১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

শিশুসাহিত্যিক খালেক বিন জয়েনউদদীনের জীবনাবসান

শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য সোমবার সকাল ১১টায় তার মরদেহ বাংলা একাডেমিতে নেওয়া হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 14 Jan 2024, 07:48 PM

Updated : 14 Jan 2024, 09:00 PM

শিশুসাহিত্যিক খালেক বিন জয়েনউদদীন আর নেই; তার বয়স হয়েছিল ৭০ বছর।

রোববার দুপুরে ঢাকায় নিজের বাসায় ঘুমন্ত অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন এ সাহিত্যিকের ছেলে পল্লব ইয়াসিন।

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সকালে খাওয়ার পর উনি নিজ রুমে যান। তারপর দুপুর ১টার দিকে তাকে রুমে ডাকতে গেলে তিনি সাড়া দেননি। পরে আমরা রুমে প্রবেশ করে তাকে পড়ে থাকতে দেখি।”

বাংলা একাডেমির উপপরিচালক তপন বাগচী বলেন, “গত সন্ধ্যায় তার সঙ্গে ছিলাম। তাকে রিকশায় তুলে দিলাম। কে জানত এই আমাদের শেষ দেখা!

“গত ৪৫ বছর তিনি একাডেমিতে এলে আমার কক্ষে দীর্ঘ সময় বসে থাকতেন। কত গল্প, কত ঝগড়া, কত স্বপ্ন, কত পরিকল্পনা। সব শেষ।”

পল্লব ইয়াসিন জানান, সোমবার সকাল ১১টায় তার বাবার মরদেহ বাংলা একাডেমিতে নেওয়া হবে। সেখানে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় তাকে সমাহিত করা হবে।

খালেক বিন জয়েনউদদীনের মৃত্যুতে বাংলা একাডেমি এক শোকবার্তায় বলেছে, "বাংলাদেশের ছড়াসাহিত্য, শিশুতোষ জীবনী, মুক্তিযুদ্ধ-বঙ্গবন্ধু বিষয়ক রচনা এবং সামগ্রিকভাবে বাংলা শিশুসাহিত্যে তার অবদান অবিস্মরণীয়৷ বাংলা একাডেমির সঙ্গে ছিল তার নিবিড় সম্পর্ক। একাডেমি থেকে তার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে।"

শিশুতোষ রচনা এবং বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রবন্ধ লিখে সুনাম কুড়ানো খালেক পঞ্চাশ বছর ধরে সাহিত্যচর্চা করেন। তার রচিত বইয়ের মধ্যে আছে ‘ধানসুপারি পানসুপারি’, ‘আতাগাছে তোতাপাখি’, ‘আপিল চাপিল ঘণ্টিমালা’, ‘জলকন্যে ঘাঘোর নদী’, ‘বকুলবনে জোছনাপরি’, ‘মউঝুরঝুর পুবাল হাওয়া’, ‘রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই’, ‘একাত্তরের অশোক’, ‘নলিনীকান্ত ভট্টশালী’, ‘বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা’, ‘বাংলাদেশের গণহত্যা’, ‘হস্তাক্ষরে শামসুর রাহমানের ছড়া-কবিতা’, ‘পালকি চলে গগনতলে’।

খালেক বিন জয়েনউদদীন ১৯৫৪ সালের ২৪ জানুয়ারি গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার চিত্রাপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পড়াশােনা করেন ঢাকা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অনার্স নিয়ে ১৯৭৫ সালে এমএ পাস করেন।

স্বাধীনতা যুদ্ধে তিনি অংশ নিয়ে যশোরের বারোবাজারে ধরা পড়ে পাকিস্তানি সেনা ছাউনিতে নির্মম নির্যাতনের শিকার হন, বন্দি থাকেন সাতমাস। তার বইয়ের ফ্ল্যাপে বলা হচ্ছে, পঁচাত্তরের পর তিনি ছড়া লিখে বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রথম প্রতিবাদ করেন, যা মাসিক সমকালে প্রকাশিত হয়।

সাহিত্যচর্চার জন্য খালেক বিন জয়েনউদদীন বঙ্গবন্ধু সাহিত্য পরিষদ, বাংলাদেশ লেখিকা সংঘ, অগ্রণী ব্যাংক, তরিকত মিশন, আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ স্মৃতি পরিষদ, কোটালীপাড়া গুণীজন সংবর্ধনা পরিষদ ও বাংলা একাডেমির সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেছেন।