০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩

উঁচু পথে হেঁটে ওঠা নাকি সমতলে দৌড়ানো: কোনটি বেশি কার্যকর?

পুরোটাই নির্ভর করবে লক্ষ্য কী, স্বাস্থ্যের অবস্থা কেমন আর শক্তি খরচ করার ক্ষমতার ওপর।

লাইফস্টাইল ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 16 Jun 2026, 07:04 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:25 PM

ওজন কমানো, হৃদযন্ত্র ভালো রাখা কিংবা শরীরের শক্তি বাড়ানোর বিষয়ে, প্রথমেই মাথায় আসে দৌড়ানোর কথা।

আর কয়েক বছর ধরে ফিটনেস দুনিয়ায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ‘ইনক্লাইন ওয়াকিং’ বা ট্রেডমিল উঁচু করে (পাহাড়ি ঢালের মতো) হাঁটার অভ্যাস।

অনেকেই ভাবেন, দৌড়ানোর চেয়ে হাঁটা বোধহয় কম কার্যকর।

জীবনধারা-বিষয়ক ওয়েবসাইট ‘সেলফ ডটকম’-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের ‘টোন হাউস’-এর প্রশিক্ষক গ্যাব রেজনিক এই বিষয়ে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

তীব্রতা ও ক্যালোরি ক্ষয়ের পার্থক্য

গ্যাব রেজনিক বলেন, “দৌড়ানোর সময় শরীরের ওপর অনেক বেশি চাপ পড়ে। প্রতিটি কদমে হাড় ও জোড়গুলোকে শরীরের ওজনের চেয়ে প্রায় দুতিন গুণ বেশি ভর সামলাতে হয়। ফলে শরীর থেকে দ্রুত ক্যালোরি ঝরে।”

অন্যদিকে, ইনক্লাইন ওয়াকিং বা উঁচু চড়াইয়ে হাঁটার ক্ষেত্রে সবসময় একটি পা মাটিতে ঠেকে থাকে। ফলে হাড়ের জোড়ের ওপর চাপ অনেক কমে যায়। তাই বলে একে সহজ ভাবার কোনো কারণ নেই।

যদি ট্রেডমিলে ১৫ শতাংশ ইনক্লাইন বা উঁচুতে রেখে কোনো কিছু না ধরে ঘণ্টায় ৩ মাইল গতিতে ৩০ মিনিট হাঁটা যায়, তবে একজন নিয়মিত দৌড়বিদের বুকও ধড়ফড় করা শুরু করবে। আর শরীর থেকে প্রচুর ঘাম ঝরবে।  

পেশি শক্তিশালী করা

অনেকে মনে করেন হাঁটা কেবলই কার্ডিও, এটি পেশি গঠনে সাহায্য করে না।

রেজনিক এই ধারণা ভুল প্রমাণ করে বলেন, “ইনক্লাইন ওয়াকিং শরীরের নিচের অংশ বা পায়ের নিচের অংশের মাংসপেশি (যেমন: নিতম্ব, হ্যামস্ট্রিং বা উরুর পেছনের পেশি এবং গোড়ালির পেশি) দারুণ শক্তিশালী করে তোলে। মধ্যাকর্ষণ শক্তির বিপরীতে পা ফেলে ওপরে উঠতে হয় বলে এটি পেশির সহনশীলতা অনেক বাড়িয়ে দেয়।

জয়েন্ট ও হাড়ের দীর্ঘস্থায়িত্ব

যারা অনেকক্ষণ ব্যায়াম করে মেদ ঝরাতে চান বা যাদের হাঁটু ও পায়ের জোড়ে সমস্যা আছে, তাদের জন্য ইনক্লাইন ওয়াকিং হতে পারে দারুণ পছন্দ। যেহেতু এতে হাড়ের জোড়ে আঘাত পাওয়ার ঝুঁকি কম, তাই দীর্ঘ সময় ধরে এই ব্যায়াম করা সম্ভব।

তাহলে কোনটি বেছে নেওয়া উচিত?

এই প্রশিক্ষকের মতে, “দুটি ব্যায়াম-ই আসলে একে অপরের শত্রু নয়, বরং পরিপূরক। লক্ষ্য যদি হয় খুব কম সময়ে দ্রুত হৃদস্পন্দ বাড়ানো এবং বেশি ক্যালোরি পোড়ানো, তবে দৌড়ানোই ভালো।  

আর যদি হাড়ের জোড়ে কোনো রকম চোট বা ব্যথা না পেয়ে দীর্ঘমেয়াদে ব্যায়াম করে সুস্থ থাকতে, মেদ কমাতে এবং পায়ের পেশি শক্ত করতে চাইলে, ইনক্লাইন ওয়াকিং হতে পারে সেরা অস্ত্র।

বিশেষজ্ঞের পরামর্শ

রেজনিক বলেন, “যারা নতুন শুরু করতে যাচ্ছেন, তারা প্রথম দিনই খুব উঁচুতে হাঁটবেন না বা খুব জোরে দৌড়াবেন না। সপ্তাহে দুতিন দিন দৌড়ানো এবং বাকি দিনগুলোতে ইনক্লাইন ওয়াকিং করার মাধ্যমে একটি চমৎকার ভারসাম্যময় রুটিন তৈরি করা সম্ভব, যা শরীরকে দীর্ঘদিন সুস্থ ও প্রাণবন্ত রাখতে সাহায্য করবে।”

আরও পড়ুন

দৌড়ানো নাকি হাঁটা- চর্বি কমাতে বেশি সহায়ক কোনটা?

কতক্ষণ দৌড়ানো উচিত?

নিয়মিত হাঁটছেন, তাও ওজন কমছে না? হাঁটার পদ্ধতিটাই হয়ত বদলাতে হবে

যেভাবে হাঁটলে ওজন কমে দ্রুত