ভিয়েতনাম-এ কয়েকদিন -- শেষ পর্ব

ভিয়েতনামের লোকজন নিজেরা কোনো ধর্ম মানে না। কিছুদিন আগে পর্যন্ত ওদের দেশে রিলিজিয়াস প্রাকটিস করাই দণ্ডনীয় ছিল।

এইচ এম শরিফুল হাসানএইচ এম শরিফুল হাসান
Published : 31 Jan 2024, 02:00 PM
Updated : 31 Jan 2024, 02:00 PM

মজার ব্যাপার হচ্ছে, যেই হ্যানয় শহর থেকে ইঁদুরের অত্যাচারে অতীষ্ঠ হয়ে ফরাসিরা পালিয়ে বেঁচেছিল একটা সময়ে, সেই শহরে এই একুশ শতকে গিয়ে দেখা গেল একটা মশা পর্যন্ত নাই। রাস্তাঘাট ঝকঝকে তকতকে, কোথাও একটা ধূলিকণা উড়তে দেখা যায় না।

ভিয়েতনামই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় প্রথম ঔপনিবেশিক পরাধীনতামুক্ত দেশ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অবসানে ১৯৪৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর ভিয়েতনাম মুক্ত হয় ফরাসি ঔপনিবেশিক শাসন থেকে।

কিন্তু ফরাসি ঔপনিবেশিক জমানা দেশের দক্ষিণাংশের দখলদারি ছাড়েনি। কারণ তাদের পিছনে ছিল, প্রথমে গোপনে, তারপর প্রকাশ্যে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ।

১৯৬৯ সালে হো চি মিন মারা যান। আর হো চি মিনের মৃত্যুর ছয় বছর পরে, ১৯৭৫ সালে সায়গন দখলদারিত্ব থেকে মুক্ত হয়। ১৯৭৬ সালে উত্তর ও দক্ষিণের অংশ মিলে আত্মপ্রকাশ করে ভিয়েতনাম সমাজতান্ত্রিক সাধারণতন্ত্র।



বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিধর সাম্রাজ্যবাদী দেশ মাথা নত করে হো চি মিনের উত্তরসূরীদের কাছে। ঔপনিবেশিক শাসনমুক্ত ভিয়েতনাম গঠনে এবং সমাজতান্ত্রিক ভিয়েতনাম নির্মাণে হো চি মিনের অবদান অবিস্মরণীয়।

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ভিয়েতনামের সায়গন শহরে সফরে গিয়েছিলেন ১৯২৯ সালে। আর 'আংকেল হো' ভারতে এসেছিলেন মোট তিনবার - প্রথমবার ১৯১১তে, ২য় বার ১৯৪৬-এ প্যারিসে যাওয়ার পথে যাত্রাবিরতিতে, তখন তিনি ভিয়েতনামের প্রধানমন্ত্রী। এবং সর্বশেষ ১৯৫৮ সালে প্রেসিডেন্ট হিসেবে।

আধুনিক ভিয়েতনাম মানে পিচ ঢালা প্রশস্ত রাস্তা, সুউচ্চ অট্টালিকা, ঝকমকে শপিংমল। রাস্তায় গিজগিজ করছে হাজার হাজার স্কুটি আর অনেক বিদেশি নাগরিক। সবাই নিশ্চয়ই ট্যুরিস্ট নয়, অনেকেরই ব্যবসা আছে এখানে।

ভিয়েতনামের লোকজন অহেতুক কোনো এক একক মতাদর্শের অন্ধত্বের শিকার হয়নি। বরং তারা নিজেদের মতো করে সময়োপযোগী করে নিয়েছে মতাদর্শকে। তারা বলে, সমাজতান্ত্রিক বাজার অর্থনীতি।

আমরা একটা কারখানা করতে হিমশিম খাই। গ্যাস থাকে না, ইলেক্ট্রিসিটি পাওয়া যায় না, পানির স্বল্পতার সমস্যাসহ নানারকম জটিলতা তৈরি হয়। অথচ পুরো ভিয়েতনাম জুড়ে আছে ৩০০টা ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন।



দশ লেনের হাইওয়ের ধারে একের পর এক স্যামসাং-নকিয়া-নাইকি-মিৎসুবিশি, সবগুলো বহুজাতিক কোম্পানির ফ্যাক্টরি। রাস্তায় জাপানি আর কোরিয়ান গাড়ির সাথে সমানতালে চলে ওদের নিজেদের ইলেক্ট্রিক গাড়ি, ভিনফাস্ট। এত সুন্দর গাড়ি একেকটা, দেখলেও চোখের শান্তি। আমরা আজ পর্যন্ত একটা গাড়ি বানাতে পারলাম না।

ক্ষমতাধর রাষ্ট্রকে পরাস্ত করেছে বলে ওদের হিম্মত প্রবল। কারখানা করলেই দেশ দখল করে নিবে অথবা নিশ্চয়ই কোনো দুরভিসন্ধি আছে- এমন অর্থহীন ষড়যন্ত্রতত্ত্বে ওদের বিশ্বাস নাই।

কারণ, যদি দেশ দখল করেই নেয় তাহলে তাড়াতে বিশেষ বেগ পেতে হবে না- এমন বিশ্বাস রয়েছে ওদের। একবার পারলে, বারবার পারবে।  

তবে গাড়ি নয়। সাধারণ ভিয়েতনামীদের প্রথম পছন্দ হচ্ছে মোটরবাইক। আমরা যেটাকে স্কুটি বলি, সেটা। ভিয়েতনামের রাস্তায় লক্ষ লক্ষ বাইক চলে, নারী পুরুষ নির্বিশেষে সবাই চালায় এই মোটরযান।

বাইকের সংখ্যার হিসাবে ভিয়েতনাম পৃথিবীতে চতুর্থ। এক নম্বরে ইন্ডিয়া, দুইয়ে চায়না আর তিনে ইন্দোনেশিয়ার পরেই তাদের অবস্থান। ভিয়েতনামের সর্বমোট যানবাহনের ৮৫% ই হচ্ছে এই মোটরবাইক। এটা নাকি ওদের কালচারের অংশ। তারা এটাকে দেখে নিজেদের স্বাধীনতা আর স্বকীয়তার বৈশিষ্ট্য হিসেবে।

হ্যানয় শহরে দর্শনীয় অনেক কিছুই আছে। তবে এদের মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত মনে হয় "ট্রেন স্ট্রিট"। ঢাকার রেললাইনের ধারে থাকা বস্তির মতো যেখানে লাইনের মাত্র ১ মিটার দূরেই মানুষ বসবাস করে। আক্ষরিক অর্থেই, সেইফ জোনের দূরত্ব নাকি ২০ সেন্টিমিটার যা একটা হলুদ লাইন দিয়ে চিহ্নিত করা থাকে।

প্রবেশমুখ বন্ধ থাকলেও আশপাশের বাড়িঘরের লোকজন এই জায়গাটাকে কফিশপ, স্যুভেনির স্টল বানিয়ে ধুমায়ে ব্যবসা করছে। এই লাইনে ট্রেন আসার আদৌ কোনো টাইমটেবিল নাই। তিন চার ঘন্টায় একবার আসতে পারে। ট্রেন যতক্ষণ আসছে না, ততক্ষণ ট্যুরিস্টরা বসে থাকবে। এটাও একটা বিজনেস ট্রিক।



ট্রেন আসার পরে সবার মধ্যে হুটোপুটি শুরু হয়ে যায়। দোকানের ঝাঁপ বন্ধ করা, বাচ্চা, মুরগি, কুকুরকে লাইনের উপর থেকে সরিয়ে নেয়া, কাপড় শুকাতে দিলে সেগুলো উঠিয়ে নেয়া- অনেক কাজ তখন তাদের একসাথে করতে হয়।  

বিস্ময়করভাবে চীন সীমান্তের একেবারে পাশেই অবস্থিত একটি দেশ হয়েও ভিয়েতনামেই পৃথিবীতে সব থেকে কম মানুষ কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়েছিল। সব থেকে কমসংখ্যক মৃত্যুও সেখানে ছিল।

অফিসিয়াল রেকর্ডে, ভিয়েতনামে কোভিড-১৯ এ আক্রান্তের সংখ্যা মাত্র ১ হাজার ৫৩৯ এবং মৃত্যু মাত্র ৩৫। অনেক কঠোর অবস্থান আবার সাহসী পদক্ষেপ - সব মিলে ভিয়েতনাম এই অসাধ্য সাধন করতে পেরেছে।

আমাদের দেশের মতো ওদের দেশের ফুটপাতও দখলে থাকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের। অনেককে দেখেছি রাস্তায় একটা চেয়ার আর একটা আয়না বসিয়ে চুল কাটার কাজ করতে। অনেক দেশেই ক্ষৌরকর্ম একটা ব্যয়বহুল ব্যাপার।

যারা চুল কাটে, তাদের অনেকেই নাকি ওদের দেশের মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক ভিয়েত-কং গেরিলা। ওরা এটাকে বলে, ওপেন এয়ার স্যালুন। এই ঐহিত্য আঠারো শতকে শুরু হয়, যা এখনো চলছে। খেটে খাওয়াতে যে কোনো লজ্জা নাই, এটা আমাদের দেশের লোকেরা মনে হয় এখন কল্পনাও করতে পারে না।

