Published : 23 Oct 2025, 04:20 PM
সাফল্য নামের সোনার হরিণের পেছনে না দৌড়ে কবিকে নিজের প্রতিভার কাছে সবসময় বিস্বস্ত থাকার কথা বলেছিলেন তিনি। যা লিখেছেন ব্যক্তিজীবনে তার চর্চাও করেছেন। চারদিকের ভীড়, কোলাহল, প্রদর্শনকামিতার বিপরীতে জীবনানন্দ দাশ ছিলেন ব্যতিক্রম। আর কিছু নয়, যেন কেবল শিল্পের কাছেই ছিল তাঁর সমস্ত দায়বদ্ধতা। যদিও এই শিল্পিত জীবন কাটাতে গিয়ে তাঁকে দেখতে হয়েছে সাহিত্যের বাজারের নির্দয় দলাদলি, বহন করেছেন দারিদ্রের অপরিসীম গøানি, দিনের পর দিন বেকার থাকার যন্ত্রণা কুড়ে কুড়ে খেয়েছে জীবনটাকে, তবু হেমন্তের ঝড়ে ঝরে যাবার আগে বলেছেন-- ‘জীবন অগাধ!’
কবি পরিচয়ের বাইরে অসংখ্য গল্প-উপন্যাসেরও যে তিনি রচয়িতা ছিলেন তাঁর অকাল মৃত্যুর আগে কারো পক্ষে সেগুলো পড়ার সুযোগ হয়নি। কারণ এর কোনোটিই জীবনানন্দের জীবৎকালে প্রকাশিত হয়নি । কবির মহাপ্রয়ানের পর তাঁর পরিবারের সম্মতিতে ভূমেন্দ্র গুহ জীবনানন্দের অপ্রকাশিত লেখার প্রত্নখননের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। সেসময় টাঙ্কে রাখা অজস্র কবিতা-গল্প-উপন্যাসের পাণ্ডুলিপির সঙ্গে জীবনানন্দের ডায়েরিও উদ্ধার হয়। ডায়েরি বলতে ‘লিটারারি নোটস’ নামাঙ্কিত ৫৬টি এক্সারসাইজ-খাতা যার পৃষ্ঠাসংখ্যা ছিল মোট ৪,২৭২ এবং শব্দসংখ্যা ৬৬২,১৬০। (দিনলিপি/ভূমিকা, প্রথম খণ্ড)।
এইসব ডায়েরি বা লিটারারি নোটস প্রসঙ্গে ভুমেন্দ্র গুহ বলেছেন, ‘জীবনানন্দ দুই সিরিজে তাঁর ডায়েরির কাজ চালিয়ে গিয়েছিলেন। প্রথণম বড় সিরিজটা দুই বিশ্বযুদ্ধের মধ্যবর্তী বছর গুলিতে, বিশ্বমন্দার আগে-পরে। বাংলার সশস্ত্র স্বাধীনতা আন্দোলনের তখন তুঙ্গ সময়। দ্বিতীয়টা, অর্থাৎ, পরের ছোট সিরিজটা দেশভাগের ও তাঁর উদ্বাস্তু হয়ে যাওয়ার আগে-পরে লেখা।’
এর নাম কেন ‘লিটারারি নোটস’, ভুমেন্দ্র গুহের অভিমত, ‘এমন-কী, তাঁর ডায়েরি‘র নামটা যে তিনি দিয়েছেন ‘লিটারারি নোটস’, এই ছোট্ট উপলব্ধিটাও তাঁর টমাস হার্ডির রোজনামচার নামটার থেকে হয়তো-বা: ‘লিটারারি নোটবুকস’, বুক আর পাবেন কোথায় হাড়হাভাতে জীবনানন্দ দাশ, তাঁর তো এক্সারসাইজ-খাতাই সম্বল, অতএব তাঁর ডায়েরির নামটা হল ‘বুকস’ শব্দাংশটা পরিহার ক’রে ‘লিটারারি নোটস।’
ব্যক্তিগত বিষয় এবং সাহিত্যিক ভাবনাকে প্রাসঙ্গিক করে লেখা খাতার পর খাতা জুড়ে ছড়িয়ে থাকা লিটারারি নোটস ১৯২৫ সালের জুলাই মাসে আরম্ভ হয়ে কিছুদূর গিয়ে থেমে যায়। ১৯২৯ সালের এপ্রিলে কবি ফের ডায়েরি লেখা আরম্ভ করেন যদিও প্রথমদিকের ঠাসবুনোটের মতো লেখার ধরন ১৯২৯ সালের দিকে মোড় ঘুরে টেলিগ্রাফিক কোড চরিত্রের হয়ে গিয়েছিল। আমাদের ধারণা খাতাগুলো কখনো জনসমাজে গোচরিভূত হলে যেন অর্থ উদ্ধারের উর্ধ্বে থাকে এজন্য হয়তো জীবনানন্দ লেখার জন্য টেলিগ্রাফিক কোড পদ্ধতি বেছে নেন।
কবি পরিবারের সদস্য, তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র অমিতানন্দ দাশ, ‘অপ্রকাশিত জীবনানন্দ’ শিরোনামের এক লেখায় জানান--
‘বাংলায় লিখতে শুরু করার পরেও জীবনানন্দ ব্যক্তিগত ডায়েরি লিখতেন বাংলা-ইংরেজি মিশিয়ে বেশির ভাগটা ইংরেজিতে। সারা জীবন লিখে গিয়েছেন খাতার পর খাতা। কিছু হারিয়ে গেছে, কিছু পাঠোদ্ধার করা প্রায় অসম্ভব। সব বাদ দিয়েও আছে বেশ কিছু। ডায়েরিতে রূঢ় বাস্তবকে খোলাখুলি লেখা হয়েছে--নিজের ও ঘনিষ্ঠতম লোকেদের বিষয়ে নির্মমতম অনুভূতিগুলি পর্যন্ত ! এই কারণেই তাঁর স্ত্রী, ভাই, বোন ও মেয়ে ডায়েরিগুলি (বা তার অংশবিশেষ) ছাপাতে দ্বিধা বোধ করেছেন।’
প্রসঙ্গান্তরে অমিতানন্দ আরো জানান, ‘কখনও একই দিনে দুটি খাতায় লিখেছেন personal ও general বক্তব্য। কয়েকটি খাতার নাম literary notes, যদিও গল্পের প্লট ও সাহিত্যের কথার ফাঁকে ফাঁকে নানা বিষয়েও বক্তব্য আছে তার মধ্যে। অনেক সময়ে তারিখ আছে, আবার মাঝে মাঝে নেই।’
লিটারারি নোটস বা খাতাগুলো নিয়ে কলকাতার ‘প্রতিক্ষণ প্রকাশনী’ ২০০৯ সালে ভূমেন্দ্র গুহের গবেষণা ও সম্পাদনায় ‘জীবনানন্দ দাশ, শেষ ছ’বছর পাণ্ডুলিপি সংস্করণ ১ ও ২’ শিরোনামে দুটো গ্রন্থ প্রকাশ করে। অন্যদিকে একই প্রকাশনী থেকে ‘জীবনানন্দ দাশ: দিনলিপি: লিটারারি নোটস’--১৯২৫, ১৯২৯ এবং ১৯৩০ এর ভুক্তি সমৃদ্ধ ডায়েরিকে কেন্দ্র করে চারখণ্ডের সুবিশাল সংকলনটি ভূমেন্দ্র গুহের উদ্ধার ও বিশ্লেষণে এবং গৌতম মিত্রের সহযোগিতায় যখন প্রকাশিত হয় ততদিনে খাতাগুলোর বয়স আশি পেরিয়ে গেছে।
প্রতিক্ষণের চারখণ্ডের ‘দিনলিপি’ বিশাল এক কর্মযজ্ঞ। কোডেড ভাষায় লিখিত জীবনানন্দের সবগুলো ডায়েরিকে ভূমেন্দ্র গুহ কেবল আনকোড করার চেষ্টা করেননি বরং লিখিত ভুক্তিগুলোর ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ নিয়ে গদ্যের ডালপালা বহুদিকে প্রসারিত করেছেন। জীবনানন্দ প্রচুর গল্প-উপন্যাস পড়তেন। পড়তে পড়তে টুকিটাকি ভাবনা লিখে রাখতেন ‘লিটারারি নোটস’-এ। ভূমেন্দ্র গুহ এসব ভাবনাগুলোকেও ব্যাখ্যার চেষ্টা করেন।
একটি ভুক্তির উদাহরণ দেয়া যাক, যার ব্যাখা-বিশ্লেষণ করে ভূমেন্দ্র গুহ কবির সাহিত্য বিষয়ক ভাবনার সমান্তরালে তাঁর মনস্তত্ব এবং ব্যক্তিচরিত্র সস্পর্কে ধারণা দেবার চেষ্টা করেছেন।
From stoic: Nervous guineafowl- H's not [...] children (Pragen & Loly) apoplectic- pet abomination embodying all the complacent little headed mediocrity of the new generation. Sippers & tasters, without drive, capacity & even vices (he had done most when 28) looked a never to be unbuttoned a calculated hygienic career of Joe & Bob caused no anxiety to them & now an uncomfortable choky feeling above his high round collar game old blighter, cocking hat at Molly? (Send me Molly) a general meeting!- A scent of hair, like hay, her lips bobbed against his nose: rolling the first sip of a special wine against his palate- young beggar- wish I were his age; they said a man as old as he felt: fool!