ালার কাছে। ভিনায়েক মারা যাওয়ার পর আমানত আলীর বন্ধু, সঙ্গীত পরিচালক গুলাম হায়দারের শরণাপন্ন হলেন। কিন্তু উপকার করতে গিয়ে গুলাম হায়দার পড়লেন অস্বস্তিতে। বড় আশা করে শশধর মুখার্জির কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু লতার কণ্ঠ শুনে শশধর মুখার্জি বললেন, 'একে এনেছেন কেন? এর কণ্ঠ কোনো নায়িকার সঙ্গেই মিলবে না। আর যা-ই বলুন, এই মেয়ের যা কণ্ঠ তা দিয়ে প্লেব্যাক হবে না।'

Image
lata32.gif

…….
যৌবনে লতা মুঙ্গেশকর
…….
আর কেউ হলে হয়তো হতাশায় ভেঙে পড়তো। রাজকুমারী দুবে, আমীরবাঈ কর্ণাটকি, শামসাদ বেগম, নূরজাহান, জোহরাবাঈ আম্বালেওয়ালি, গীতা দত্ত বা সুরাইয়ার মতো ভারি কণ্ঠ তো তার নয়! অথচ তখন সেরকম কণ্ঠেরই জমজমাট বাজার। সে হিসেবে ১৭/১৮ বছর বয়সী একটা মেয়ের যুদ্ধে জয়ী হওয়ার আর কী আশা থাকে! আশার কথাটা গুলাম হায়দারের মুখেই শুনেছিলেন লতা। ভদ্রলোক সেদিন জোর গলায় সবাইকে বলেছিলেন, 'আমি বলছি, এই মেয়ে কিছুদিনের মধ্যে নূরজাহানকেও ম্লান করে দেবে, প্রযোজক-পরিচালকরা তখন তার পেছনেই ছুটবে।'

সেখানেই গল্পের শেষ নয়। সেদিন গুলাম হায়দারের সঙ্গে বেরিয়েছেন লতা। গোরেগাঁও স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে গুলাম হায়দার শশধর মুখার্জিকে শোনানো সেই গান আবার শুনতে চাইলেন লতার কাছে। মাত্র ৯ বছর বয়সে যে মেয়ে রাগ খাম্বাবতি আর দুটো মারাঠি গান গেয়ে শোলাপুরের হাজার খানেক শ্রোতাকে মুগ্ধ করেছিল তার আর যা-ই থাক-না-থাক, গানে কোনো ভয় নেই। তখন বৃষ্টি নেমেছে। ট্রেনও এসে গেছে। ট্রেনে উঠেই গান ধরলেন লতা। ট্রেনের হুইসেল, ঝিকঝিক শব্দ, যাত্রী-ফেরিওয়ালাদের চেঁচামেচি—এসবের মাঝেই।

সিগারেটের টিনে তাল ঠুকতে ঠুকতে গান শুনলেন গুলাম হায়দার। মুখে কিছু বললেন না। ট্রেন থেকে নামিয়ে লতাকে সোজা নিয়ে গেলেন মালাদ-এর বোম্বে টকিজ স্টুডিয়োতে। কী আশ্চর্য, সেখানে লতা প্রশংসিত এবং মজবুর ছবিতে গাওয়ার জন্য চুক্তিবদ্ধ!

হুসেইন লাল ভগতরাম, অনিল বিশ্বাস, নওশাদ এবং খেমচান্দ প্রকাশ—ভারতীয় সঙ্গীতের এমন চার দিকপালের সামনে গুণে গুণে ৩২ বার একটা গান গাইলেন, রেকর্ডিং হলো তারপর। সেই যে পায়ের নিচে শক্ত একটুখানি মাটি পেলেন আর ফিরে তাকাতে হয়নি লতা মঙ্গেশকরকে। বাবার মৃতদেহের পাশেই যে ভাইটি দুরারোগ্য ব্যাধিতে ভুগছিল তার চিকিৎসাসহ সংসারের যাবতীয় খরচ কোত্থেকে আসবে তা নিয়ে আর তেমন করে ভাবতে হয়নি কখনো।

তবে ভাববেন না যে, ১৯৪৮ সালে মজবুর ছবির 'দিল মেরা তোড়া' গানটি দিয়ে পাদপ্রদীপের আলোয় আসার পর খুব সহজেই কোটি মানুষের মনে ঠাঁই করে উপমহাদেশের সঙ্গীতের অলিখিত মহারানী হয়ে গেছেন লতা মঙ্গেশকর। ৬৮ বছরের বড় বন্ধুর পথ পেরিয়ে এসেছেন, এ পথে বন্ধু পেয়েছেন নিশ্চয়ই, তবে সদা-ছিদ্রান্বেষী সমালোচকও পেয়েছেন অনেক। কারণে-অকারণে সমালোচনা হয়েছে। হেমন্তের সঙ্গে একই মাইক্রোফোনে গাইতে গেলে যখন বাক্সের ওপর না দাঁড়ালে চলতো না, সেই ছোট্টটি থাকার সময় থেকেই সইতে হয়েছে নানান সমালোচনা।

কণ্ঠ সমাদ্রিত হওয়ার পর কিছুদিন চলেছে হিন্দি আর উর্দু উচ্চারণ নিয়ে বিদ্রূপ। প্রথম সাক্ষাতে লতাকে 'মুম্বাই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির নতুন শিল্পী, মারাঠি মেয়ে, বেশ ভালো গায়' এভাবে পরিচয় করিয়ে দেয়ার পর দিলীপ কুমারও বলে ফেলেছিলেন, 'ইনকা এক প্রোবলেম হোতা হ্যায়, ইনকে গানেমে ডাল-ভাতকি বু আতি হ্যায়। (জানেন তো, এদের—মহারাষ্ট্রীয়দের—একটা সমস্যা হলো, এদের গানে সবসময় ডাল-ভাতের গন্ধ চলে আসে)।' বিদ্রূপটাকে শুধু গায়ে মাখেননি, একেবারে মনে গেঁথে নিয়েছিলেন লতা। কয়েকদিনের মধ্যেই উর্দু শেখা শুরু করেন মৌলভী শফির কাছে। বাকিটা ইতিহাস। দিলীপজী প্রকাশ্যে বহুবার 'ব্যাহেন লতা'র গানের প্রশংসা করেছেন তারপর এবং লতাও প্রকাশ্যেই বলেছেন, 'আমার জীবনের সবচেয়ে বড় আফসোস, আমি কোনোদিন দিলীপজীর হয়ে কণ্ঠ দিতে পারলাম না!' সাদা শাড়িতে মোড়ানো, আটপৌরে ভারতীয় নারীর অবয়ব নিয়ে সঙ্গীত ভুবন শাসন করে যাওয়া ভদ্রমহিলার পরিশিলীত কৌতুকবোধের পরিচয় ঠিকঠাক পেয়েছেন তো!

