Published : 21 Jan 2026, 09:40 PM
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে দেশের সব ভোটকেন্দ্রে এক সপ্তাহের মধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগ নিশ্চিত করার নির্দেশনা দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।
যেসব এলাকায় সরাসরি বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া সম্ভব নয়, সেখানে জেনারেটর বা সৌরবিদ্যুতের মত বিকল্প ব্যবস্থা রাখার নির্দেশনাও তিনি দিয়েছেন।
বুধবার বিকাল ৪টায় ঢাকায় বিদ্যুৎ ভবনে এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এ নির্দেশনা দেন উপদেষ্টা। পরে মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সভায় রমজান মাস, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট এবং গ্রীষ্ম মৌসুমে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতির সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
সভায় উপদেষ্টা বলেন, “সকল নির্বাচন কেন্দ্রে এক সপ্তাহের মধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগ কিংবা ক্ষেত্র বিশেষে বিকল্প সরবরাহের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।”
একই সঙ্গে তিনি নির্দেশ দেন, যেসব এলাকায় লোডশেডিং হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, সেখানে তাৎক্ষণিক বিকল্প বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা রাখতে হবে।
সেজন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক বিদ্যুৎ মোবাইল ভ্যান, ডিজেল ও জেনারেটর প্রস্তুত রাখার কথা বলেন তিনি।
সভায় জানানো হয়, যেসব এলাকায় এখনো বিদ্যুৎ সংযোগ নেই, সেখানে সংযোগের ব্যবস্থা নিতে হবে। দুর্গম এলাকায় যেখানে গ্রিড সংযোগ সম্ভব নয়, সেখানে জেনারেটর কিংবা সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।
নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে সার্বক্ষণিক মনিটরিং ব্যবস্থা রাখার নির্দেশ দেন উপদেষ্টা।
এ লক্ষ্যে সেন্ট্রাল মনিটরিং, লোকাল মনিটরিং টিম এবং নির্দিষ্ট ফোকাল পয়েন্ট প্রস্তুত থাকবে বলে সভায় জানানো হয়।
সভায় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান জানান, জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতিটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুর্গম এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসন প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।
পাশাপাশি পল্লী বিদ্যুতের বিভিন্ন টিম নির্বাচন কেন্দ্রগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল রাখতে সার্বক্ষণিক নজরদারি করবে।
সভায় বলা হয়, আসন্ন রমজান মাস, গ্রীষ্মকাল ও সেচ মৌসুমে বিদ্যুতের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। এ কারণে বিদ্যুৎ ব্যবহারে দায়িত্বশীল আচরণ করার জন্য সবাইকে অনুরোধ করা হয়। অতিরিক্ত চাহিদার সময়গুলোতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ সংস্থাগুলো তাদের নিজ নিজ সরবরাহ পরিকল্পনা সভায় উপস্থাপন করে।
মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর-সংস্থার সমন্বয়ের মাধ্যমে এসব পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে বলে সভায় জানানো হয়।
এ ছাড়া রমজান মাসে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে এসির ব্যবহার সংযত রাখা, অতিরিক্ত আলোকসজ্জা না করা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করার জন্য ব্যবসায়ীদের অনুরোধ জানানো হয়।
সভায় উপস্থিত ব্যবসায়ী নেতারাও সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
রোজাদারদের যেন ভোগান্তিতে পড়তে না হয়, সে বিষয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন উপদেষ্টা।