Published : 05 Feb 2026, 02:36 PM
এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়ার সাতটি নির্বাচনি আসনে অর্ধেকের বেশি ভোটার নারী; তারাই প্রার্থীদের জয়-পরাজয়ে মুখ্য ভূমিকার রাখবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, নারী ভোটার যদি ভোটকেন্দ্রে আসতে পারেন তবে অনেক আসনে ভোটের ফলাফল পাল্টে যাবে।
বগুড়ার সাতটি আসনের মধ্যে একমাত্র নারী প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন বাসদের দিলরুবা নুরী। জেলা বাসদের সদস্যসচিব আইনজীবী এই নারী বগুড়া-৬ (সদর) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বগুড়ার ১২টি উপজেলা নিয়ে গঠিত সাতটি সংসদীয় আসনে মোট ভোটার রয়েছেন ২৯ লাখ ৮১ হাজার ৬৭২ জন। এর মধ্যে অর্ধেকের বেশি নারী ভোটার। এখানে মোট পুরুষ ভোটার ১৪ লাখ ৮০ হাজার ৮৪২ জন এবং নারী ভোটার রয়েছেন ১৫ লাখ ৭৮৮ জন। এ ছাড়া হিজড়া ভোটার রয়েছেন ৪২ জন।
সেই হিসাবে বগুড়ায় পুরুষ ভোটারের চেয়ে ১৯ হাজার ৯৪৬ জন বেশি নারী ভোটার রয়েছেন। সবচেয়ে বেশি ভোটার বগুড়া-৫ আসনে ৫ লাখ ৭২ হাজার ১৪০ জন ও সবচেয়ে কম ভোটার বগুড়া-৩ আসনে ৩ লাখ ৩৯ হাজার ১৭৩ জন।

বগুড়া জ্যেষ্ঠ জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি ও সোনাতলা উপজেলা নিয়ে গঠিত বগুড়া-১ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৭৬ হাজার ৫৯৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৮৬ হাজার ৮৭৩ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৮৯ হাজার ৭১৭ জন এবং হিজড়া (তৃতীয় লিঙ্গ) ভোটার পাঁচজন। এ আসনে ২ হাজার ৮৪৪ জন নারী ভোটার বেশি রয়েছে।
শিবগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত বগুড়া-২ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৪২ হাজার ১৫৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭১ হাজার ৪৯৯ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৭০ হাজার ৬৫১ জন এবং হিজড়া পাঁচজন। এ আসনে পুরুষ ভোটার বেশি ৮৪৪ জন।
আদমদীঘি ও দুপচাঁচিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত বগুড়া-৩ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৩৯ হাজার ১৭৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬৯ হাজার ৩৪৭ জন নারী ভোটার ১ লাখ ৬৯ হাজার ৮২৩ ও হিজড়া তিনজন। এই আসনে ৪৭৬ জন নারী ভোটার বেশি রয়েছে।
কাহালু ও নন্দীগ্রাম উপজেলা নিয়ে গঠিত বগুড়া-৪ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৫৯ হাজার ৫২৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭৮ হাজার ৯৮৫ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৮০ হাজার ৫৩০ জন ও হিজড়া আটজন। এ আসনে ১ হাজার ৫৪৫ জন নারী ভোটার বেশি।
শেরপুর ও ধুনট উপজেলা নিয়ে গঠিত বগুড়া-৫ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৭২ হাজার ৩৪০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৮১ হাজার ২৮৭ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৯১ হাজার ৪৭ জন ও হিজড়া ছয়জন। এ আসনে ৯ হাজার ৭৬০ জন নারী ভোটার বেশি।
সদর উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও বগুড়া পৌরসভার ১৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত বগুড়া-৬ (সদর) আসন। এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৫৪ হাজার ৪৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ২২ হাজার ৭৯৬ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৩১ হাজার ২৩৭ জন ও হিজড়া ১০ জন। এ আসনে ৮ হাজার ৪৪১ জন নারী ভোটার বেশি।