খ্যাতির শিখরে উঠলেও লতাজীর জীবনে দুঃখ অনেক। ছোটবেলা থেকেই কে. এল সায়গলের ভক্ত। সেটা প্রথমত বাবার কারণেই। বাবা সায়গলকে এতটাই ভালোবাসতেন যে, গান গাওয়ার প্রশ্ন উঠলেই বলতেন, "সায়গলের ওই গানটা ধরতো।" লতা নিজেও রেডিয়োতে খুব মন দিয়ে শুনতেন সায়গলের গান। বড় সাধ ছিল, একদিন বড় শিল্পী হবেন, সায়গলের পাশে দাঁড়িয়ে ডুয়েট গাইবেন। তো নিজের আয়ে প্রথম রেডিয়োটা কিনলেন লতা। চালিয়ে দিয়ে ভাবছেন বহুদিন পর একটু শান্তিতে বসে সায়গলজীর গান শুনবেন। একটু পরেই শুরু হলো খবর। প্রথম খবর—কুন্দন লাল সায়গল আর বেঁচে নেই! সেই কষ্ট সইতে পারেননি লতা। কাঁদতে কাঁদতে 'অপয়া' রেডিয়োটাকে ফিরিয়ে দিয়ে এসেছিলেন দোকানে।

হতে পারে চিরকুমারী থেকে যাওয়াও বড় একটা দুঃখ। কেন বিয়ে করলেন না? জবাবে লতাজী সবসময়ই বলে থাকেন, 'গান গাইতে গাইতে আর সংসারের কথা ভাবতে ভাবতে বিয়ে করার সময়টা পেলাম কই!' সঙ্গীতে কম-বেশি নাম কামানো তিন বোন আশা, উষা আর মীনা এবং ভাই হৃদয়নাথ মঙ্গেশকরকে এ অব্দি নিয়ে আসতে গিয়ে লতাজীকে যে বলতে গেলে প্রাণাতিপাত করতে হয়েছে তাতে আর সন্দেহ কি! পরিবারের জন্য তাঁর ত্যাগ-তিতিক্ষার খবর তো সবাই জানেন। তবে অনেকেই যা জানেন না, তা হলো, নিজের বিখ্যাত সেই বাংলা গানের মতো সত্যি সত্যিই 'প্রেম একবার এসেছিল' এবং নীরবে নয়, জানিয়ে-শুনিয়েই এসেছিল লতাজীর জীবনে। প্রেমিক দুঙ্গারপুরের সদ্যপ্রয়াত রাজপুত্র, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সাবেক সভাপতি, নির্বাচক রাজ সিং দুঙ্গারপুর।

রাজ-পরিবার রাজ-কে সাধারণ ঘরের কোনো মেয়েকে বিয়ে করার অনুমতি দেয়নি। পরিবারের অমতে লতাকে তাই বিয়ে করেননি, তবে আজীবন ভালোবেসে গেছেন এক সময় রাজস্থানের হয়ে ৮৬টি প্রথম শ্রেণীর ম্যাচ খেলা ক্রিকেটার। এমনও হয়েছে, রাজ সিং দুঙ্গারপুর গাড়ি নিয়ে কোথাও যাচ্ছেন। পথে কোনো কাজে হয়তো থেমেছেন। গাড়ির ভেতর থেকে ভেসে আসছে খুব পরিচিত এক খালি গলার গান। মুগ্ধ, কৌতূহলী মানুষ এগিয়ে এসে জানতে চাইলো, 'কে গান গাইছেন?' স্বামী হতে না পারলেও, ভীরু তো নন, গর্বিত প্রেমিকের মতোই রাজ সিং দুঙ্গারপুর বলতেন, 'তাঁকে আপনারা ভালো করেই চেনেন, তিনি আর কেউ নন, আপনাদেরই লতা মঙ্গেশকর।' এই ক'দিন আগেই চিরবিদায় নিলেন রাজ। লতাজী নিশ্চয়ই জীবনের আর সব দুঃখের মতো এ দুঃখও সয়ে চলেছেন অগোচরে!

কী পেয়েছেন, কী পাননি—এসবের হিসেব অনেক সাক্ষাৎকারেই চাওয়া হয়েছে। জবাব সবসময়ই এক এবং অভিন্ন, না পাওয়ার কোনো যন্ত্রণা, বড় কোনো আক্ষেপ তাঁর নেই। বাবা তাঁর ভবিষ্যদ্বাণীর যথার্থতা দেখে যেতে পারেননি, অকালে প্রায় বিনা চিকিৎসায় মারা গেছেন হৃদরোগে। বড় এই দুঃখ কিছুটা লাঘব করতে লতাজী পুনেতে বাবার নামে প্রতিষ্ঠা করেছেন হাসপাতাল।

জীবনে অনেক প্রতিকূলতা এসেছে, দ্বন্দ্ব হয়েছে রফি, শচীন দেব বর্মনের মতো সঙ্গীত ব্যক্তিত্বের সঙ্গেও। সব ঠিকও হয়ে গেছে এক সময়। সব ঘটনাতেই চেনা গেছে সংগ্রামী, আপোসহীন, পেশাদার শিল্পী লতা মঙ্গেশকরকে। মোহাম্মদ রফির সঙ্গে কোনো ব্যক্তিগত সংঘাত ছিল না। লতা চেয়েছিলেন গানের জন্য শিল্পীর শতকরা ৫০ ভাগ রয়্যালটি আদায় করে নিতে। পুরো বিষয়টিতেই ছিল সব শিল্পীর স্বার্থচিন্তা। কিন্তু সহজ-সরল, সৎ মানুষ রফি মনে করলেন, প্রযোজকের কাছ থেকে একবার টাকা নিলে গানের ওপর শিল্পীর আর কোনো অধিকার থাকে না, সুতরাং লতার পাশে থাকতে পারবেন না! ব্যস, এই ছিল দ্বন্দ্বের কারণ।

আরেকটা বিষয় এক সময় বড় বেশি কষ্ট দিতো। নিন্দুকেরা বলতেন, লতা নতুনদের বরদাশত করতে পারেন না, তাঁদের উন্নতির পথে নানাভাবে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেন। প্রথম প্রথম নিরব থাকতেন। হাস্যকর কথার প্রতিবাদ করলেও তো বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়ে যায়! কিন্তু তাঁর নিরবতা নিন্দুকদের নিরব করতে পারছিল না। অবশেষে নিজেকে বঞ্চিত করেই নতুনদের জন্য সুযোগ তৈরির অনন্য নজির গড়লেন। লতা মঙ্গেশকর চিরতরে নাম প্রত্যাহার করে নিলেন ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড থেকে।

গত প্রায় দেড় দশক ধরে লতাজী সঙ্গীত জগতে সব প্রতিযোগিতার ঊর্র্ধ্বে। হিন্দি ছবিতে গান কালেভদ্রে। তবে যখন গান, সে গান হয়ে ওঠে অসাধারণ। বাকিদের সঙ্গে তফাৎটা ধরতে একটুও অসুবিধে হয় না। ৮১-তে পা দিলেন, অথচ কণ্ঠ শুনে বয়স ১৮ বলেও ভ্রম হতে পারে! ৬০ বছরেরও বেশি সময় ধরে মুম্বাই ছবির জগতে কী অবিশ্বাস্য কাণ্ডটাই না করে চলেছে লতাজীর কণ্ঠ। ভাবা যায়, ২০ বছর বয়সে মহল ছবিতে যিনি মধুবালার জন্য গেয়েছিলেন অমর সেই গান, 'আয়েগা আনেওয়ালা', ৪৪ বছর বয়সে ডিম্পল কাপাডিয়ার জন্য তিনি ববি ছবিতে গাইলেন, 'হাম তুম এক কামরেমে বন্দ হো', ৬৯ বছর বয়সে একই শিল্পী যব পেয়ার কিসিসে হোতা হ্যায় ছবিতে ডিম্পলের মেয়ে টুইঙ্কেল খান্নার জন্য গাইলেন, 'মদহোশ দিল কি ধড়কন', ৭৫ বছর বয়সে ভীরজারা ছবিতে প্রীতি জিনতার জন্য অবলীলায় গেয়ে দিলেন, 'তেরে লিয়ে হাম জিয়ে!' এমন কণ্ঠের কী প্রশংসা হতে পারে, কী উপমা খুঁজবেন তার জন্য? কোকিলকণ্ঠী, কিন্নরকণ্ঠী—সবই তো কারো না কারো জন্য ব্যবহৃত এবং অতিব্যবহৃত। বরং লতাজী-বন্দনা শেষ করা যাক ভীরজারার পরিচালক যশ চোপড়ার কথা দিয়ে, যশ বাকি শিল্পীদের সঙ্গে লতা মঙ্গেশকরের পার্থক্যরেখা টানতে গিয়ে বলেছেন, 'সব শিল্পী সঙ্গীতকে অনুসরণ করে, আর সঙ্গীত অনুসরণ করে লতাকে।'