- Independence- Philosophy of having-a good time & never committing oneself what did he object to?: why...the stone of his ring, no go, no devil in any of these fish-veined coddled up young blood, nothing but playing for safety! And himself who as a youth came on the town in 45...they said you changed your body every 2 years and the mind with it too (not a thought- not a feeling the same!)...when a man had nothing left in life except his dinner, his bottle, his cigar & the dreams they give him...No, No! Carpediem! While you lived get something out of it- (দিনলিপি ৪, পৃষ্ঠা: ১৪২৯)।
ভূমেন্দ্র গুহ লিখেছেন, কবি গলসওয়ার্দির ‘আ স্টোয়িক’ গল্প দ্বারা প্রভাবিত হয়ে জীবনানন্দ এই এন্ট্রিটা লেখেন। ‘গল্পে এমন একজন মানুষের কথা বলা হয়েছে যিনি দুঃখ, বেদনা, আনন্দ, অথবা শোক সবকিছু থেকে উদাসীন হয়ে পড়েছেন।’
ভূমেন্দ্র গুহ আরো বলেন--
‘স্টোয়িক নৈতিকতার ভিত্তিতে থাকে এই বোধ : আত্মার অথবা হৃদয়ের নিজস্ব সংস্থানেই শুভবোধ রয়েছে, রয়েছে জ্ঞানে এবং আত্মসংযমে। স্টোয়িক নৈতিকতার আজ্ঞাটা এরকম : ‘যুক্তিকে অনুসরণ করো, সে পথ দেখাবে।’ (দিনলিপি ৪, পৃষ্ঠা: ১৪৩৬)
তিনি আরো যোগ করেন, এপিকিউরিয়ানিজম ছিল স্টোয়িসিজম এর বিপরীত রূপ। বিস্তারিতভাবে একে এভাবেও ব্যাখ্যা করেছেন--
‘এপিকিউরাস (খ্রি. পৃ. ৩৪১-২৭০)- এপিকিউরিয়ানিজম' এর পিতা- প্রচার করেছিলেন যে, জ্ঞান ইন্দ্রিয়ানুভূতির উপর নির্ভরশীল এবং নৈতিক জীবনযাপনের গোড়ায় থাকা উচিত ইন্দ্রিয়সুখ আহরণ, এবং সব-চাইতে তৃপ্তিকর ইন্দ্রিয়সুখ উপার্জন করা তখনই সম্ভবপর হতে পারে যখন মানসিক অথবা শারীরিক বেদনা থেকে, সন্তাপ থেকে নিজেকে খুব নির্মোহ ভাবে আলগা ক'রে নেওয়া যায়। তা করতে গেলে আকাক্সক্ষাকে যতটা পারা যায় সংক্ষিপ্ত ক'রে ফেলতে হবে, শরীরের সুখানুভূতির থেকে মানসিক সুখানুভূতির দিকে তাকাতে হবে।’ (দিনলিপি ৪, পৃষ্ঠা: ১৪৩৯)
স্টোয়িক এবং এপিকিউরিয়ান উভয় ঘরানার দর্শনই সুখী এবং অর্থবহ জীবনযাপনের দুটি ভিন্ন পদ্ধতি উপস্থাপন করে। স্টোয়িকরা যেখানে কঠিন পরিস্থিতিকে মেনে নিয়ে আত্মনিয়ন্ত্রণে বিশ্বাসী, এপিকিউরিয়ানরা সেখানে সহজ এবং আনন্দময় জীবনযাপনে সুখ খোঁজে। জীবনানন্দ স্টোয়িক এবং এপিকিউরিয়ানিস্ট দুটো ঘরাণার বৈশিষ্টের অধিকারী একজন মানুষ ছিলেন। স্টোয়িকরা বিশ্বাস করে যে মানুষকে প্রকৃতির নিয়ম অনুযায়ী চলতে হবে। প্রকৃতি এবং বিশ্বজগতের নিয়মকে মেনে চলাই জীবনের আসল উদ্দেশ্য। স্টোয়িকরা সাধারণত শান্ত, ধৈর্যশীল এবং আত্মনিয়ন্ত্রিত হয়। তারা দুঃখ, কষ্ট বা অসুবিধাগুলোকে জীবনের অংশ হিসেবে গ্রহণ করে এবং এগুলোকে তাদের উপর প্রভাব ফেলতে দেয় না। অপরদিকে এপিকিউরিয়ানরা সাধারণত সহজ, ধীর, এবং চিন্তাশীল জীবনযাপনে বিশ্বাস করে।
ডায়েরির আরো কিছু ভুক্তি নিয়ে কথা বলা যাক।
সিগনেট প্রেস থেকে ‘কৃষ্ণা দশমী‘ নামে কবিতার বই করার পরিকল্পনা। সঙ্গে সূচিও রয়েছে। ভুক্তিটি এমন--
১৭.৮.১৯৪৮
ভাবিত
কবিতার বই
কৃষ্ণাদশমী
সূচি