গাবতলী ও শাজাহানপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত বগুড়া-৭ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৩৮ হাজার ৯২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৭০ হাজার ৭০ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৬৮ হাজার ১৭ জন ও হিজড়া ভোটার পাঁচজন। এই আসনে নারীর চেয়ে পুরুষ ভোটার ২ হাজার ৫৩ জন বেশি।
১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলার সাতটি আসনে মোট ৯৮৩টি ভোটকেন্দ্রের ৫ হাজার ৫৭৭টি কক্ষে ভোট দেওয়ার কথা রয়েছে।
ধুনট উপজেলার চিথুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা সালমা ভোটের বিষয়ে মুখ খুলতে চান না। তিনি শুধু বলেন, “আগেও যাক দিছি এইবারও তাক দিমু। দিয়াই আসমু।”
ওই গ্রামের জাহানারা বলেন, “জোর কইরা কেউ না নিয়া গেলে ভোট দিবার যামু না।”
শাহজাহানপুর উপজেলার মাঝিরা গ্রামের ঝর্ণা বেগম বলেন, “বড় দুই দলকে বার বার ভোট দিছি এতদিন। সবাই এক। এবার অন্য জায়গায় ভোট দিমু।”
বগুড়া সদরের নামুজা ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক রফিকুল ইসলাম ভাণ্ডারী বলেন, “নারীরা যদি ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হতে পারে তাহলেই দল বেঁধে ভোট দিতে আসবেন। এখন বুঝতে হবে কত সংখক নারী ভোটার উপস্থিত হয়। নারী ভোটেই অনেক কেন্দ্রে ফলাফল নির্ধারিত হবে।”
সুশাসনের জন্য প্রচারাভিযান-সুপ্র জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক কে জি ফারুক বলেন, “নারী ভোটারটা কেন্দ্রে ভোট দিতে আসতে পারলে অনেক আসনে ফলাফল বদলে যেতে পারে। নারী ভোটারের অভিমুখ অনেক ক্ষেত্রেই পরিবর্তন হয়ে গেছে।”
এরই মধ্যে বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র সংস্কার ও সিসি ক্যামেরা বসানোর কাজ করছে নির্বাচন কমিশন।
ভোটার তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, সবশেষ ভোটার তালিকায় প্রায় এক লাখ নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছে এবং বাদ পড়েছেন প্রায় অর্ধ লাখ।

বগুড়া জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান জানান, অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। নির্বাচনি আচরণবিধি পর্যবেক্ষণে বিচারিক আদালত কাজ করছে।
ভোটের বিষয়ে জানতে চাইলে বাসদের প্রার্থী আইনজীবী দিলরুবা নুরী বলেন, “বগুড়ায় অর্ধেকের বেশি নারী ভোটার হলেও তাদের বেশির ভাগ ভোটের বিষয়ে সচেতন নয়। নারী অধিকার নিয়েও তারা অবহিত না। এ ছাড়া পুরুষ ভোটারও আছেন, যারা ভাবেন নারী মানেই সংরক্ষিত। নারীরা কেন জনসম্মুখে আসবে, তারা কেন ভোটে দাঁড়াবে- এমন বাধাও আছে। তবে, নির্যাতিত-নিপীড়িত নারী সমাজ আমাকে গ্রহণ করেছে।”
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ বগুড়া জেলা শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নাশিদ নিগার খন্দকার কেকা বলেন, “অবশ্যই নারী ভোটার বেশি যেদিকে ঝুঁকবে সেই প্রার্থী বিজয়ী হবেন। তবে কতটা নারী ভোটার ভোটকেন্দ্র যাবে এটাই প্রশ্ন।”
তিনি বলেন, “আগের চেয়ে এখন কিন্তু নারী ভোটাররা অনেক বেশি সচেতন।”