Published : 31 Jan 2026, 12:28 AM
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের দিন ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের সারিবদ্ধ রাখা, শৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তা এবং অসমর্থ, বয়স্ক, অসুস্থ ও গর্ভবতীদের ভোট দিতে সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের (বিএনসিসি) ক্যাডেটরা কাজ করবেন এবার।
এক্ষেত্রে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা যাচাই-বাছাই করে নিরপেক্ষতা নিশ্চিতসহ সাতটি বিষয় মেনে বিএনসিসি ক্যাডেট মোতায়েন করতে স্বরাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
ক্যাডেটদের মোতায়েনের আগে প্রশিক্ষণ দিতেও সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচন ও গণভোট হবে। পৌনে ১৩ কোটি ভোটার এ নির্বাচনে দুটি করে ব্যালটে ভোট দেবেন। ৩০০ আসনে প্রায় ৪৩ হাজার ভোটকেন্দ্রে থাকবে প্রায় আড়াই লাখ ভোট কক্ষ।
এবার নির্বাচনে ৮১টি দেশি নিবন্ধিত সংস্থার মোট ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন পর্যবেক্ষক দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া বিদেশি পর্যবেক্ষক থাকবেন প্রায় ৫০০ জন।
নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকবেন বিভিন্ন বাহিনীর ৯ লাখ ৪৩ হাজার ৫০ জন সদস্য। এছাড়া প্রায় ৮ লাখ কর্মকর্তা নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করবেন।
গত ২৩ জানুয়ারি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করে নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ জানান, ভোট কার্যক্রমে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে ১৬ হাজারের বেশি বিএনসিসি ক্যাডটে মোতায়েনে সম্মতি দিয়েছে ইসি।
তবে তারা কে কোথায় কীভাবে দায়িত্ব পালন করবেন, তাদের কমান্ড কাঠামো কার অধীনে কীভাবে কাজ করবে তা আলোচনা করে ঠিক করা হবে।
কী কাজ
বিএনসিসি ক্যাডেটরা ভোটকেন্দ্রে কী ধরনের সহযোগিতার দায়িত্ব পালন করবেন, তার একটি ধারণা দেওয়া হয়েছে স্বরাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো নির্বাচন কমিশনের চিঠিতে।
• ভোটকেন্দ্রে আসা ভোটারদের সারিবদ্ধ রাখা এবং ভোটকেন্দ্রের শৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তা করা।
• অসমর্থ, বয়স্ক, অসুস্থ ও গর্ভবতী ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগে সহায়তা করা।
• ভোট দিতে আসা ভোটারদের ভোটকক্ষ সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ।
• রিটার্নিং অফিসার/প্রিজাইডিং অফিসারের নির্দেশে নির্বাচনি কাজে সহযোগিতা করা।
কোথায়-কীভাবে মোতায়েন: ৭ নির্দেশনা
• রেজিমেন্ট কমান্ডাররা রিটার্নিং অফিসার এর সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে মোতায়েন পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংখ্যক ক্যাডেট মোতায়েন করবেন।
• নির্বাচনি দায়িত্ব দেওয়ার আগে বিএনসিসি ক্যাডেটদের দক্ষতা, নিরপেক্ষতা ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা যাচাই-বাছাই করে মোতায়েন করতে হবে।
• বিএনসিসি ক্যাডেট মোতায়েনের ক্ষেত্রে মেট্রোপলিটন এলাকা, জেলা সদর, উপজেলা সদরকে প্রাধান্য দিতে হবে। তবে মেট্রোপলিটন এলাকার বাইরে মোতায়েনের ক্ষেত্রে যতদূর সম্ভব নিজ উপজেলা পরিহার করতে হবে।
• প্রত্যেক রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে ১০ জন করে এবং ভোটকেন্দ্রে অন্যূন দুই জন করে বিএনসিসি ক্যাডেট মোতায়েন করতে হবে। তবে স্থানীয় চাহিদার প্রেক্ষিতে ক্যাডেটদের সংখ্যা পরিবর্তন করা যাবে।
• রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে মোতায়েন করা ক্যাডেটরা ভোটগ্রহণের আগের দিন থেকে ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত এবং ভোটকেন্দ্রে মোতায়েন করা ক্যাডেটরা ভোটগ্রহণের আগের দিন থেকে প্রিজাইডিং অফিসার কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল বিবরণী সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কাছে দাখিল করা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবে।
• ক্যাডেটরা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী কোনো রাজনৈতিক দল বা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী এবং গণভোটের পক্ষে বা বিপক্ষে কোনো প্রচার কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। একইসাথে ভোটারদেরকে কোনো দল/ব্যক্তি/মতের পক্ষে বা বিপক্ষে ভোট দিতে প্রভাবিত করতে পারবেন না।
• ক্যাডেটদের নির্বাচনি দায়িত্ব পালনের জন্য নিয়োগের আগে প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হবে। এক্ষেত্রে রেজিমেন্ট কমান্ডাররা রিটার্নিং অফিসার ও সিনিয়র জেলা/জেলা নির্বাচন অফিসারদের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রশিক্ষণ পরিকল্পনা প্রস্তুত করবেন এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন।
বিএনসিসির ক্যাডেটদের নির্বাচনি দায়িত্বপালন এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের জন্য নির্বাচন কমিশন সচিবালয় বাজেট বরাদ্দ দেবে।
পুরনো খবর
এবার ভোট দেখবেন সাড়ে ৫৫ হাজার দেশি পর্যবেক্ষক
মোবাইল-আই ব্যাংকিং সেবা বন্ধ নয়, গণনায় লাগবে সময় বেশি: ইসি সচিব