বিচিত্রিতা

প্রতিবাদ
১৯৫৫ সাল। চোরি চোরি ছবির 'রসিক বালমা' সেরা গানের পুরস্কার পেলো। শিল্পী লতাকে বলা হলো অনুষ্ঠানে গানটা গেয়ে শোনাতে। লতাজী বললেন, "না, যেখানে শিল্পীর স্বীকৃতি নেই, সেখানে আমি গাইবো না।" টনক নড়লো আয়োজকদের। ১৯৫৮ সাল থেকে প্লেব্যাক সিঙ্গারের পুরস্কারও এলো ফিল্মফেয়ারে।

পেশাদারিত্ব
তাঁর পেশাদারিত্ব নিয়ে কথার শেষ নেই। বিরূপ মন্তব্যও করেছেন অনেকে। রয়্যালটি নিয়ে মোহাম্মদ রফির সঙ্গে বিরোধে জড়ানোর বিষয়টি তো মুম্বাই ফিল্ম ইতিহাসেরই একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। এর বাইরেও এমন অনেক ঘটনা আছে যেগুলো তাঁর চূড়ান্ত পেশাদারিত্বেরই প্রমাণ। ১৯৬২-র একটি ঘটনা। 'বিস সাল বাদ' ছবির 'ক্যাহি দ্বীপ জ্বলে ক্যাহি দিল' গানটা শুনেছেন নিশ্চয়ই। কালজয়ী সেই গান গাওয়ার সুযোগ কিন্তু লতাজী হারাতে বসেছিলেন। তখন তিনি এতটাই অসুস্থ যে ডাক্তারের মনে হয়েছিল, লতাজীকে দিয়ে আর কোনোদিন গান হবে না! কিন্তু এত সহজে হাল ছাড়লে কি চলে? সঙ্গীত পরিচালক হেমন্ত কুমার (মুখোপাধ্যায়) কে লতাজী বললেন, 'কয়েকটা দিন বিশ্রামের সময় দিন, গানটা ঠিকই গেয়ে দেবো আমি।' তা-ই হলো। বিশ্রাম নিয়ে ফিরলেন, গাইলেন এবং জিতে নিলেন ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড! ২৭ বছর পরও ঘটেছিল প্রায় একই রকমের ঘটনা। সেবার চিকিৎসক তাঁকে কয়েক মাস বিশ্রামে থাকতে বলেছেন। কিন্তু বিশ্রাম নিতে গেলে তো আর 'ম্যায়নে পেয়ার কিয়া' ছবির গানগুলো যথাসময়ে গাওয়া হবে না। একবার শিডিউল পিছিয়ে দিলে কত ক্ষতি সেটা লতাজীর চেয়ে বেশি ক'জনই বা জানেন! তো অসুস্থতা নিয়েই রেকর্ডিংয়ের দিনে লতাজী একদম সময় মতো স্টুডিয়োতে হাজির। সে অবস্থায় ৫টি গান রেকর্ড করিয়েছিলেন একই দিনে!

ক্রিকেটভক্ত
সবাইকে অবাক করে ১৯৮৩-র বিশ্বকাপ জিতে নিলো ভারত। লতাজী তখন লন্ডনে। ফাইনালে কপিল দেব বাহিনীর অবিশ্বাস্যভাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারানোর দৃশ্য মাঠে বসে দেখেছেন। ঘনিষ্ঠরা জানেন, ক্রিকেটভক্ত লতা মঙ্গেশকরের জন্য একটা বিশেষ আসনের বরাদ্দ রয়েছে লর্ডসে। যা হোক, ফাইনাল শেষে লতাজী নিজে কপিল দেবকে অনুরোধ করলেন সদলবলে তাঁর ফ্ল্যাটে চলে আসতে। বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা দাওয়াত কবুল করেছিলেন। লতাজী মজাদার অনেক খাবারের সঙ্গে নিজের রান্না করা গাজরের হালুয়াও খাইয়েছিলেন তাঁদের।

পণ্ডিত যশরাজের নিদ্রাভঙ্গ
ঘুম পাড়ানি গান শৈশবে অনেকেই শুনেছেন। কী মিষ্টি! বিশেষ করে মায়ের আদর, কোল, নির্জনতায় সুমধুর গুনগুনানি—সবই যেন মনে পড়ে যায়। কিন্তু ঘুম ভাঙানোর গান কি শুনেছেন কখনো? সেই গান কি সুখশ্রাব্য কিছু? উল্টোটাই হওয়ার কথা, তাই না? ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের প্রবাদপুরুষ প-িত যশরাজের অভিজ্ঞতা কিন্তু অন্যরকম! সেদিন খুব ভোরে কোত্থেকে যেন ভেসে এলো 'হাম দোনো' ছবির 'আল্লা তেরো নাম' গানটা। পণ্ডিতজী তখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। তবু তাঁর কানে গেল লতাজীর সুরমূর্চ্ছণা। মন্ত্রমুগ্ধের মতো গান শুনতে শুনতে উঠে বসলেন, কখন যে দু'চোখ বেয়ে জল নামতে লাগলো পণ্ডিতজী বলতেই পারেন না!

নেতাজীর কান্না এবং দুটি অমর বাণী
চীন-ভারত যুদ্ধের সময় এক অনুষ্ঠানে 'অ্যায় মেরি ওয়াতন কে লোগো' গানটা শুনে জওহর লাল নেহরু অঝোরে কেঁদে ফেলেছিলেন। লতা মঙ্গেশকরের সুর এতটাই আচ্ছন্ন করে, আবেগে ভাসায় মনকে! অভিনেত্রী নার্গিস বলতেন, 'লতার গানের দৃশ্যে অভিনয় করার সময় আমার গ্লিসারিন লাগে না, আপনা-আপনিই কান্না চলে আসে!' আর সঙ্গীত পরিচালক সাজ্জাদ হুসাইন কী বলেছিলেন শুনবেন? বলেছিলেন, 'লতা যখন গায়, মাইক্রোফোনের সামনে বসে অন্যরা তখন কাঁদে।'

এক দিনের বিদ্যা
শিল্পী হিসেবে দুনিয়াজোড়া নাম হলে কী হবে, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় লতাজী কিন্তু ব-কলম। হ্যাঁ, শুনতে খারাপ শোনালেও কথাটা সত্যি। স্কুলে গিয়েছিলেন মাত্র একদিন। ছোট বোন আশা (ভোঁসলে) তখন তার একেবারে ছায়াসঙ্গী। বোনটিকে ছাড়া চলতেই পারেন না। প্রথম দিনের স্কুলে তাই ছোট বোনও ছিল সঙ্গে। কিন্তু স্কুলে তো নিয়ম বলে একটা কথা থাকে এবং সে নিয়ম মানতেও হয়। নিয়ম অনুযায়ী জানিয়ে দেয়া হলো, প্রতিদিন বোনকে নিয়ে স্কুলে আসা চলবে না। ব্যস, রেগেমেগে সেই যে বাড়ি এলেন আর স্কুলমুখো হননি। তা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না নিলেও লতাজী লেখাপড়া যে শেখেননি তা কিন্তু নয়। হিন্দি, উর্দু, ইংরেজি এবং বেশ কিছু ভারতীয় আঞ্চলিক ভাষায় তাঁর মতো অনর্গল কথা বলতে তথাকথিত শিক্ষিতদের কজনই বা পারেন!

