০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

নষ্ট শহরের বকুলমালা ও দেবদূতের গল্প

দেখি তারার মতোন তুমি ফুটে আছো জাতিস্মর হয়ে। / বকুল ফুল ও বকুল ফুল, ফুলবেচা মেয়েটার হাতে আর তুমি কেঁদোনা।/ এ নষ্ট শহরে আর এসোনা।

নষ্ট শহরের বকুলমালা ও দেবদূতের গল্প

চিত্রকর্ম: ভাসিলি কান্দিনিস্কি

চরু হক চরু হক

Published : 06 Nov 2026, 07:24 PM

Updated : 06 Nov 2026, 07:24 PM

ডানা

দুটি হাত ছড়িয়ে দিলো সে

দু'দিকে

যেন পাখি, ডানা মেলবে শূন্যে

দিনের আলোয়

জ্বলে উঠলো তার ডানা

আমি, দূরে বসে দেখছি

আলোর ডানায় উড়াল দিলো

এ কোন চেনা সুরের

অচিন পাখি।

মাটিতে তার পা, যেনো ছুঁয়েও ছুঁচ্ছেনা

যাবে কি আজ খসে,

লতাপাতার আলগা বাঁধন

সব

মুখখানা তুলে ধরলো সে, শূন্যে

দু'হাত দু'দিকে ছড়ানো

সূর্য ভেঙে আছড়ে পড়লো

দেবদূতের দিন।

বাতাস চিরে জন্ম নেয়া কুয়াশার নীলফুল

খুঁজছি

এখানে -ওখানে, আনাচে -কানাচে, বইয়ে, আমার লেখার খাতায়

এবং সবুজ পাতায়।

কোথায় তোমার মুখ আঁকা?

শ্যামল বর্ণে মিশে যায় সবুজের শ্যামলিমা।

ঝাড়বাতির মতো জ্বলতে থাকে, স্মৃতি

আমার মনের বাড়ি ধুয়ে যায় এ কোন অন্ধকারে।

কোথায় তাকিয়ে আছো? কাছে, নাকি দূর নৈঃশব্দে?

নাকি কোথাও না?

আমি চোখ পেতে থাকি তোমার চোখের দিকহীন চাউনির দিকে

সিঁড়ি বেয়ে নিঃশব্দে নেমে যায় আমার সকল অভিমান

নামতে নামতে হঠাৎ পেছনে তাকিয়ে দেখে

তোমার দু'চোখে জল।

সময় তার সমস্ত ঐশ্বর্য নিয়ে সামনের দিকে হাঁটছে

মেঘের নৌকায় ভর করে হাওরকন্যা শাপলা আর পদ্ম তুলছে ঠান্ডা বাতাসে ভিজে ভিজে

তুমি

মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে দেখছ

ছোট্ট ধানক্ষেতের পাশে শিমফুলগুলো কিভাবে ঘোমটা খুলে তাকায়।

বাতাস চিরে জন্ম নেয় কুয়াশার নীলফুল।

অত:পর-

সুতীক্ষ্ণ শব্দে কেঁপে ওঠে রাত্রির নিস্তব্ধতা

ধাতব এই শহরে কোনো তারা নেই

আছে কেবল বীভৎস ঝনঝনানি আর ধাতব সম্পর্কগুলোর দাঁতাল হাসি

হলুদ নড়বড়ে চাঁদ মৃত ইলিশের মতো ভেসে যায়

এখানে দাঁড়িয়ে তুমি কি কুড়োচ্ছো হাওরের মেয়ে?

কি খুঁজছো এ নষ্ট শহরে?

নষ্ট শহরের এক বকুলমালা

বকুল ফুল বকুল ফুল, এ নষ্ট শহরে আর থেকো না

বকুল ফুল বকুল ফুল এ নষ্ট শহরে আর হেঁটোনা

ফুলবেচা মেয়েটার অনাথ দু'টি হাত ধরে

বসে থাকি আমি

কে জানে বকুল তলে এত স্বপ্ন এত স্মৃতি

খোঁপার কবাটে

দেখি তারার মতোন তুমি ফুটে আছো জাতিস্মর হয়ে।

বকুল ফুল ও বকুল ফুল, ফুলবেচা মেয়েটার হাতে আর তুমি কেঁদোনা।

এ নষ্ট শহরে আর এসোনা।