১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

লীনা দিলরুবার ‘মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ’: অপ্রাপ্তির নন্দনতত্ত্ব ও আত্মপরিচয়ের সংকট

‘মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ’ প্রেমের গল্পের আড়ালে আসলে ‘সম্ভাব্য জীবনের’ গল্প। ধ্রুব বাস্তবের একটি জীবন যাপন করে, কিন্তু মনে মনে অসংখ্য জীবনে সে বাঁচে। অহনা তাকে বাস্তবের দিকে ফিরিয়ে আনতে চায়; নীরা তাকে নিজের কল্পনার বিপদ চিনতে শেখায়। আর ধ্রুব শেষ পর্যন্ত এমন এক মোড়ে এসে দাঁড়ায়, যেখানে পথের চেয়ে পথ বেছে নেয়ার দায়ই বড় হয়ে ওঠে। গল্পটির সবচেয়ে বড় সাফল্য এখানেই যে, এটি পাঠককে ধ্রুবকে ভালো বা মন্দ বলে বিচার করার সহজ সুযোগ দেয় না।

তৌফিক জহুর তৌফিক জহুর

Published : 11 Sep 2026, 05:46 PM

Updated : 17 Sep 2026, 02:58 AM

গত ১০ সেপ্টেম্বর আর্টস-এ প্রকাশিত লীনা দিররুবার গল্পটি একবার... দুবার... তিনবার... লা জওয়াব হয়ে গেলাম। লীনা দিলরুবাকে আমি আপা বলে সম্বোধন করি, সেটিও সাত বছর হতে চললো। আমার সম্পাদিত উদ্যান লিটল ম্যাগাজিনে তিনি একগুচ্ছ কবিতা দিয়েছিলেন ২০১৯ সালে। তাঁর কবিতার গভীরতায় আমি মুগ্ধ। তাঁকে চিন্তাজ্ঞান করি কবি হিসেবে। কিন্তু তিনি যে গল্প লেখায় এতো দক্ষ ও অসাধারণ চিন্তা-দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করতে জানেন তা জানা ছিলো না। এই " মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ " নিয়ে আমি একটি বয়ান তৈরি করছি। লীনা দিলরুবার ‘মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ’ মূলত কোনো সরল প্রেমের গল্প নয়; এটি মানুষের আকাঙ্ক্ষা, অপ্রাপ্তি, দাম্পত্যের ক্লান্তি, নৈতিক দ্বিধা এবং সম্ভাব্য জীবনের প্রতি এক গভীর মনস্তাত্ত্বিক আকর্ষণের গল্প। গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র ধ্রুব এমন এক মানুষ, যে বাস্তব জীবনের চেয়ে সম্ভাব্য জীবনগুলোর প্রতি বেশি আকৃষ্ট। ফলে তার সংকট কোনো নির্দিষ্ট নারীকে পাওয়া বা না পাবার সংকট নয়; বরং নিজের ভেতরে বসবাস করা অসংখ্য ‘সম্ভাব্য ধ্রুব’-এর সঙ্গে তার অবিরাম সংঘর্ষ। এই জায়গা থেকেই গল্পটির নাম ‘মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ’ বিশেষ তাৎপর্য অর্জন করেছে বলে মনে হয়েছে । মোড় এখানে ভৌগোলিক স্থান নয়, বরং অস্তিত্বের একটি মানসিক অবস্থান। গল্পের সূচনাতেই ধ্রুবর নামের সঙ্গে তার চরিত্রের একটি তাৎপর্যপূর্ণ বৈপরীত্য নির্মিত হয়েছে। ‘ধ্রুব’ নামটি স্থিরতা, নির্দিষ্টতা ও দিকনির্দেশের প্রতীক; অথচ চরিত্রটি নিজের জীবনের পথ নির্ধারণেই অনিশ্চিত। এই নাম চরিত্র বৈপরীত্য গল্পের একটি সূক্ষ্ম নন্দনতাত্ত্বিক কৌশল। সে যেন এমন একজন মানুষ, যে অন্যদের কাছে পথের সম্ভাবনা দেখাতে পারে, কিন্তু নিজের জন্য কোনো পথকে চূড়ান্ত বলে গ্রহণ করতে পারে না। লীনা দিলরুবা এই মনস্তাত্ত্বিক অস্থিরতাকে প্রেমের প্রচলিত রোমান্টিক ভাষায় সীমাবদ্ধ না রেখে অস্তিত্ববাদী প্রশ্নে উন্নীত করেছেন। এটি তাঁর মুন্সীয়ানা। গল্পের অন্যতম শক্তিশালী ভাবনা হলো ‘বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা’ এবং ‘বেছে না নেয়ার যন্ত্রণা। ধ্রুব উপলব্ধি করে, একটি জীবন বেছে নেয়া মানেই অসংখ্য সম্ভাব্য জীবনকে হারিয়ে ফেলা। এই ধারণাটি গল্পকে নিছক সম্পর্কের কাহিনি থেকে মানুষের অস্তিত্বের বৃহত্তর প্রশ্নে নিয়ে যায়। হারিয়ে যাওয়া পথ বাস্তবের চেয়ে স্মৃতিতে সুন্দর হয়ে ওঠে, কারণ বাস্তবের জীবনকে প্রতিদিন বহন করতে হয়, কিন্তু কল্পিত জীবনকে বহন করতে হয় না। কল্পনার জীবন কখনো রান্নাঘরের ধোঁয়া, বিদ্যুতের বিল, অসুখ, বিরক্তি কিংবা দৈনন্দিন ক্লান্তির মুখোমুখি হয় না। ফলে অপ্রাপ্তি এখানে এক ধরনের নান্দনিক নিরাপত্তা তৈরি করে। এই জায়গায় অহনা চরিত্রটি গল্পের নৈতিক ও বাস্তববাদী ভারসাম্য রক্ষা করেছে। অহনার বক্তব্য, “তোমার সামনে যা আছে, তুমি সেটা দেখো না। যা নেই, সারাজীবন তার দিকে তাকিয়ে থাকো”, কেবল স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ নয়; এটি ধ্রুবর চরিত্রের মনস্তাত্ত্বিক ব্যাখ্যাও। অহনা ধ্রুবকে ভালোবাসে কি না, সে প্রশ্নের সরল উত্তর গল্প দেয় না। বরং দীর্ঘ দাম্পত্যের মধ্যে ভালোবাসা, অভ্যাস, দায়িত্ব, সন্তান, অপমান, ক্ষমা এবং সহাবস্থানের যে জটিল স্তর তৈরি হয়, গল্প সেটিকেই প্রশ্নের সামনে দাঁড় করায়। “থাকা আর ভালোবাসা এক?” এই প্রশ্নটি তাই গল্পের অন্যতম কেন্দ্রীয় দার্শনিক মুহূর্ত।