ওদের রাস্তায় ময়লা থাকে না, কিন্তু ফুটপাতে প্রচুর মানুষ বসে থাকে। ছোট ছোট টুল নিয়ে। কেউ চা কফি খায়, কেউ ডিনার করে। বেশিরভাগ দোকান মেয়েরা চালায়। বিশেষ করে ওল্ড কোয়ার্টারের দোকানগুলোতে সব দোকানদার মেয়ে।



আহ! ওল্ড কোয়ার্টার! বা ৩৬ ওল্ড স্ট্রিটস অব হ্যানয়। ১০০০ বছরের পুরনো এলাকা। এটা একক কোনো এলাকা না, বরং ৩৬ টা আলাদা আলাদা পণ্য বা সেবা বা আইটেমের দোকান বা কারখানা এর সমাহার।

এর মধ্যে খাবারের দোকান থেকে শুরু করে, আর্ট, ক্রাফট, কাপড়, জুতা, সবকিছু আছে। আমাদের নিউমার্কেটের মতোই, তবে আয়তনে প্রায় বিশ গুণ বড়ো।

ওরা ট্যুরিস্টদের সাথে বাটপারি করে না। স্থানীয় লোকজনের থেকে যা দাম চাইবে, আপনার কাছেও একই দাম হাঁকবে। বিদেশি দেখে সুযোগ বুঝে আলুভর্তা, ভাতের দাম ৪০০ টাকা রাখবে না। অন্তত এখন পর্যন্ত এই ব্যাপারে তারা সচেতন আছে। নইলে ট্যুরিস্ট যাবে কেন ওদের দেশে?

এক শুক্রবারে ভিয়েতনামে ছিলাম। জুম্মার দিন ছিল। গুগল করে দেখা গেল ওই ওল্ড কোয়ার্টার এলাকাতেই হ্যানয়ের একমাত্র মসজিদ আছে, আল নূর মসজিদ। আমরা সেখানে এক ওয়াক্ত নামাজ পড়েছিলাম।

একসাথে ৩০০ লোকের নামাজ পড়ার ক্যাপাসিটি।  এই মসজিদ প্রাঙ্গণেই আমাদের সাথে দেখা হয়েছিল নারায়ণগঞ্জ এবং শরীয়তপুর থেকে যাওয়া তিনজন দেশি ভাইয়ের সাথে। তারা ব্যবসার কাজে ভিয়েতনাম গিয়েছিলেন।

ভিয়েতনামের লোকজন নিজেরা কোনো ধর্ম মানে না। কিছুদিন আগে পর্যন্ত ওদের দেশে রিলিজিয়াস প্রাকটিস করাই দণ্ডনীয় ছিল। আর সেখানে মুসলিম জনসংখ্যা মাত্র ৭০০০০, বাকীরা সব মালয়েশিয়া পালিয়ে গেছে। এই সত্তর হাজারের অধিকাংশ আবার থাকে দেশের দক্ষিণ অংশে, হো চি মিন সিটির আশেপাশে।

মানচিত্রে ভিয়েতনাম দেখতে অনেকটা ইংরেজি "S" অক্ষরের মতো। ওই S এর উপরের মাথায় হ্যানয়, আর নিচের লেজের ডগায় হো চি মিন সিটি, যা আগে পরিচিত ছিল সায়গন নামে।

খাওয়া খাদ্যের ব্যাপারে তেমন কিছু বলার নাই। তবে দুটো জিনিস লক্ষ্য করেছি, ওদের মরিচে কোনো ঝাল নাই এবং তরমুজে বীচি প্রায় থাকে না বললেই চলে। মানে আমাদের দেশের তরমুজে ১০০ টা বীচি থাকলে ওদেরটায় থাকবে মাত্র ৫ টা।

ওল্ড কোয়ার্টারে বেশ কিছু ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্ট আছে। চালায় কিন্তু ইন্ডিয়ান, পাকিস্তানি সবাই মিলে। আমরা প্রথমদিন যেই দোকানে গারলিক নান আর বাটার চিকেন খেলাম, সেই দোকানের ক্যাশিয়ারকে দেখে মনে হয়েছিল হয় সে কাশ্মীরি অথবা পাঞ্জাবি। জিজ্ঞাসা করে জানা গেল, ওর বাড়ি বেলুচিস্তানে।

