১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ভোটকেন্দ্রে বিএনসিসি মোতায়েন হবে না: ইসি

এর পরিবর্তে শুধু পোস্টাল ব্যালট গণনা হবে এমন কেন্দ্রে থাকবে বিএনসিসি।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 03 Feb 2026, 11:07 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:51 PM

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে নির্বাচনি কাজে সহযোগিতার জন্য ভোটকেন্দ্রে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের (বিএনসিসি) ক্যাডেট মোতায়েনের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে নির্বাচন কমিশন।

এ নিয়ে বিএনপি দাবি তোলার দুই দিনের মাথায় এমন সিদ্ধান্ত এল।

নতুন সিদ্ধান্তে ইসি বলছে, আগের নির্দেশনায় সংশোধন এনে শুধু পোস্টাল ব্যালট ভোটের গণনার কেন্দ্রে শৃঙ্খলা রক্ষায় বিএনসিসির সদস্যরা মোতায়েন থাকবে।

মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত চিঠি স্বরাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে স্থাপিত পোস্টাল ভোট গণনা কেন্দ্রে শৃঙ্খলা রক্ষায় রিটার্নিং অফিসার ও প্রিজাইডিং অফিসারের নির্দেশনা অনুসারে সহযোগিতা দিতে বিএনসিসির ক্যাডেট মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি।

এর আগে গত ২৮ জানুয়ারি ভোটকেন্দ্রে সহায়তার জন্য বিএনসিসি সদস্যদের দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলেছিল ইসি।

তখন ভোটকেন্দ্রে আগত ভোটারদের সারিবদ্ধ রাখা এবং শৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তা করার পাশাপাশি অসমর্থ, বয়স্ক, অসুস্থ ও গর্ভবর্তী ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগে সহায়তা করার কাজে বিএনসিসিকে ব্যবহারের কথা বলা হয়েছিল।

তাদের কাজের আওতার মধ্যে ভোটারদের ভোটকক্ষ সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহেরও কথিা ছিল। একই সঙ্গে রিটার্নিং অফিসার বা প্রিজাইডিং অফিসারের নির্দেশে নির্বাচনি কাজে সহযোগিতা করার সুযোগ ছিল।

তবে এ নিয়ে রোববার আপত্তি জানায় বিএনপি। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান সিইসির সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তাদের আপত্তির কথা তুলে ধরার কথ বলেন। 

এর দুদিন পর মঙ্গলবার এ বিষয়ে নতুন নির্দেশনা দিল ইসি। 

এতে বিএনসিসির সদস্যদের মোতায়েনের ক্ষেত্রে কিছু নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। সেগুলো হল –

(ক) রেজিমেন্ট কমান্ডাররা রিটার্নিং অফিসার এর সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে মোতায়েন পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে বিএনসিসি মোতায়েন করবে;

(খ) নির্বাচনি দায়িত্বপ্রদানের আগে বিএনসিসি ক্যাডেটদের দক্ষতা, নিরপেক্ষতা ও রাজনৈতিক সংশ্লিস্টতা যাচাই-বাছাই করে মোতায়েন করতে হবে;

(গ) সর্বোচ্চ তিনটি নির্বাচনি এলাকার জন্য একটি করে সেকশন (একজন কর্পোরাল ও ১০ জন ক্যাডেট) হারে ৩০০টি নির্বাচনি এলাকার জন্য মোট ১২৩ সেকশন বিএনসিসি মোতায়েন করতে হবে । এছাড়া ভোটগ্রহণের আগের দিন অর্থাৎ ১১ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে স্থাপিত প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফল ও পরিস্থিতি প্রতিবেদন সংগ্রহ এবং পরিবেশন কেন্দ্রে শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য বিএনসিসি এর পাঁচটি সেকশন মোতায়েন করতে হবে।

(ঘ) রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে মোতায়েন করা ক্যাডেটরা ভোটগ্রহণের আগের দিন থেকে ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে ভোটগ্রহণের আগের দিন হতে চূড়ান্ত বেসমারিক ফলাফল প্রকাশ পর্যন্ত দায়িত্বপালন করবে;

(ঙ) মোতায়েন করা ক্যাডেটরা ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী কোনো রাজনৈতিক দল বা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী এবং গণভোটের পক্ষে বা বিপক্ষে কোনো কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারবে না

(চ) ক্যাডেটদের নির্বাচনি দায়িত্বপালনের আগে প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হবে। এক্ষেত্রে রেজিমেন্ট কমান্ডাররা রিটার্নিং অফিসার ও সিনিয়র জেলা/জেলা নির্বাচন অফিসারগণের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রশিক্ষণ পরিকল্পনা প্রস্তুত করবেন এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন।

চিঠিতে বলা হয়, ক্যাডেটদের ব্যয় নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের বাজেট থেকে দেওয়া হবে।

ভোটের কাজে বিএনসিসি চায় না বিএনপি

বিএনসিসি ক্যাডেটরা ভোটকেন্দ্রে কোথায়কীভাবে সহায়তা করবেন