জীবনানন্দের ব্যক্তিগত ভাবনার অনেকখানি জুড়ে ছিল দারিদ্র, বেকারত্ব, প্রেমানুভূতি, বিবাহিত জীবনের হতাশা নিয়ে ভাবনাচিন্তা। নানাজনকে লেখা খসড়া চিঠিপত্রের দেখাও মেলে ডায়েরিতে। আছে রোজকার বাজারঘাটের তালিকা। তেল, নুন, দুধ সহ হিসাবের খরচ। ডায়েরিতে লেখা বিভিন্ন ব্যক্তির নাম, মুহূর্তের বর্ণনা, স্থানের নাম নিয়েও ভূমেন্দ্র গুহ বিস্তরিত ব্যাখ্যা দেন। কবি যেসব গল্পের নাম বা যেসব লেখকের নাম উল্লেখ করেছেন ভূমেন্দ্র গুহ তাঁদের দীর্ঘ বর্ণনা দিয়ে উল্লিখিত লেখকদের সাহিত্যকর্ম নিয়ে পাতার পর পাতা বর্ণনা করেছেন। বস্তুতপক্ষে এ-কারণেই চারখণ্ডের এই ‘দিনলিপি’ সাহিত্য অনুরাগীদের কাছে হয়ে পড়েছে বিশ্বসাহিত্য-ইতিহাস-দর্শন ইত্যাদি নিয়ে জানাশোনার বিশাল এক আকর গ্রন্থও।
তিনি বাইবেলটা ভাল মত পড়েছিলেন বলে জানান ভূমেন্দ্র গুহ। বাইবেলের কোনো কোনো লাইনকে লিটারারি নোটসে লিখেও রেখেছেন।
একটা সময় তিনি এডগার এলান পো’র কবিতা একটু একটু বেশিই পড়তেন। এমনই একটা এন্ট্রির উদাহরণ দিয়ে ভূমেন্দ্র গুহ লেখেন, ‘খ্রি. ১৯২৯ পর্যন্ত মনে হয় জীবনানন্দ বেশি মজে ছিলেন তথাকথিত ভাবে আধুনিকতা-পূর্ব রোমান্টিক ইওরোপীয় লেখকদের নিয়ে, যদিও তত দিনে পো’কে এবং আনুষঙ্গিক ভাবে বদলেয়র’কে নিয়ে নাড়াচাড়া করা তাঁর হয়ে গিয়েছে।’ (দিনলিপি ২, পৃষ্ঠা: ৫৪১)
বয়স তিরিশেই কবি যেন জীবনের হেমন্তবেলা দেখে ফেলেছিলেন। এমনই একটা এন্টি--
--সুন্দর মুখ—Music : Eveerything sweet or soft pains me : In the autumn of life —
ভূমেন্দ্র গুহ জানান কীটস এর সঙ্গে জীবনানন্দের নৈকট্য ছিল। কীটস প্রকৃতিকে দু’ভাবে দেখতেন, প্রকৃতি যেমন তাঁকে আনন্দ দিত তেমন মৃত্যুর বেদনাও দিত। তাঁর সনেটগুলো পড়লেই বিষয়গুলো পরিষ্কার হয় বলেও তিনি জানান। জীবনানন্দের ধূসর পাণ্ডুলিপি, রূপসী বাংলা, বনলতা সেন-এ প্রকৃতির যে বর্ণনা সেখানে মৃত্যুও ছায়া ফেলে। ভূমেন্দ্র আরো বলেন, জীবানানন্দের নারীরা তাঁকে শুধু বেদনাই উপহার দেন, এভাবেই তাঁর জীবনে তিরিশের কোঠায়ই হেমন্ত দেখা দেয়। (দিনলিপি ২য় খণ্ড পৃ: ৫৪৫-৫৪৬)।
প্রেম সংক্রান্ত এন্ট্রিগুলো সবই কোডেড। সেগুলোকে আনকোড করে ভূমেন্দ্র গুহ জীবনানন্দের জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত যে নারীটিকে পাঠকের কাছে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন তাঁর নাম শোভনা বা বেবি। কবি যাকে বিওয়াই/ওয়াই নামেও সম্বোধন করেছেন।
ভ‚মেন্দ্র গুহ লেখেন--
‘তাঁর বরিশাল-বাসিত কৈশোরকাল থেকে একজন বিশেষ বন্ধু ছিলেন: ওয়াই। জীবনানন্দ'র পুরো দিনলিপিতে ওয়াই সম্বন্ধে জীবনানন্দ'র সবিশেষ আগ্রহের কথা অনুধাবন করা যায়। জীবনানন্দ'র বোন সুচরিতা দাশ, খুকি/খুকু ডাকনাম, ভবিষ্যৎ-ভ্রাতৃবধূ নলিনী চক্রবর্তী এবং বুলু- এঁরা তিন জন পরস্পর নিকট-সখ্যে ঘনিষ্ঠ ছিলেন; সুচরিতা এবং নলিনী বিশ্ববিদ্যালয়ে সহপাঠী ছিলেন- নলিনী পড়তেন দর্শন, সুচরিতা ইতিহাস- নলিনী'র আগ্রহে দু'জন বন্ধুত্বে আবন্ধ হন। বুলু'র কৈশোরকালের বরিশাল' এর বন্ধু ওয়াই, অবশ্য, পরে আর বরিশাল'এ থাকেন