সর্বশেষ, হা লং বে (Ha Long Bay)। ভিয়েতনাম ভ্রমণের সবচাইতে আকর্ষণীয় স্পট। দেশে ফিরে আসার দুইদিন আগে গিয়েছিলাম সেখানে। অদ্ভুত সুন্দর একটা জায়গা। রাজধানী হ্যানয় থেকে ১৬৩ কি.মি দূরে। গাড়িতে যেতে আড়াই ঘন্টার মতো লাগে।

Bay মানে উপসাগর। তবে আমাদের Bay of Bengal এর মতো প্রমত্ত স্রোত কিংবা ঢেউ কিছুই নেই ওতে। বরং দেখে মনে হয় শান্ত স্নিগ্ধ একটা বড় আকারের লেক। আমাদের কাপ্তাই লেকের মতো।

পার্থক্য হচ্ছে, এই উপসাগরের পানি একেবারে স্বচ্ছ ফিরোজা রঙের, ওরা বলে জেড কালার, জেড পাথরের মতো। এবং এর কোল জুড়ে রয়েছে ৯২৮টি ছোট বড় দ্বীপ।

'হা লং' অর্থ 'ভূমিতে নেমে আসা ড্রাগন'। স্থানীয়রা ধারণা করে, শত্রুদের হাত থেকে ভিয়েতনামীদের রক্ষা করার জন্য ঈশ্বর একটি ড্রাগন পরিবারকে পাঠিয়েছিল। যেখানে ড্রাগনরা অবতরণ করেছে সেই স্থানের নাম হয়েছে 'হা লং'। যার অর্থই হলো 'ভূমিতে নেমে আসা ড্রাগন'।

হা লং উপসাগরের আয়তন এক হাজার ৫৫৩ বর্গ কিলোমিটার। ধারণা করা হয়, প্রায় ৫০ কোটি বছর আগে চুনাপাথরগুলোর সৃষ্টি হয়েছিল। উপসাগরে কিছু দূর পরপর গোলকধাঁধার মতো চুনাপাথরের পাহাড়ি দ্বীপগুলো ছড়িয়ে রয়েছে। আমরা যেদিন গিয়েছিলাম ক্রুজ শিপে করে, সেদিন থেমে থেমেই বৃষ্টি হচ্ছিল। এত চমৎকার দৃশ্য অনেকদিন মনে থাকবে।



১৯৯৪ সালে হা লং বে'কে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃতি দেয় এবং ২০০৭ সালে হা লং বে পৃথিবীর নতুন প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চর্য হিসেবে নির্বাচিত হয়।

কিছু কি বাদ গেল? ও হ্যাঁ জানা থাকা ভালো, মার্কিন এক ডলার সমান কিন্তু ২৩,৬০০ ভিয়েতনামী ডং। মানে ১০০ ডলার ভাঙালে সেখানে প্রায় ২৩.৬ লক্ষ ডং পাওয়া যায়। ওদের ৫ মিলিয়ন ডংয়েরও নোট আছে। ডলার ভেঙে নিলেই মোটামুটি সবাই মিলিয়নিয়ার হয়ে যায় ওদের দেশে।

ভিয়েতনামের লোকজন ইংরেজি বলে না। বলে না নাকি পারে না, জানি না। তবে জানার কোনো ইচ্ছাও বোধহয় নাই ওদের মধ্যে। পশ্চিমাদের প্রতি ঘৃণা একটা কারণ হতে পারে।

ঢাকা থেকে হ্যানয়ের সরাসরি কোন ফ্লাইট নেই। যেতে হয় সিঙ্গাপুর, থাই বা মালয়েশিয়া ঘুরে। এর মধ্যে সর্বনিম্ন যা সময় লাগে ট্রানজিট মিলিয়ে, সেটা হচ্ছে ১০ ঘন্টা।

অথচ ঢাকা-হ্যানয়ের দূরত্ব সরাসরি মাপা গেলে, মাত্র ১৬১৪ কিলোমিটার। বাই রোডে গেলে যা দাঁড়ায় ৩০০৯ কিলোমিটারের মতন। অনেকে আবার ঢাকা থেকে কোলকাতা গিয়ে, ওখান থেকে হো চি মিন সিটি যান।

আশা করি, খুব দ্রুতই ওদের সাথে সরাসরি ফ্লাইট চালু হবে, যাতে তিন ঘন্টার বেশি সময় লাগবে না যেতে। আর আয়তনে আমাদের প্রায় ৬ গুণ বড় হলেও, জনসংখ্যা মাত্র ১০ কোটি ওদের।

ভিয়েতনাম ঘুরে যা মনে হলো, আমাদের অনেক কিছু করার আছে সামনে। পরিতৃপ্ত হওয়ার মতো কোনো জায়গায় আমরা এখনো পৌঁছাতে পারিনি।
(শেষ)