Published : 17 Sep 2025, 08:07 AM
ময়মনসিংহ
ময়মনসিংহ গেলে
এবং ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে এসে দাঁড়ালে
কেবলই মনে হয়
তার সঙ্গে আমার গান গেয়ে পরিচয়!
মহুয়ার আঁচলে বন্দী স্বপ্ন নদী
বিছিয়ে দেয় সিংহ-হৃদয়!
তখন তাকে আর আমার দেখতে ইচ্ছে হয় না
দুর্ভিক্ষের আয়নায়
যে আয়নায় জ্বলজ্বল করছে জয়নুলের অমর কীর্তি।
বরং ইচ্ছে হয় তীব্র শীতে নাড়া পোড়া আগুনের উষ্ণতায়
রাতভর জেগে রই গম্ভীরার জ্যোৎস্নায়।
নেত্রকোনা
আকাশ উন্মুখ মগরা নদীর জল
যেন প্রস্তুত মুছে দিতে সময়ের ব্যর্থ কোলাহল!
নেত্রকোনাকে আমার তাই মনে হয় অন্যরকম
মনে হয় তার টানে বেড়ে যায় জীবনের দম।
সুরের এক অতুল টানে
সব পাখি জড়ো হয় সেখানে।
আর হাওরের বাতাস এসে চুপিসারে
যেন কথা বলে বাউলিয়া ঘোরে!
জীবনের কথা
জীবনের ছলকে মনে হয় না আর ছল।
তুমি যদি বেরিয়ে আসতে পারো নিজের বাইরে
সে তোমাকে রাখবে না দূরে।
ঝিনাইদহ
কবির অমল ভাষ্যে
জীবন যাতনা বিষে
ঝিনুক নীরবে সহে!
আমি সেই ঝিনুকের সন্ধানে এসেছি ঝিনাইদহে।
তুমি অহেতু সন্দেহে
আমাকে ফিরিয়ে দিও না
হাস্নুহেনা।
যদিও বইছে এখন গুজবের হাওয়া
আর সেই গুজবে জ্যোৎস্না জলেও পড়ছে কালো ছায়া।
কিন্তু আমি জানি সে-ই হচ্ছে দামি
সকলে যা বলছে তুমি তার ব্যতিক্রমি।
আর তাই প্রেমের টান স্বতঃস্ফূর্ত উজান!
নইলে কে ভাঙাবে ফুলের অভিমান?
সিলেট
সিলেট যেন শাহজালাল, শাহপরান
দুই মহাপুরুষের আধ্যাত্মিক বাগান!
সৌরভের টানে ছুটে আসে পাখি
দিল বদলের আশেকী!
কিন্তু দিল বদল হয় কি?
না হোক, তারপরও
পাহাড়গুলো মৌন
পাথর ফেটে যদি ছোটে ঝর্ণা!
ফলে ঐদিকে আর গেলাম না
জারিশারি জীবনাভিসারি
কিংবা ফুটন্ত পূর্ণিমার পুঁথি।
শাহ আবদুল করিম, রাধারমণ
কতদূর ছিল তাদের ভাবের ভ্রমণ
সর্বোপরি কোন আশেকে হাছন রাজা
ছিলেন দিওয়ানা?
বাগেরহাট
খুলনা ভ্রমণ শেষে বাগেরহাটে এক চক্কর
সঙ্গে শুধু তারাশঙ্কর।
সংক্ষিপ্ত সফরে ভাসমান মেঘের মুকুরে
তবু তোমার মুখ দেখে ফেলি।
সেকি হেমন্তের হেয়ালি না শীতের অঞ্জলি
শিশির ফোঁটা দীপাবলি।
আমার ভেতর হঠাৎ জেগে উঠল কবি হওয়ার বাসনা
যেন জুঁই ফুলে ফুটে উঠল রাত্রিছেঁড়া সুবর্ণ সকাল!
আমি তাকে আড়াল করতে পারি না
পাতার আড়াল।
মনে হয় বহুদিনের চেনা
অবিকল খান জাহান আলীর কুমিরগুলোর মতো পোষমানা!
কিশোরগঞ্জ
জীবন বহু বাঁকফেরা এক নদী
আর সময় যেন ময়ূর পেখম অতি!
ফলে হে প্রগতিবাদী
তোমার কাছে জানি পাবে না স্বীকৃতি
পাগলা মসজিদের মহান কীর্তি।
আমিও যাব না ঐদিকে
স্থুল অনুরাগে।
তবে বলব হাওরের নরম বাতাস
আমারও নিঃশ্বাস আয়াস।
সেই কারণেই হয়তো স্মৃতি মধুর অতি
আজও ছড়ায় প্রাণের বিভূতি।
স্মৃতিতে যখন ঢুকি
কিশোরগঞ্জ থেকে ডেকে ওঠে দুই প্রাণপাখি
বাংলা কবিতার নির্মল ফুসফুস
আবিদ ও আশুতোষ।
জামালপুর
মেঘলা আকাশ হঠাৎ রোদ্দুর
মনে পড়ে ঐ জামালপুর।
যুগ-যুগান্তর পাটের নৌকার নোঙর
যার আদি পরিচয়।
আমি কখনো যাইনি সেখানে
তবু মনে হয় জীবনের সুর
আছে ওখানে
আছে কতিপয় বাঙালি কবি হৃদয়।
নইলে কোন অনুরাগে
অন্ধের মতো কাছে টানে?
হয়তো এই অনুরাগের বীজ
বপন করে গেছেন কবি আহমদ আজিজ।
ফলে আজও মনে পড়ে তারে
শ্রাবণ-সেতারে
হেমন্তের পত্রশোকে
প্রান্তজনের মর্মর গল্পের ভেতরে।
জীবন চেতনায় দিনবদলের অঙ্গীকারে
তিনি যে ছিলেন তাহাদেরই প্রতিনিধি
জানে ব্রহ্মপুত্র, ভাটিয়ালি নদী।