সততা
১৯৯৯ সালের কথা। রাজ্যসভার সদস্য মনোনীত করা হলো লতাজীকে। কিন্তু শিল্পী মানুষ, চাইলেও রাষ্ট্রীয় রাজনৈতিক দায়িত্বে কতটা আর জড়াতে পারেন! তার ওপর শরীরটাও তখন খুব একটা বশে ছিল না। ফলে অধিবেশনে বলতে গেলে যাওয়াই হতো না। কিন্তু সবাই এটা মেনে নেবেন কেন? প্রণব মুখার্জী, নাজমা হেপতুল্লাহ, এমনকি সাংস্কৃতিক জগতের মানুষ শাবানা আজমি পর্যন্ত বলতে লাগলেন, "সম্মানের ভাগ নেবেন, অথচ নামকা ওয়াস্তে সদস্য থেকে অধিবেশনে আসবেনই না, এ কেমন কথা!" লতাজী স্বভাবসুলভ বিনম্রতায় শারীরিক অসুস্থতার কথা জানিয়ে দুঃখ প্রকাশ করলেন। পরে জানা যায়, সক্রিয় সদস্যের ভূমিকা পালন করতে না পারায় লতা মঙ্গেশকর তাঁর জন্য দিল্লীতে বরাদ্দ করা সরকারি বাসভবনে কখনো ওঠেননি, সংসদ সদস্য হিসেবে প্রাপ্য বেতনÑভাতাসহ কোনো আর্থিক সুবিধাও কোনোদিন নেননি!

লতা মঙ্গেশকর পাকিস্তানের!
শিকাগোতে একক সঙ্গীতানুষ্ঠান। সেদিন আবার লতাজীর ৬৯তম জন্মদিন। স্বাভাবিক নিয়মেই কেক কাটা হলো। হলে উপস্থিত কয়েক হাজার মানুষ সমস্বরে গাইতে লাগলেন, "হ্যাপি বার্থ ডে টু লতাজী!" এরই মাঝে দূর থেকে লতা মঙ্গেশকরকে 'পাঞ্জাবের গর্ব' দাবি করে এক শিখ সর্দার বলে উঠলেন, "তুসি কুড়ি পাঞ্জাবদি হো।" হলে নেমে এলো পিনপতন নিস্তব্ধতা। একটু সময় নিয়েই জবাবটা দিলেন লতা মঙ্গেশকর, বললেন, "আমি পাঞ্জাবের, আমি গুজরাটের, আমি সারা ভারতের, শুধু তাই বা বলি কেন, আমি পাকিস্তানেরও!"

অন্যরকম বিড়ম্বনা
৬৭ বছরের সঙ্গীত জীবনে এ পর্যন্ত অনেক পুরস্কারই পেয়েছেন। ছোটখাটো থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পুরস্কার পর্যন্ত—কী নেই তালিকায়! এ নিয়ে ঝামেলারও শেষ নেই। পুরস্কার যত বেশি, দক্ষিণ মুম্বাইয়ের পেডার রোডে লতাজীর বাড়ি 'প্রভুকুঞ্জ' সেই তুলনায় তত বড় নয়। তাই কিছু নিজের বাড়িতে রেখে আড়াইশ'র মতো ট্রফি আর প্রায় দেড়শ গোল্ডেন ডিস্ক রেখেছেন কোলাপুরের স্টুডিয়োতে। ছোট বোন উষা মঙ্গেশকর প্রায়ই গুণে দেখেন ক'টা হলো। গুণে গুণে তিনি নাকি ক্লান্ত।

অভিনেত্রী লতা
পুরোদমে সঙ্গীত শিল্পী হওয়ার আগে এবং পরেও ছবিতে অভিনয় করেছেন লতা মঙ্গেশকর। শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগে আটটি এবং তারপর মাত্র একটি গানের দৃশ্যের জন্য একটি ছবিতে। ছবিগুলো হলো: পাহিলি মাঙ্গালগাউর (১৯৪২), চিমুকলা সংসার (১৯৪৩), মাঝে বাল (১৯৪৩), গজবহু (১৯৪৪), বড়ি মা (১৯৪৫), জীবনযাত্রা (১৯৪৬), শুভদ্রা (১৯৪৬), মন্দির (১৯৪৮), ছত্রপতি শিবাজী (১৯৫২, কেবল একটি গানের সিকোয়েন্সে দেখা যায় তাঁকে)

উল্লেখযোগ্য পুরস্কার

জাতীয় পুরস্কার: ৩ বার, ১৯৭২ (পরিচয়), ১৯৭৫ (কোরা কাগজ), ১৯৯০ (লেকিন)

ফিল্মফেয়ার পুরস্কার : ১৯৫৮ (মধুমতি), ১৯৬২ (বিস সাল বাদ), ১৯৬৫ (খানদান) ও ১৯৬৯ (জিনে কি রাহ)—এই চারবার। এরপর নতুনদের সুযোগ করে দিতে নাম প্রত্যাহার করে নেন। তারপরও ফিল্মফেয়ার বিশেষ কারণে দু'বারে লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্টসহ তিনটি পুরস্কার দিয়েছে।

এর বাইরেও অজস্র পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন লতা মঙ্গেশকর। ২ বার মহারাষ্ট্র রাজ্য পুরস্কার, ১১ বার পশ্চিমবঙ্গ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সংস্থার পুরস্কার, পদ্মভূষণ (১৯৬৯), দাদা সাহেব ফালকে (১৯৮৯), রাজীব গান্ধী পুরস্কার (১৯৯৭), ভারতরতœ (২০০১), নূরজাহান অ্যাওয়ার্ড (২০০১)—তালিকাটা এত বড় যে বলে শেষ করা যাবে না।

গুণীজনের লতা-বন্দনা

জাভেদ আখতার
কাহিনীকার ও গীতিকার
এই পৃথিবীর একটি সূর্য, একটি চাঁদ আর একটি মাত্র লতা আছে।

সাজ্জাদ হুসাইন
কম্পোজার
লতা গান করেন আর বাকিরা খুব কষ্ট করে গাওয়ার চেষ্টা করেন।

উস্তাদ বড়ে গুলাম আলী খান
শাস্ত্রীয় সঙ্গীতশিল্পী
আশীর্বাদপুষ্ট সৃষ্টি, যে কখনো বেসুরো হয় না—আল্লাহর এ কী কুদরত!

উস্তাদ আমীর খান
শাস্ত্রীয় সঙ্গীত শিল্পী
শাস্ত্রীয় সঙ্গীত শিল্পীরা যা সাড়ে তিন ঘণ্টায় রপ্ত করেন, লতা তা তিন মিনিটে করে দেখান।

অনিল বিশ্বাস
সঙ্গীত পরিচালক
লতা আমাদের জন্য ঈশ্বরপ্রেরিত এক শিল্পী, কারণ, তিনি থাকায় আমরা সামর্থের শেষ বিন্দু দিয়ে কাজ করতে পেরেছি। তাঁর কণ্ঠ মাধুর্য এমনই যে আমরা আমাদের জানা সবচেয়ে জটিল কোনো কম্পোজিশন দিলেও তিনি তা অনায়াসে তুলে নেন।

গৌতম রাজাধ্যক্ষ
চিত্রকর
তানসেন আর লতা—আজ থেকে ৫০০ বছর পর ভারতীয় সঙ্গীতের এই দুজনকেই সবাই স্মরণ করবে।

হৃষিকেশ মুখার্জি
পরিচালক
বড় আনন্দ জীবনে এক বা দুবার আসে। কেন যে আমরা ওসবের অপেক্ষায় বসে থাকি! ওসবের চেয়ে লতার গান প্রতিদিন যে আনন্দের মুহূর্তগুলো জন্ম দেয় সেগুলো অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

ইল্লাইয়ারাজা
কম্পোজার
পৃথিবীতে কিছুই অপরিবর্তিত থাকবে না, সবকিছুরই বিকল্প খুঁজে পাওয়া যাবে। কিন্তু এ পৃথিবীতেই শুধু একটা জিনিস হুবহু একই থাকবে আর তা হলো লতার ঈশ্বরপ্রদত্ত কণ্ঠ।

কানন দেবী
অভিনেত্রী ও গায়িকা
প্লেব্যাক শুরুর আগে আমরা অভিনেত্রীরা যা গাইতাম তা নামেই শুধু গান ছিল। আসলে লতার প্লেব্যাক শুরুর পর থেকেই আসল গান শুরু হয়েছে।

নওশাদ
কম্পোজার ও কবি
তাঁর কণ্ঠে ভারতের হৃদয় বাজে।

সেলিম খান
কাহিনীকার
খ্যাতির শিখরে অনেকেই উঠেছেন, কিন্তু লতা সেই বিরল ব্যক্তিদের একজন যিনি কখনো নিচে নামেননি।

কল্যাণজী-আনন্দজী
কম্পোজার
আমরা মনে করি, লতা মঙ্গেশকরই একমাত্র শিল্পী যিনি শুধু সুর-তাল ঠিক রাখার বাইরেও পরিচালকের একশ ভাগ চাহিদা পূরণ করতে পারেন।

গুলজার
কবি
লতা মঙ্গেশকর সম্পর্কে কীই বা বলা যায়? তাঁর সম্পর্কে কারো কথা বলাই উচিত নয়, উচিত শুধু তাঁর গান নিরবে শোনা। আমরা কে মন্তব্য করার? তাঁর গান শুনে শুধু প্রতিক্রিয়াই ব্যক্ত করা যায়, মন্তব্য করা আমাদের সাধ্যের বাইরে।

অলকা ইয়াগনিক
সঙ্গীত শিল্পী
আমার কাছে উনি পরিবারের একজন সদস্যের মতোই। সেই চার-পাঁচ বছর বয়স থেকে তাঁর গান শুনে আসছি। তিনি আমার কাছে দেবীর মতো, যাকে আমি সবসময় অনুসরণন করি।

কবিতা কৃষ্ণমূর্তি
সঙ্গীত শিল্পী
লতাজীর গানের জন্যই চলচ্চিত্রের গানের প্রতি আমার ভালোবাসা জন্মেছে। শুধু কণ্ঠ নয়, ওনার সবকিছুই সঙ্গীতের জন্য আদর্শ।

লতা মঙ্গেশকারের গাওয়া কিছু বাংলা গান

আজ মন চেয়েছে আমি হারিয়ে যাবো
আমারওতো সাধ ছিল
আকাশ প্রদীপ জ্বলে
আমি চলতে চলতে থেমে গেছি
আমি যে কে তোমার
আষাঢ় শ্রাবণ মানেনা তো মন
বেহায়া বাঁশি
ভালো করে তুমি চেয়ে দেখো
ভালোবাসার আগুন জ্বেলে কেন চলে যাও
ভুলো না প্রথম সেদিন
বুঝবে না কেউ বুঝবে না
চন্দ্র যে তুই মোর
চিতার আগুনে
চলে যেতে যেতে
ধরনীর পথে পথে
দূরে আকাশ শামিয়ানা
এই দিন তো যাবে না
এই জীবন এমনি করে
একবার বিদায় দে মা ঘুরে আসি
ফেলে আসা স্মৃতি
গাছের পাতায় রোদের ঝিকিমিকি
হঠাৎ ভীষণ ভালো লাগছে
হায় হায় প্রাণ যায়
যা যা যা ভুলে যা
যারে যারে উড়ে যারে পাখি
যাবার বেলায় পিছু থেকে ডাক দিয়ে
যদি বারণ করো তবে
যদি স্বপ্নে এলে
যদিও রজনী পোহালো তবুও
ঝিলিক ঝিলিক ঝিনুক খুঁজে পেলাম
কে যেন গো ডেকেছে আমায়
কেন যে কাঁদাও বারে বারে
কেন কিছু কথা বল না
কী যে করি দূরে যেতে হয় তাই
মঙ্গল দ্বীপ জ্বেলে অন্ধকারে
না বোলো না
না যেয়ো না রজনী এখনো বাকি
না মন লাগে না
নাও গো মা ফুল নাও
নিঝুম সন্ধ্যায় পান্থ পাখিরা
নিশিদিন বাজে
ও বাঁশি কেন গায়
ও মোর ময়না গো
ও পলাশ ও শিমুল
ও প্রজাপতি প্রজাপতি
ও তুই নয়নপাখি
ওগো আর কিছু তো নয়
ওরে মনপাখি
পা পামাগারেসা
প্রেম একবার এসেছিল
প্রিয়তমা, কী লিখি তোমায়
রঙ্গিলা বাঁশিতে কে ডাকে
সাত ভাই চম্পা
সবার আড়ালে সাঁঝ সকালে
তোমাদের আসরে আজ
তুমি পাথর চোখেরো যে দৃষ্টি
পদ্ম পাতায় ভোরের শিশির
পথ বলে দাও মাগো
এই জন্মে আমরা আছি
এই রাত এত তারা
আমার মালতী লতা
আমার বাধা দেখে
আমার গোপন ব্যথার
আমি বলি তোমায়
আমি শুইনি সারারাত
আমি স্বপ্ন আর দেখবো না
অপরূপা অপরূপা
অস্ত আকাশের গোধূলী
বাদল কালো
বঁধুয়া কেন গেলে পরবাসে
বড় বিস্বাদ ভরা রজনী
বোঝো না কেন যে
বৃষ্টি বৃষ্টি বৃষ্টি
বৃষ্টি অনাবৃষ্টি
চম্পাবতি কন্যা
চঞ্চল ময়ূরী
দংশিলি তুই
দে দোল দোল
ডেকো না আমায়
দুয়ো দুয়ো আড়ি
এসো এসো প্রিয়
হরিবোল
যায় যে বেলা যায়
জাগো মোহন প্রতিমা
যতবার দেখি মাগো
যেতে চাই
ঝড়ের হাওয়ায়
ঝিম চিকি চাক
জ্যোস্নার রাত পিছু টানে
কত নিশি গেছে
কে যাবি আয়
কে জেগে আছো
কিছু তো চাহিনি আমি
কৃষ্ণচূড়া
মধুগন্ধে ভরা
মনে রেখো
ও ঝর ঝর ঝর ঝরনা
ওগো মা গঙ্গা
অন্ত বিহীন
সবাই তো স্বপ্ন দেখে
তোমার আমার ভালোবাসা
তোমার বকুল বনে
তোমাকে শোনাতে এ গান
তোমার গভীর ভালোবাসা
তোমারই আমি