নি, যেমন বুলু'ও থাকেন নি, বিবাহিত হয়ে, অথবা না হয়ে, কলকাতা'য় স্থায়ী ভাবে বসবাস করতে আসেন। জীবনানন্দ এবং ওয়াই বিগত শতকের বিশের দশকে বরিশাল'এ থেকেছেন, আবার তিরিশের দশকের প্রথম পাদে যখন কলকাতা'য় থাকছেন, তখন ওয়াই- যে জীবনানন্দ'র দিবস-রজনী নিদ্রা-জাগরণ মথিত ক'রে রেখেছিলেন, তার ভাষ্য এই দিনলিপিতে পাওয়া যাবে, এবং এ-ও হয়তো জানা যাবে যে, সেই সময় বুলু তাঁর বান্ধবীর সম্বন্ধে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছিলেন, হয়তো-বা কিঞ্চিৎ ।
‘জীবনানন্দ’র এই সময়কালে লেখা একটি উপন্যাসের খাতার প্রথম মলাটের ভিতরের পৃষ্ঠায় পারম্পর্যবিহীন ভাবে হঠাৎই তাঁর নিজের হাতের লেখায় ছোটো-ছোটো হরফে কাত করে লেখা আছে ওয়াই-শচী; এবং প্রায় সমকালে লেখা একটি গল্পের (গ্রাম ও শহরের গল্প) নায়িকা শচী, যে একসময় তার কৈশোরে আকণ্ঠ গ্রামবাংলার ভিতরে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল, কিন্তু এখন কলকাতাবাসী এবং পার্থিব সাফল্যের মানদণ্ডে পূর্ণ সফল। তার কোনও সন্তান নেই, অর্থাৎ সে সেই হারানো দিনের মতোই নির্ভেজাল একা রয়ে গেছে। গল্পের নায়ক, তারও কৈশোর গ্রামবাংলায় কেটেছে, শচী'র পাশাপাশি, কবিতা লেখে, বেকার, এবং এখনও বিয়ে করে নি, কোনও দিন করবে ব'লেও মনে হয় না, এখন কলকাতা'য় থাকছে। অর্থাৎ, জীবনানন্দ নির্ভেজাল একা রেখেছেন দু'জনকেই। বাংলাদেশ আচ্ছন্ন ক'রে রাখে তাদের, গ্রামবাংলা মোহগ্রস্ত ক'রে রাখে, সেখানে যাওয়ার জন্য বায়না ধরে শচী, নায়কও- (সোমেন) যে যেতে চায় না, তা নয়; কিন্তু দু'জনেই উপলব্ধি করে যে, সময় অনেকটাই তত দিনে প্রবাহিত হয়ে গেছে, তা আর হবার নয়। গ্রাম-বাংলার ভীষণ আক্রমণের মধ্যে নায়িকা (শচী) যেমন নিজেকে ছেড়ে দিতে পারবে না, নায়ক সোমেন'ও পারবে না; তাদের বিচ্ছিন্ন নির্বাসন-ভোগই নিয়তি।’ (দিনলিপি ৪র্থ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১৮০১-১৮০২)।
ডায়েরির ক্ষুদে অক্ষর থেকে ভূমেন্দ্র গুহ আবিষ্কৃত এই শোভনা দাশ (পরবর্তিতে শোভনা মজুমদার) জীবনানন্দের কাকা অতুলানন্দ দাশ এবং সরযুবালা দাশ-এর কন্যা। বিয়ের পর স্বামী সুহৃদ মজুমদারের নামের টাইটেলের সঙ্গে মিলিয়ে হয়ে যান শোভনা মজুমদার। বাবা বনবিভাগের বড় কর্মকর্তা, (১৮০৫) শোভনা কলকাতার ডায়োসেসান কলেজে পড়েছিলেন। এর আগে ডিব্রুগড় গভর্নমেন্ট হাইস্কুল থেকে মেট্রিক পাশ করেন।
শোভনার সঙ্গে জীবনানন্দের একধরনের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। খুব সুস্থির ছিল না সম্পর্কটা। ডায়েরির এন্ট্রিগুলো পড়ে মনে হয় যেন বেবি বা শোভনা একটা সময়ে কবির প্রতি দুর্বল ছিলেন, পরে সরে আসেন। হয়তো বিষয়টা একপাক্ষিকই ছিল। সেটা জীবনানন্দের তরফেই বেশি। জীবনানন্দ নিজের বিয়ের আগে-পরে এ-সম্পর্কটা নিয়ে অনেক ভুগেছেন। আত্মমগ্ন থেকে আর ডায়েরির অক্ষরে অক্ষরে বিষাদ ছড়িয়ে ভাবনাগুলোকে টেনে নিয়ে গেছেন বহুদূর। ‘দিনলিপি’তে ভূমেন্দ্র গুহ লেখেন--
‘জীবনানন্দ আসাম'এর ডিব্রুগড়-মাকুম'এ তাঁর কাকা'দের বাড়িতে কাটিয়েছিলেন খ্রি. ১৯২৯ সেপ্টেম্বর-অক্টোবর দু'টো মাস; অতঃপর দিল্লি'র রামযশ কলেজ'এ কনিষ্ঠ মাস্টারের চাকরি নিয়ে দিল্লি চ'লে যান, ডিসেম্বর মাসের আগে নয়, ছিলেন সেখানে খ্রি. ১৯৩০ মার্চ পযন্ত। (দিনলিপি ৪র্থ খÐ, পৃষ্ঠা: ১৬১৯)।
সেই সময়েরই ডায়েরির কোডেড ভাষা উদ্ধার করে ভূমেন্দ্র গুহ জানান--
‘প্রতিদিন ইসকুলের বাস আসে- প্রতিদিন ইসকুল তার প্রতিদিন দূরে, আরও দূরে চ'লে যাচ্ছে বিওয়াই- সে-যে তাঁকে ভালোবাসে, তা মুখের কথায় স্বীকার ক'রে নেওয়া তো তার পক্ষে অসম্ভব ব্যাপার। স্বীকারোক্তিটা তো হতে পারে অনুষ্কারে একটা-দুটো চুমু-টুমু খেয়ে-প্রশ্নই ওঠে না। স্বীকারোক্তিটা শারীর সংসর্গ দিয়েও হতে পারে-প্রশ্নই ওঠে না। তবুও সে ভেনাস?- প্রেমের ও সৌন্দর্যের দেবী? ঢের প্রেমের গল্প তো পড়া গেছে, সে-সব গল্প আর এই গল্পটা। কীসের পাশে কী। দুপুরবেলাগুলি বিরক্তিকর একঘেয়ে শুয়ে থাকা শুয়ে থাকা আর, শুয়ে থাকা। বই পড়ার চেষ্টা করা যায়, একটা পাতা পড়া হয়ে ওঠে না। আর, সন্ধ্যাবেলাগুলি- শোকাবহ গভীর আর, রাতের-বেলাগুলি অস্থির- এবং সেই বিশেষ রাত্রিটা বিওয়াই মশারি খাটিয়ে দিয়ে চ'লে গেল আর, সারাটা রাত্রি না ঘুমিয়ে কেটে গেল তাঁর; আর, ভোরবেলাটা এল নির্ঘুম চোখের উপরে. (দিনলিপি ৪র্থ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১৫৩১)।
ডিব্রæগড়'এ বিওয়াই/ওয়াই মেয়েটির সঙ্গে প্রেম- ট্রেম, চুমু খাওয়া-টাওয়া, ইত্যাদি, হয়েছিল এক রাতে অথবা দিনে, কিন্তু শারীর সংসর্গের কথাটা উঠল যখন, মেয়েটি মাসিক রক্তক্ষরণের হেতু শরীর-খারাপ, এবং আনুষঙ্গিক তলপেটের ব্যথার কারণে হট-ওয়াটার-ব্যাগ, ইত্যাদি, ছুতোয় জিনিসটা এড়িয়ে গিয়েছিলেন। ভালোই করেছিলেন জীবনানন্দ যতই আহত বোধ ক'রে থাকুন না কেন। তাঁর মাত্রাজ্ঞানটা প্রখর ছিল বোঝা যায়; তাঁদের ভিতরের সেই প্রেমটার, সে-যুগের বিচারে, স্বাভাবিক ভাবেই কোনও পরিণতি ছিল না, অতএব জিনিসটাকে আর-বেশি আশকারা দেবারও কোনও মানে ছিল না। জীবনানন্দ তাঁর নিজের আবেগটাতে (এবং মেয়েটিতে) এতটাই 'সত্য' আরোপ ক'রে ফেলেছিলেন যে, বোঝা যায়, তিনি প্রতারিত বোধ করেছিলেন। এই বোধটা অনেক দিন তাঁকে আর ছাড়ল না। (দিনলিপি ৪র্থ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১৬৪৮)।
জীবনানন্দ দাশ তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ঝরা পালক’ শোভনাকে উৎসর্গ করেছিলেন। উৎসর্গের পাতায় লেখেন-- 'কল্যাণীয়াসু'। (দিনলিপি ৪র্থ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১৮০০, ১৮০৭)।
বইটা বাজারে বেরুনোর পর এর একটি কপি শোভনার হাতে পৌঁছয়। উৎসর্গের ব্যাপারটা তখনই শোভনা টের পান এবং কাউকে না জানিয়ে খবরটা অনেকদিন গোপন রাখেন তিনি।
প্রসঙ্গত, জীবনানন্দ তাঁর স্ত্রী লাবণ্য দাশকে কোনো গ্রন্থ উৎসর্গ করেননি।
ভ‚মেন্দ্র গুহ লেখেন, ‘এই প্রেমটারও-যে অসার্থকতা ছাড়া আর কোনও পরিণতি থাকতে পারত না, তা জীবনানন্দ বুঝতেন নিশ্চয়ই, তবু তিনি ঘটনাটাকে এড়িয়ে যেতে পারেন নি, বরং খুব বেশি ভাবে পাকে-পাকে জড়িয়ে পড়েছিলেন, এবং নিজেকে জড়িয়ে থাকতে দিয়েছিলেন হতাশায় ক্ষোভে ক্রোধে বিষণ্ণতায় ও অবাস্তব ব্যর্থতাবোধে ভুগতে-ভুগতে, তাঁর বিয়ের (খ্রী.১৯৩০) পরেও গোটা কয়েক বছর, একতরফা ভাবে, যখন শোভনা খুবই স্বাভাবিক ভাবে নিজেকে বছর তিন-চারেকের অভিজ্ঞতার পরে সরিয়ে নিয়েছিলেন; তিনি খুব বাস্তবতা-সচেতন মহিলা ছিলেন, এবং বৈষয়িক ব্যাপারে উচ্চাকাঙ্ক্ষীও; জীবনানন্দ যে তা ছিলেন না, অন্তত সে-সময়ে, তা বোঝাই যায়, অতএব তাঁর ভোগান্তিটাও দুর্বিসহ ছিল।’(দিনলিপি ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা-১১৬৫)।
কোডেড ভাষায় লিখিত আরেকটি এন্ট্রি --
Vision of burial place
ভূমেন্দ্র গুহ লিখেছেন, ‘বি-ওয়াই’র সঙ্গে খুবই তোড়পাড়-করা একটা প্রেম তখন ভেঙে গেছে, প্রেমের সমাধিভূমি চোখে পড়ছে: কোলরিজ’ এর ‘লাভ’স বেরিয়াল প্লেস’ কবিতাটা সদ্য পড়েছেন’।
Love's Burial-Place
Lady. If Love be dead —
Poet. And I aver it!
Lady. Tell me, Bard! where Love lies buried?
Poet. Love lies buried where 'twas born:
Oh, gentle dame! think it no scorn
If, in my fancy, I presume
To call thy bosom poor Love's Tomb.
And on that tomb to read the line: —
" Here lies a Love that once seem'd mine,
But caught a chill, as I divine,
And died at length of a Decline."
‘দ্বিতীয়ত, সরলার্থেই তিনি হয়তো তাঁর সান্ধ্য ভ্রমণে একটা শ্মশান-ভূমি ঘুরে এসেছেন, প্রকৃতি উপভোগের স্মৃতিটা আর ঝেড়ে ফেলতে পারছেন না, ব্রায়ান্ট’এর ‘দ্য বেরিয়াল-প্লেস’ কবিতাটা মনে প’ড়ে গেছে : সেটাও তো এক ধরনের ভিশন, দৈনন্দিনতায় সাধারণ হলেও : জীবনানন্দ’র প্রথম পাদের কবিতায় শ্মশান-ভূমির আখ্যান কী আর কম, বিশেষত তরুণী নারীদের, শিশুদের!’
জীবনানন্দের ডায়েরি থেকে কবির ভ্রাতুষ্পুত্র অমিতানন্দ দাশ এর লেখা থেকে নির্বাচিত কয়েকটি ভুক্তি তুলে ধরা যাক।
4/8/33
What to do? Tea Shop? Sweet Shop? Bakery? Poultry? Fish Farming? Opium Selling? Wine Shop? Shoe Making? Plaster from roof fell on my head early morning…
8/9/33
I have missed the real girl…the real wK‡kvix or something materially poor but spiritually rich…I cannot with honesty call up any girl who radiated my past experience…’’
১৭/৯/৩৩
he same old rejection - কথা বন্ধ・・・ তুমি আমার কি benefit করেছ চার বছরের মধ্যে? her great concern and solicitudes for me step by step brought down to this callous negativity..."
স্ত্রীকে নিয়ে এ-ধরনের আরো এন্ট্রি আছে
১৬/১২/৩৩
our marriage is scrap সারারাত কাঁদে...উঠে পড়ি। কি করব? আত্মহত্যা? হার্ট ফেল? শীতের রাতে অন্ধকারে পুকুরে ডুবে মরব? আগে এরকম করার পর পায়ে ধরে ক্ষমা চাইত।
বুদ্ধদেব বসু কবিতা লিখতে উৎসাহ দিয়েছিলেন।
১৭/১/৩৪ সালের এন্টি--
‘আজাকালকার ছেলেরা আপনাকে খুব নিচ্ছে। আপনার আরো পাবিøসিটি হওয়া উচিত ছিল। কেন প্রোপাগাÐা করেন না?’
রোজগার কম। হতাশা প্রকাশ পায় দুটো এন্ট্রিতে।
৩/২/৩৪
… M. A পাশ করার পর মাসিক গড় আয় (১২বছরের) ৪০ টাকার কম।
২/৫/৩৪
’’My unemployment…pathetic —মঞ্জুর জন্য ১ গজ রদ্দি ছিট...ছেঁড়া শার্ট--ছেঁড়া ধুতি...।’’
১৬/৫/৩৪
No luck...seeking L. I... A friend বছরে এক লাখ টাকার ছ হাজার কমিশন মাসে ৫০০ টাকা - perhaps my repulsive features & dumbness declaring me a nonentity-I pine for a suit, attache case-equipped agent's round... কিন্তু টাকা কোথায়? ভাল পত্রিকায় আমার লেখা ছাপা হয় না...।’’
কিন্তু তারপরই জানালা দিয়ে পাশের ছাদে একটা চিল দেখে তার বর্ণনা লিখতে শুরু করলেন জীবনানন্দ।
"A kite on the opposite ছাদ・・・ An oldish kite? সোনালি মোটেই নয়-পাটকিলেও নয়, বর্ণের কোনো বাহাদুরি নেই- drab, chimney -র ধোঁয়াকালির মত পেছনের দিকের পালকগুলো, সামনের পালকগুলো almost sluggishly colourless - সামনের দিক দিয়ে মাঝে মাঝে সাদা spot・・・ধানধুয়ের মত grey or natural white feathers-The kite is nonchalant-brave...very tired-very suffering appearance -আধো হাঁ করে কুকুরের মত নিঃশ্বাস ছাড়ছে-ঘাড় মুখ সব দিকে-এমনকি exactly opposite পর্যন্ত ঘোরাতে পারে... a very strange and weird effect..."
এতকিছুর পরও জীবনে ভিন্নরকমের প্রাপ্তি থাকে মানুষের।
১১/৬/৩৪ এর একটি এন্ট্রি--
... Manju whole day, millions of বায়না, কানমলা...বা, বাবা, তুমি কেন মেরেছিলে? So sweet and pathetic...পৃথিবীতে বাস্তবিকই যদি কোনো love থাকে একটি মেয়ের বাপকে ভালবাসা until the age when she begins to explore first the wonder of body & male world..."।
আনন্দ আছে বরিশালের জীবনেও।
২১/৪/৩৫
’’পুরো এক বছর বরিশালে থাকলে nature -এর life -এর সঙ্গে খানিকটা বেশি intimate হতে পারা যায় আমড়া কৃষ্ণচুড়া সবুজ পাতায় ভরে ওঠে...লেবুর উদ্ভব সূর্যমূখী...’’।
‘‘বৈশাখ মাসে বৈরাগীদের গান... বৈষ্ণবীদের গলার মধ্যে কেমন একটা মোহ my mind completely swayed by the charm, greatness, relief, romanticism of Krishna ..সর্বত্যাগী, জর্জরিত, বেদনাক্লিষ্ট দেশসেবক হয়ে সারা জীবন কাটাবার ইচ্ছা।’’
শৈল্পিক চিন্তাগুলো মনের গহীনে যখন দানা বেঁধে উঠেছে তখনই দুঃসংবাদ।
৩/৫/৩৫- এর একটা এন্ট্রি
“’College Salary book - এ লাল কালি দিয়ে আমার নাম কেটে দিয়েছে …Unemployment…Regret, ধিক্কার, অবসাদ।
পেছনের সময়ের কথা মনে ভেসে আসে। তিনি লেখেন--
১৭/৫/৩৫
"I remember Dibrugarh days when I boasted I would be Congress President...after so many years I not even a School teachar"...
"I lonely, quiet, loved by none on earth-but a very peaceful, passive, pleasant time with my own deep and passive thoughts"...
"How happy if I could be a bachelar...spending my time with literature...unending literature...creations & self-reflections."
জীবনানন্দের গাঢ়তর ইন্দ্রিয়ানুভূতি তাঁর কবিতায় ঠাঁই পেয়েছে। কবির ডায়েরি থেকে আমরা ব্যক্তি জীবনানন্দকে খুঁজে পাবার চেষ্টা করি। জীবনানন্দের গল্প-কবিতা-উপন্যাস সহ তার ডায়েরি মিলিয়ে পড়লে এক সামগ্রিক জীবনানন্দ পাঠকের গোচরীভূত হয়। তাই সাহিত্যের জীবনানন্দকে বুঝতে চাইলে ডায়েরির জীবনানন্দকেও আমাদের বুঝতে হবে।