অহনা চরিত্রটির সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো, তাকে কেবল ‘অবহেলিত স্ত্রী’ হিসেবে নির্মাণ করা হয়নি। তারও রাগ আছে, অহং আছে, ভুল আছে, কঠিন ভাষা আছে। কিন্তু একই সঙ্গে গভীর পর্যবেক্ষণশক্তিও নির্মাণ করা হয়েছে । ধ্রুব যখন নীরাকে কেন্দ্র করে নিজের নতুন জীবনের স্বপ্ন নির্মাণ করছে, অহনা তখন বুঝতে পারছে, সমস্যাটি কেবল নীরা নয়। সমস্যাটি ধ্রুবর ভেতরের সেই মানুষটি, যে কখনো বর্তমানকে সম্পূর্ণভাবে গ্রহণ করতে পারে না। ফলে অহনা ধ্রুবর প্রতিদ্বন্দ্বী নয়; বরং তার আত্মপ্রবঞ্চনার সবচেয়ে নির্মম আয়না। গল্পে নীরা আরও জটিল একটি নৈতিক অবস্থান তৈরি করে। প্রচলিত প্রেমের গল্পে নীরা হয়তো ‘অন্য নারী’ হিসেবে উপস্থাপিত হতে পারত। কিন্তু লেখক তাকে সেই সহজ কাঠামো থেকে বের করে এনেছেন। নীরা ধ্রুবকে আকর্ষণ করে, তার প্রতি মায়া অনুভব করে, এমনকি নিজের ভেতরে তার জন্য আকাঙ্ক্ষাও স্বীকার করে; কিন্তু সেই আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তব সম্পর্কের নামে বৈধতা দিতে অস্বীকার করে। তার বক্তব্য, “চাওয়ার সঙ্গে নেয়ার মধ্যে পার্থক্য আছে”, গল্পের নৈতিক কেন্দ্রগুলোর একটি। শব্দের প্রকৌশলী লীনা দিলরুবা এই জায়গাটা অসাধারণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। 

নীরার সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ সংলাপ সম্ভবত: “তোমার ঘোর কেটে যাওয়ার ভয়!” এই বাক্যে গল্পের প্রায় সমগ্র মনস্তত্ত্ব সংকুচিত হয়ে এসেছে। ধ্রুব নীরাকে যতটা ভালোবাসে, তার চেয়ে বেশি ভালোবাসে নীরার মাধ্যমে নিজের যে সংস্করণটি দেখতে পায় তাকে। নীরা তার কাছে কেবল একজন নারী নয়; সে ধ্রুবর কল্পিত আত্মপরিচয়ের আয়না। নীরা এই বিপদটি বুঝতে পারে। সে জানে, দূরত্বে থাকা মানুষকে শিল্পের মতো মনে হতে পারে; কিন্তু কাছাকাছি এলে তার মানবিক সীমাবদ্ধতা দৃশ্যমান হয়। এই উপলব্ধিই তাকে ধ্রুবর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করতে শক্তি দেয়। এখানেই গল্পটি প্রেমের প্রচলিত নৈতিকতার চেয়ে গভীরতর একটি প্রশ্ন উত্থাপন করে: কাউকে ভালোবাসা কি তাকে নিজের করে পাওয়ার অধিকার তৈরি করে? নীরা এই প্রশ্নের উত্তরে ‘না’ বলে দেয়। তার কাছে ভালোবাসা মানে শুধু আকাঙ্ক্ষার পূর্ণতা নয়; অন্য মানুষের জীবনকে নিজের ইচ্ছার জন্য ধ্বংস না করার ক্ষমতাও ভালোবাসার অংশ। এই অবস্থান গল্পটিকে একটি পরিণত নৈতিক বোধ প্রদান করেছে।

ধ্রুবর যৌনপল্লির মেয়েটিকে ‘সোনিয়া’ হিসেবে দেখার প্রসঙ্গটিও মনস্তাত্ত্বিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে সে বাস্তব নারীটির চেয়ে নিজের একটি ‘মহৎ সংস্করণ’-এর প্রেমে পড়ে। এই আত্মপ্রতারণা পরবর্তী নীরা সম্পর্কের পূর্বাভাস তৈরি করে। অর্থাৎ ধ্রুব বারবার নারীর মধ্যে নিজের কাঙ্ক্ষিত সত্তাকে আবিষ্কার করে। ফলে তার প্রেমের ইতিহাস আসলে নারীদের ইতিহাস নয়, নিজেকে নির্মাণ করার ব্যর্থ প্রচেষ্টার ইতিহাস।

এই গল্পটির আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো ‘ঘোর’ ধারণার পুনরাবৃত্ত ব্যবহার। প্রেম, কামনা, অভিমান, এমনকি সংসারও এখানে ঘোর হিসেবে বিবেচিত। এই ধারণা গল্পকে মনস্তাত্ত্বিক বাস্তবতার দিকে নিয়ে যায়। মানুষ যে সিদ্ধান্তকে ‘নিজের সিদ্ধান্ত’ মনে করে, তার পেছনে কতটা আকাঙ্ক্ষা, ভয়, অভ্যাস, সামাজিক চাপ কিংবা মুহূর্তের আবেগ কাজ করে, গল্পটি সে প্রশ্নও উত্থাপন করে।

ভাষা প্রয়োগে দক্ষতা 

ভাষার দিক থেকে গল্পটি সংলাপনির্ভর এবং দার্শনিক। অনেক জায়গায় চরিত্রের সংলাপই গল্পের ব্যাখ্যাকারী হয়ে উঠেছে। ফলে পাঠককে চরিত্রের মনোজগৎ বোঝার জন্য আলাদা কোনো বর্ণনাকারীর ওপর খুব বেশি নির্ভর করতে হয় না। ছোট ছোট বাক্যে দীর্ঘ সম্পর্কের জটিলতা ধরার চেষ্টা লেখকের একটি উল্লেখযোগ্য গুণ। বিশেষত ‘থাকা’, ‘ভালোবাসা’, ‘মায়া’, ‘চাওয়া’, ‘পাওয়া’, ‘ঘোর’ এবং ‘অপ্রাপ্তি’কে ঘিরে সংলাপগুলো গল্পের বৌদ্ধিক পরিসর তৈরি করেছে।

মনস্তাত্ত্বিক সীমাবদ্ধতা 

গল্পটির গঠনগত দিক থেকে একটি সীমাবদ্ধতাও আছে। গল্পের প্রথমাংশে ধ্রুবকে কেন্দ্র করে যে মনস্তাত্ত্বিক আবহ তৈরি হয়, পরবর্তী অংশে নীরা ও ধ্রুবর অতীত সম্পর্কের বিস্তৃত বিবরণে গল্প কিছুটা দীর্ঘ হয়ে যায়। একই ধারণা, বিশেষ করে ধ্রুবর অপ্রাপ্তির প্রতি আকর্ষণ এবং নীরার নৈতিক দ্বিধা, কয়েকটি ভিন্ন সংলাপের মাধ্যমে পুনরাবৃত্ত হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কিছু সংলাপ ও ব্যাখ্যা সংক্ষিপ্ত করলে গল্পটির ঘনত্ব আরও বাড়ত এবং শেষের ‘মোড়’ দৃশ্যটি আরও তীব্র অভিঘাত তৈরি করতে পারত বলে মনে হয়েছে। 

আরেকটি বিষয় হলো, নীরার অতীতের সম্পর্ক এবং তার মানসিক পরিবর্তনের ব্যাখ্যা কিছুটা প্রত্যক্ষভাবে বলা হয়েছে। শব্দের প্রকৌশলী লীনা দিলরুবা যদি এর কিছু অংশ ইঙ্গিত, আচরণ, স্মৃতি বা দৃশ্যের মাধ্যমে প্রকাশ করতেন, তাহলে চরিত্রটির রহস্য ও নান্দনিকতা আরও বৃদ্ধি পেতে পারত। কারণ নীরা চরিত্রটির সবচেয়ে বড় শক্তিই তার না বলা অংশ। সেই অনুচ্চারিত অঞ্চলকে আরও কিছুটা খোলা রাখলে গল্পের পাঠ ও সম্ভাবনার আকাশ আরো বিস্তৃত হতো।

বয়ান শেষ হচ্ছে যেভাবে

গল্পটির সমাপ্তি হয়েছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে। ধ্রুব মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকে, কিন্তু লেখক তাকে কোনো নির্দিষ্ট পথে পাঠায় না। এটি কোনো অসম্পূর্ণ সমাপ্তি নয়; বরং সচেতনভাবে নির্মিত Open ending। কারণ ধ্রুবর সংকটের কোনো সহজ সমাধান নেই। সে অহনার কাছে ফিরবে কি না, নীরার কাছে যাবে কি না, নাকি কোনো নারী ছাড়াই নিজের সঙ্গে বসবাস করতে শিখবে, গল্প তা নির্ধারণ করে না। এই অনিশ্চয়তাই চরিত্রটির অস্তিত্বগত অবস্থাকে সত্য করে তোলে।

সবশেষে বলা যায়, ‘মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ’ প্রেমের গল্পের আড়ালে আসলে ‘সম্ভাব্য জীবনের’ গল্প। ধ্রুব বাস্তবের একটি জীবন যাপন করে, কিন্তু মনে মনে অসংখ্য জীবনে সে বাঁচে। অহনা তাকে বাস্তবের দিকে ফিরিয়ে আনতে চায়; নীরা তাকে নিজের কল্পনার বিপদ চিনতে শেখায়। আর ধ্রুব শেষ পর্যন্ত এমন এক মোড়ে এসে দাঁড়ায়, যেখানে পথের চেয়ে পথ বেছে নেয়ার দায়ই বড় হয়ে ওঠে। গল্পটির সবচেয়ে বড় সাফল্য এখানেই যে, এটি পাঠককে ধ্রুবকে ভালো বা মন্দ বলে বিচার করার সহজ সুযোগ দেয় না। বরং তাকে মানুষের দুর্বলতা, আকাঙ্ক্ষা, আত্মপ্রবঞ্চনা ও নৈতিক দ্বিধার জটিল প্রতিরূপ হিসেবে দেখতে বাধ্য করে। নীরা এবং অহনাও সেই জটিলতার ভিন্ন দুই প্রতিচ্ছবি। একজন বাস্তবের দায় শেখায়, অন্যজন অপ্রাপ্তির নৈতিক সৌন্দর্য। ফলে গল্পটি শেষ হয় না ধ্রুবর হাঁটা দিয়ে; বরং পাঠকের নিজের ভেতরের সেই মোড়ে এসে, যেখানে প্রত্যেক মানুষ কোনো না কোনো সময়ে দাঁড়িয়ে নিজেকে প্রশ্ন করে: আমি যে জীবনটিতে বেঁচে আছি, সেটিই কি আমার জীবন, নাকি আমি এখনও কোনো না পাওয়া জীবনের দিকে তাকিয়ে আছি? অর্থাৎ আমি এমন এক কাল্পনিক জীবনেও বেঁচে আছি আপাতভাবে যেখানে আমি যাপনই করছি না। তার মানে যা কিছু অদৃশ্যমান যা ঘটেনি, সেখানেও মানুষ বাস্তবের মতোই যাপন করে। লেখিকা এক অর্থে আমাদেরকে জানাতে চান যে বাস্তব ও কল্পনা আসলে একই বস্তুর দুই দিক; একটি আরেকটি থেকে বিচ্ছিন্ন নয়, বরং উভয়ে সহোদরের মতোই আমাদের জীবনে যাপন করে। আর এই কারণে কল্পনা বাস্তবতার চাইতে কোনো অর্থেই কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। 

এই আলোচনার সঙ্গে গল্পটি যারা মিলিয়ে পড়তে আগ্রহী তাদের জন্য গল্পের লিংকটি নিচে দেয়া হলো:

মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ : https://bangla.bdnews24.com/arts/%E0%A6%97%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%AA/87c3f782031e