লতাজী'র কিছু হিন্দি গান

১. কুছ না কাহো, ১৯৪২ আ লাভ স্টোরি
২. কারি বাদারিয়া, আদমিল
৩. যো ম্যায় জানতি উনকে লিয়ে, আহ
৪.রাজা কি আয়েগি বারাত, আহ
৫.ইয়ে শাম কি তানহাইয়া, আহ
৬. দিলকা দিয়া জ্বালাকে গ্যায়া, আকাশদ্বীপ
৭. আজ মেরে মনমে সখি, আন
৮. তুঝে খো দিয়া হামনে, আন
৯. আগার মুঝসে মোহাব্বত হ্যায়, আপকি পরছাইয়া
১০. হামকো ভি গমনে মারা, আসপাস
১১. শিশা হো ইয়া দিল হো, আশা
১২. দাইয়ারে দাইয়া, আসরা
১৩. নিন্দ কাভি র‌্যাহতি থি, আসরা
১৪. মেরা মেহবুব হ্যায় বেমিসাল, আয়ে দিন বাহারকে
১৫. নদিয়া কিনারে, অভিমান
১৬. পিয়া বিনা পিয়া বিনা, অভিমান
১৭. আব তো তুম সে, অভিমান
১৮. ধড়কন হার দিলকি, অভিনেত্রী
১৯. সাজনা ও সাজনা, অভিনেত্রী
২০. আঁখো আঁখোমে উনসে, আদা
২১. উনকো ইয়ে শিকায়াত হ্যায়, আদালত
২২. পিয়াসা হুয়ে ম্যায় সুলগ গ্যায়ি, আফসানা
২৩. আগার তুম না হোতে, আগার তুম না হোতে
২৪. আজ কোয়ী নেহি আপনা, অগ্নিপরীক্ষা
২৫. রুঠো না, আভাস
২৬. ইস জীবনকি ইয়ে হ্যায় কাহানি, আলাগ আলাগ
২৭. বালমা বড়া নাদান, আলবেলা
২৮. ধীরে সেআযারি আঁখিয়ামে, আলবেলা
২৯. দিল ধড়কে নজর শরমায়ে, আলবেলা
৩০. তেরি ইয়াদনে মারা, আলবেলা
৩১. না মিলতা গম তো, অমর
৩২. উড়ি উড়ি ছায়ি ঘাটা, অমর
৩৩. বড়া নটখট হ্যায়রে, অমরপ্রেম
৩৪. র‌্যায়না বিত যায়ে, অমরপ্রেম
৩৫. দিলকি দুনিয়া বাসাকে সাঁওয়ারিয়া, অমরদ্বীপ
৩৬. যাও রে যোগী তুম যাওরে, আম্রপলি
৩৭. নীল গগন কি ছাওমে, আম্রপলি
৩৮. তুমহে ইয়াদ কারতে কারতে, আম্রপলি
৩৯. বাহোমে চালে আ, অনামিকা
৪০. ক্যাহি দূর যব দিন ঢল যায়ে, আনন্দ
৪১. না যিয়া লাগে না, আনন্দ
৪২. ইয়ে জিন্দেগি উসিকি হ্যায়, আনারকলি
৪৩. জামানা ইয়ে সমঝাকে হাম, আনারকলি
৪৪. মুঝসে মাত পুছ, আনারকলি
৪৫. তোড় দিয়া দিল মেরা, আন্দাজ
৪৬. উঠায়ে যা উনকে সিতম, আন্দাজ
৪৭. মেরি সুনলে আরজ, আঁখে
৪৮. দিলকি লাগি কাহে জানেনা, আনমোল
৪৯. সুন সুন সুন মেরে সাঁথিয়া, আনমোল
৫০. নিস দিন নিস দিন, অন্নদাতা
৫১. জীবন সপ্না টুট গ্যায়া, আনোখা পেয়ার
৫২. ইয়াদ রাখনা চাঁদ তারো, আনোখা পেয়ার
৫৩. আপকি নজরোনে সমঝা, আনপড়
৫৪. যিয়া লে গ্যায়ো যিয়া মোরা, আনপড়
৫৫. কুছ দিল নে কাহা, অনুপমা
৫৬. নিন্দ চুরায়ে চ্যায়েন চুরায়ে, অনুরাগ
৫৭. জানে ক্যায়সে সপ্নোমে, অনুরাধা
৫৮. বেদরদি বালমা তুঝকো, আরজু
৫৯. উনহে হামতো দিলসে ভুলনে লাগে, আরজু
৬০. মুখ মোড় না লেনা সাজনা, আশিয়ানা
৬১. তেরা মেরা পেয়ার অমর, আসলি-নকলি
৬২. এক বেওয়াফাসে পেয়ার কিয়া, আওয়ারা
৬৩. ঘর আয়া মেরা পরদেসি, আওয়ারা
৬৪. যবসে বালাম ঘর আয়ে, আওয়ারা
৬৫. ম্যায় কমসিন হু, আয়ি মিলন কি বেলা
৬৬. না বোলে না বোলে, আযাদ
৬৭. আজ মানেনা মোরা যিয়া, বাদল
৬৮. চালে যানা নেহি, বড়ি ব্যাহেন
৬৯. যো দিলমে খুশি বানকার আয়ে, বড়ি ব্যাহেন
৭০. রুলাকার চাল দিয়ে, বাদশাহ
৭১. বাহারে হামকো ঢুনডেগি, বাঘী
৭২. আযা পিয়া তোহে পেয়ার দু, বাহারো কে সপ্নে
৭৩. বাচপান কি মোহাব্বত কো, বৈজুবাওরা
৭৪. মোহে ভুল গ্যায়ে সাওয়ারিয়া, বৈজুবাওরা
৭৫. মোরা গোরা অঙ্গ লেইলে, বন্দিনী
৭৬. তড়পায়োগে তড়পালো, বারখা
৭৭. আব মেরা কওন সাহারা, বারসাত
৭৮. বিছড়ে হুয়ে পরদেসি, বারসাত
৭৯. হাওয়ামে উড়তা যায়ে, বারসাত
৮০. জিয়া বেকারার হ্যায়, বারসাত
৮১. মেরি আঁখোমে বাস গ্যায়া, বারসাত
৮২. মুঝে কিসিসে পেয়ার হো গ্যায়া, বারসাত
৮৩. আয়ে মোহাব্বত মেরি দুনিয়া, বিস সাল বাদ
৮৪. ক্যাহি দ্বীপ জ্বালে ক্যাহি দিল, বিস সাল বাদ
৮৫. বদনসিবা কা গিলা, বেওয়াফা
৮৬. ইসি কা নাম দুনিয়া হ্যায়, বেওয়াফা
৮৭. কারে কারে বাদরে, ভাবি
৮৮. আঁখিয়োকো র‌্যাহনে দো, ববি
৮৯. জিয়া না লাগে মোরা, বুঢ্ঢা মিল গ্যায়া
৯০. ঝান ঝান পায়েল বাজে, বুঝদিল
৯১. ম্যায় আলবেলি রুমঝুম, বুঝদিল
৯২. রোতে রোতে গুজার গ্যায়া, বুঝদিল
৯৩. উলফতমে জামানে কি, কলগার্ল
৯৪. যাইয়ে হামসে, চালবাজ
৯৫. তেরি রাহোমে খাড়ি হ্যায়, ছালিয়া
৯৬. জীবনকে দো রাহেপে, ছোটিসি মুলাকাত
৯৭. মেরে বিছড়ে সাথি সুনতা যা, চিরাগ
৯৮. সনসারসে ভাগে ফিরতে হো, চিত্রলেখা
৯৯. রসিক বালমা, চোরি চোরি
১০০. অ্যায় মেরে দিল ক্যাহি অওর চল, দাগ
১০১. দুনিয়ানে তেরি দুনিয়াওয়ালে, দীদার
১০২. লে যা মেরি দুয়ায়ে, দীদার
১০৩. লগন তোসে লাগি বালমা, দেখ কবিরা রোয়া
১০৪. আপ ক্যাহে অওর হাম না আয়ে, দেসপরদেস
১০৫. যাওজি যাও, দেসপ্রেমী
১০৬.ও যানেওয়ালে রুকযা, দেবদাস
১০৭. আজিব দাস্তা, দিল আপনা অওর প্রীত পরায়া
১০৮. ফির তেরি কাহানি ইয়াদ আয়ি, দিল দিয়া দর্দ লিয়া
১০৯. আযারে পেয়ার পুকারে, দিলনে ফির ইয়াদ কিয়া
১১০. ওয়াদা না তোড়, দিল তুঝকো দিয়া
১১১. বিন্দিয়া চমকেগি, দো রাস্তে
১১২. কোয়ি লওটাদে মেরে, দূর গগনকি ছাওমে
১১৩. অ্যায় দিল তুঝে কসম হ্যায়, দুলারি
১১৪. সুহানি রাত ঢল চুকি, দুলারি
১১৫. একবার চালে আয়ো, একবার চালে আয়ো
১১৬. চাল দিয়া দিল মোরা তোড়কে, ফিফটি ফিফটি
১১৭. তেরে বিনা জিয়া, ঘর
১১৮. দিলকা খিলোনা হ্যায়, গুঞ্জ উঠি শেহনাই
১১৯. আজ ফির জিনেকি, গাইড
১২০. দিন ঢল যায়ে, গাইড
১২১. পিয়া তোসে ন্যায়না লাগেরে, গাইড
১২২. সাইয়া বেঈমান, গাইড
১২৩. গম ছোড়ো মানোয়া রং, গুমনাম
১২৪. গুমনাম হ্যায় কোয়ি, গুমনাম
১২৫. খেলোনা মেরে দিলসে, হাকিকত
১২৬. ফুলোকা তারোকা, হরে রামা হরে কৃষ্ণা
১২৭. বেদরদি তেরে পেয়ারনে, হেনা
১২৮. আল্লা তেরো নাম, হামদোনো
১২৯. আ যানেযা, ইনতিকাম
১৩০. পরদেসিয়োসে না আঁখিয়া মিলানা, যব যব ফুল খিলে
১৩১. ইয়ে সামা, সামা হ্যায় ইয়ে পেয়ারকা, যব যব ফুল খিলে
১৩২. যব পেয়ার কিসিসে হোতা হ্যায়, যব পেয়ার কিসিসে হোতা হ্যায়
১৩৩. কাজরা লাগাকে বিন্দিয়া সাজাকে, জল বিন মাছলি নৃত্য বিন বিজলি
১৩৪. ঝিলমিল সিতারোকা আঙ্গন হোগা, জীবনমৃত্যু
১৩৫. রুলাকে গ্যায়া সপ্না মেরা, জুয়েল থিফ
১৩৬. কোয়ি হামদম না রাহা, ঝুমরু
১৩৭. মেরি ঘর আয়ি এক, কাভি কাভি
১৩৮. সো যা মেরে রাজ দুলহারে, কাঠপুতলি
১৩৯. না কোয়ি উমাঙ্গ হ্যায়, কাটি পাতাং
১৪০. উয়ো শাম কুছ আজীব থি, খামোশি
১৪১. তুমহি মেরে মন্দির, খানদান
১৪২. ইয়ে ক্যায়া জিন্দেগি হ্যায়, কোহিনূর
১৪৩. তুমহারে ভুলানে কো, লাডলি
১৪৪. মেরি বিন্দিয়া, লামহে
১৪৫. কেসরিয়া বালমা, লেকিন
১৪৬. ইয়ারা সিলি সিলি, লেকিন
১৪৭. সাইয়োনারা, লাভ ইন টোকিয়ো
১৪৮. আযারে পরদেসি, মধুমতি
১৪৯. আয়েগা আনেওয়ালা, মহল
১৫০. তুমসে বিছাড়কে চ্যায়েন কাহা, মহারাজা
১৫১. দিল দিওয়ানা, ম্যায়নে পেয়ার কিয়া
১৫২. দিল মেরা তোড়া, মজবুর
১৫৩. তুঝসে নারাজ নেহি জিন্দেগি, মাসুম
১৫৪. যারে উড় যা রে পনছি, মায়া
১৫৫. যমুনা কিনারে, মেহবুবা
১৫৬. মেরে ন্যায়না সাওন ভাদো, মেহবুবা
১৫৭. মার দিয়া যায়ে, মেরা গাও মেরা দেশ
১৫৮. মেরা সায়া সাথ হোগা, মেরা সায়া
১৫৯. ন্যায়নোমে বাদরা ছায়ে, মেরা সায়া
১৬০. মেরে মেহবুব তুঝে, মেরে মেহবুব
১৬১. ও যানেওয়ালে যাওনা, মাদার ইন্ডিয়া
১৬২. মোহাব্বত কে ঝুটি কাহানি, মুঘল-ই-আযম
১৬৩. পেয়ার কিয়া তো ডরনা কেয়া, মুঘল-ই-আযম
১৬৪. জীবনকে সফরমে রাহি, মুনিমজী
১৬৫. মন ডোলে মেরা তান ডোলে, নাগিন
১৬৬. মেরা দিল ইয়ে পুকারে আযা, নাগিন
১৬৭. তেরি ইয়াদমে জ্বালকার দেখ লিয়া, নাগিন
১৬৮. ম্যায় তেরি দুশমন, নাগিনা
১৬৯. দিল কা দর্দ না জানে, নওজোয়ান
১৭০. চালতে চালতে ইউহি কোয়ি, পাকিজা
১৭১. ইনহি লোগোনে, পাকিজা
১৭২. ইয়ে বাঁসি কিউ গায়ে, পরখ
১৭৩. লাগি না ছুটেগি, পরদেসি
১৭৪. নাদির দিম টানা দেরে, পরদেসি
১৭৫. চান্দ ফির নিকলা, পেয়িং গেস্ট
১৭৬. এক রাধা এক মীরা, রাম তেরি গঙ্গা ম্যায়লি
১৭৭. দিল হুম হুম কারে, রুদালি
১৭৮. ভুলি হুয়ি ইয়াদো, সনযোগ
১৭৯. উয়ো ভুলি দাস্তা, সনযোগ
১৮০. সত্যম শিবম সুন্দরম, সত্যম শিবম সুন্দরম
১৮১. দিলবিল পেয়ারবেয়ার, শার্গিদ
১৮২. খিলতে হ্যায় গুল ইয়াহা, শর্মিলি
১৮৩. ও যানেওয়ালে, শ্রী ৪২০
১৮৪. নীলা আসমান সো গ্যায়া, সিলসিলা
১৮৫. দিল জ্বালে তো জ্বালে, ট্যাক্সি ড্রাইভার
১৮৬. দিলকা ভাঁওয়ার কারে পুকার, তেরে ঘরকে সামনে
১৮৭. ন্যায়না বরসে রিমঝিম, উয়ো কওন থি
১৮৮. সো যা রাজকুমারী, জিন্দেগি
১৮৯. অ্যায় মেরে ওয়াতন কে লোগো
১৯০. যিয়া জ্বালে, দিলসে

Image
lata_dilip_amitabh.jpg


অমিতাভ বচ্চন, লতা মুঙ্গেশকর, যশ চোপরা ও দিলীপ কুমার;

গুণীদের চোখে লতার সেরা গান

চিত্রগুপ্ত
সঙ্গীত পরিচালক

১. ধীরে সে আ যা রে, আলবেলা; সি রামচন্দ্রন
২. কারে কারে বাদরা, ভাবি; চিত্রগুপ্ত
৩. তুম কেয়া জানো, শিন শিনা কি বুবলাবু; সি রামচন্দ্রন
৪. তড়পায়োগে, তড়পালো, বরখা; চিত্রগুপ্ত
৫. রসিক বালমা, চোরি চোরি; জয়কিষেণ
৬. রং দিল কি ধড়কন, পতং; চিত্রগুপ্ত
৭. আ যা রে পরদেশী, মধুমতি; সলীল চৌধুরী
৮. মুসকুরাকে জি নেহি লাগতা, কাঙ্গন; চিত্রগুপ্ত
৯. সংসারসে ভাগে ফিরতে হো, চিত্রলেখা; রোশান
১০. হায়রে তেরে চঞ্চল, উঁচে লোগ

তালাত মাহমুদ
সঙ্গীত শিল্পী ও অভিনেতা

১. স্বপ্না বান সাজন আয়ে, শোখিয়া; জামাল সেন
২. তুম না জানে, সাজা; এস ডি বর্মন
৩. ইস দিল কি হালাত, আনহোনি; রোশান
৪. মুখ মোড় না দেনা, আশিয়ানা; মদনমোহন
৫. প্রীত ইয়ে ক্যায়সি বোল রি, দাগ; শঙ্কর
৬. উয়ো তো চালে গ্যায়ে, সাঙ্গদিল; সাজ্জাদ হুসাইন
৭. বাহার আয়ি খিলি, আলিফ লায়লা; পণ্ডিত শ্যামসুন্দর
৮. মিট্টি সে খিলাতে হো, পতিতা; জয়কিষেণ
৯. কারে বাদরা তু না যা, শিয়াকাসত; শঙ্কর
১০. আ যা রে পরদেশী, মধুমতি; সলীল চৌধুরী

অনিল বিশ্বাস
কম্পোজার

১. তুমহারে বুলানেকো, লাডলি
২. বদলি তেরি নজর, বড়ি বহু
৩. আঁখোমে চিতচোর সামায়ে, মেহমান
৪. মনমে কিসি কি, আরাম
৫. মেরে পেয়ার মে, মান
৬. আল্লাহ ভি হ্যায়, মান
৭. বেঈমান তেরে ন্যায়েনবা, তারানা
৮. ইক পাল রূক যা না, রাহি
৯. রূঠকে তুমতো, জ্বালাতি নিশানি
১০. যা মা তুসে, সওতেলা ভাই

কামিনী কৌশল
অভিনেত্রী
১. চান্দ রে, জিদ্দি; খেমচান্দ প্রকাশ
২. চান্দাকি চান্দনি, পুনম; শঙ্কর
৩. ইয়ে রাত ইয়ে চাঁদনি, জ্বাল; এসডি বর্মন
৪. উঠায়ে যা উনকি সিতম, আন্দাজ; নওশাদ
৫. মোহে ভুল গ্যায়ে, বৈজুবাওরা; নওশাদ
৬. মেরা দিল ইয়ে পুকারে, নাগিন; হেমন্ত কুমার
৭. তুম না জানে, সাজা; এস ডি বর্মন
৮. ঠাণ্ডি হাওয়ায়ে, নওজোয়ান; এসডি বর্মন
৯. ছেড় গায়ো মোহে, জান্জার; সি রামচন্দ্র

নলিনী জয়ন্ত
অভিনেত্রী
১. দেখো জি মোরা, নওবাহার; রোশান
২. ইয়াদ রাখনা, আনোখা পেয়ার; অনিল বিশ্বাস
৩. ঝিলমিল সিতারো, নাজ; অনিল বিশ্বাস
৪. উয়ো পাস আ রাহা হ্যায়, সমাধি; সি রামচন্দ্র
৫. জীবন কে সফরমে, মুনিমজি; এসডি বর্মন
৬. ঠাণ্ডি হাওয়ায়ে, নওজোয়ান; এসডি বর্মন
৭. হ্যায় ক্যাহি পার, আঁধিয়া; উস্তাদ আলী আকবর খান
৮. চল দিয়া, ফিফটি ফিফটি; মদন মোহন
৯. মুশকিল হ্যায় বহত, মহল; খেমচান্দ প্রকাশ

মীনা কাপুর
সঙ্গীত শিল্পী
১. আল্লা তেরো নাম, হামদোনো; জয়দেব
২. জ্যোতি কলস, ভাবি কি চিড়িয়া; সুধীর ফাড়কে
৩. জীবন ডোর তুম হি সঙ্গ, সতীসাবিত্রি; লক্ষিকান্ত পেয়ারেলাল
৪. পিয়া তোসে ন্যায়না, গাইড; এসডি বর্মন
৫. তু যাহা যাহা চালেগা, মেরা সায়া; মদন মোহন
৬. তুম কাহা হো, নাজ; অনিল বিশ্বাস
৭. না কোয়ী উমাঙ্গ হ্যায়, কাটি পতঙ্গ; এসডি বর্মন
৮. ক্যাহি দ্বীপ জ্বালে, বিস সাল বাদ; হেমন্ত কুমার
৯. ক্যায়সে দিন বিতে, অনুরাধা; পণ্ডিত রবিশঙ্কর
১০. যো তুম ছোড়ো পিয়া, ঝনক ঝনক পায়েল বাজে; বসন্ত দেশাই

মান্না দে
সঙ্গীতশিল্পী
১. খোয়াব মে কোয়ি, রাজিয়া সুলতানা; খৈয়াম
২. আজ ফির জিনেকা তামান্না, গাইড; এসডি বর্মন
৩. ন্যায়না বরসে, উয়ো কওন থি; মদন মোহন
৪. র‌্যাহে না র‌্যাহে হাম, মমতা; রোশান
৫. অ্যায় দিলরুবা, সোহরাব রুসতম; সাজ্জাদ হুসাইন
৬. আল্লা তেরো, হামদোনো; জয়দেব
৭. রসিক বালমা, চোরি চোরি; জয়কিষেণ
৮. ধীরে সে আযা, আলবেলা; সি রামচন্দ্রন
৯. হায় রে উয়ো দিন, অনুরাধা; পণ্ডিত রবিশঙ্কর
১০. ঈশ্বর সত্য হ্যায়, সত্যম শিবম সুন্দরম; লক্ষিকান্ত পেয়ারেলাল

Image
lata_krnarayanan.jpg


মার্চ ২১, ২০০১: ভারতের রাষ্ট্রপতি কে আর নারায়ণন ভারতরত্ন পুরস্কার তুলে দিয়েছেন লতা মুঙ্গেশকরের হাতে

লতার নিজের কাছে নিজের সেরা ১০ গান

(১০ বছর আগে বলেছিলেন)

১. আয়েগা আনেওয়ালা, মহল; খেমচান্দ প্রকাশ
২. পেয়ার কিয়া তো ডারনা ক্যায়া, মুঘলি আযম; নওশাদ
৩. আযা রে পরদেশী, মধুমতি; সলিল চৌধুরী
৪. কাহি দ্বীপ জ্বলে কাহি দিল, বিস সাল বাদ; হেমন্ত কুমার
৫. আল্লাহ তেরো নাম, হামদোনো; জয়দেব
৬. ন্যায়না বরসে রিমঝিম, উয়ো কওন থি; মদন মোহন
৭. আ জানে যা, ইনতিকাম; লক্ষীকান্ত পেয়ারেলাল
৮. বিন্দিয়া চমকেগি, দো রাস্তে; লক্ষীকান্ত পেয়ারেলাল
৯. দিল দিওয়ানা, ম্যায়নে পেয়ার কিয়া; রামলক্ষণ
১০. জিয়া জ্বালে জাঁ জ্বালে, দিল সে; এ আর রেহমান


তথ্যসূত্র
Lata Mangeshkar: A Biography, by Raju Bharatan; Filmfare, June 1- 15, 1987; Sunday, 14-20 March, 1999 and Internet.

ashishcb95@gmail.com

Image
free counters

বন্ধুদের কাছে লেখাটি ইমেইল করতে নিচের tell a friend বাটন ক্লিক করুন: