২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

একাত্তরে তাদের কারণে মা-বোনদের সম্মান গেছে, এখনো দরদ নেই: তারেক

“যারা জনগণের সামনে প্রকাশ্যে মিথ্যে কথা বলতে পারে, তারা আর যাই হোক জনগণের বন্ধু হতে পারে না।”

যশোর প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 02 Feb 2026, 05:12 PM

Updated : 10 Sep 2026, 05:57 PM

নারীদের প্রতি জামায়াতে ইসলামের কখনোই ‘দরদ’ ছিল না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

দলটির নাম না নিয়ে তিনি বলেছেন, “আমরা দেখেছি, কীভাবে একাত্তর সালে দেশের মানুষকে রেখে তারা অন্যদিকে চলে গিয়েছিল এবং তার কারণেই এত লক্ষ লক্ষ মানুষ সেদিন শহীদ হয়েছিল। আমরা দেখেছি যে একাত্তর সালে তাদের ভূমিকার কারণে লক্ষ লক্ষ মা-বোন তাদের সম্মান হারিয়েছে। 

“অবশ্য এটা তো বলে কোনো লাভ নেই; এটাই তাদের ক্যারেক্টার। এবং সেজন্যই যার নিজের দেশের প্রতি দরদ নাই—৭১ সালে প্রমাণ হয়েছে, আবার আজও প্রমাণ হলো—এই দেশের মা-বোনদের জন্য, এই দেশের নারী সমাজের জন্য এদের কোনো দরদ নাই।”

সোমবার দুপুরে যশোর উপশহরের ক্রীড়া উদ্যানে বক্তব্য দিচ্ছিলেন তারেক রহমান। জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া ‘নারী বিদ্বেষী’ পোস্ট ঘিরে উত্তাপের মধ্যে বিএনপি চেয়ারম্যানের বক্তব্যের বড় অংশ জুড়েই নারী প্রসঙ্গ ছিল।

তিনি বলেন, “২০২৪ সালের ৫ অগাস্টের পরে আমরা ধরে নিয়েছিলাম বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি গুণগত পরিবর্তন হয়েছে। এই মুহূর্তে বাংলাদেশে যে দলগুলো রাজনীতি করছে, তারা জনগণের মান-মর্যাদা-সম্মান অক্ষুণ্ণ রেখে কথা বলবে এবং রাজনীতি করবে। 

“কিন্তু আমরা কষ্টের সাথে খেয়াল করলাম যে, একটি রাজনৈতিক দল, ৫ অগাস্টের পর থেকে এই দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী অর্থাৎ মা এবং নারীদেরকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে কথা বলা শুরু করল তারা। একটি রাজনৈতিক দল উঠেপড়ে লাগল কীভাবে মা-বোনদের ঘরের ভেতর আটকে রাখা যায়।”

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, “বিএনপি যেখানে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে যে, বাংলাদেশকে যদি সামনের দিকে বাড়াতে হয়, বাংলাদেশকে যদি সামনের দিকে নিয়ে যেতে হয়, তাহলে সমগ্র জনগোষ্ঠীর এই যে অর্ধেক নারী সমাজ—তাদেরকে কখনো পেছনে রেখে সামনে এগোনো সম্ভব না। 

“কারণ আমরা বিশ্বাস করি, দেশকে পুনর্গঠন করতে হলে, দেশকে গড়ে তুলতে হলে নারী-পুরুষ সকলকে একসাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে।”

তিনি বলেন, “আমরা গতকাল দেখেছি, এই রাজনৈতিক দলটির এই নেতাটি বাংলাদেশের প্রত্যেকটি কর্মজীবী নারী, কর্মজীবী মা, কর্মজীবী মেয়ে সম্পর্কে অত্যন্ত আপত্তিকর একটি কথা বলেছে। 

“প্রিয় ভাই ও বোনেরা, যারা নিজেদের দেশের মানুষকে এইভাবে আপত্তিকর বিশ্লেষণে বিশ্লেষণ করে, তাদের কাছ থেকে কি বাংলাদেশের জনগণ ভালো কিছু আশা করতে পারে? তাদের কাছ থেকে ভালো কিছু আশা করা সম্ভব নয়।”

শনিবার বিকালে জামায়াত আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত ওই পোস্টে বলা হয়, “নারীর প্রশ্নে জামায়াতের অবস্থান বিভ্রান্তিকর বা অনুশোচনামূলক নয়- এটা নীতিগত। আমরা মনে করি না- নারীদের নেতৃত্বে আসা উচিত। জামায়াতে এটা অসম্ভব। আল্লাহ এটা অনুমোদন করেন না।

“আমরা বিশ্বাস করি যে যখন মহিলাদের আধুনিকতার নামে ঘর থেকে বের করা হয়, তখন তারা শোষণ, নৈতিক অবক্ষয় এবং নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি হয়, তখন এটি অন্য কিছু নয় বরং অন্য রূপে পতিতাবৃত্তির মতই।”

ওই পোস্টের স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় তুমুল সমালোচনা। প্রায় ৯ ঘণ্টা পর জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, তাদের দলীয় প্রধানের এক্স অ্যাকাউন্ট ‘হ্যাক করে’ ওই পোস্ট দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে তারা আইনি ব্যবস্থা নিয়েছে।

জামায়াতের ওই দাবি প্রত্যাখ্যান করে যশোরের জনসভায় বিএনপি নেতা তারেক বলেন, “শুধু তাই নয় প্রিয় ভাই ও বোনেরা, এই আপত্তিকর কথা বলার পরে যখন তারা দেখল—বাংলাদেশের সকল মানুষ তীব্র প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন করেছে। তখন তারা বলল যে, তাদের অ্যাকাউন্ট বলে হ্যাক হয়ে গিয়েছিল। 

“কিন্তু আমরা দেখেছি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটা সম্পূর্ণ মিথ্যে কথা, অ্যাকাউন্ট হ্যাক হতে পারে না। কারণ সেই বক্তব্য দেবার পরেও তারা আরও অনেক বক্তব্য দিয়েছে, অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়নি। 

“অর্থাৎ কী দাঁড়াল? দাঁড়াল যে- তারা সমগ্র জাতির সামনে জলজ্যান্তভাবে নিজেদেরকে রক্ষা করার জন্য মিথ্যে কথা বলছে। যারা জনগণের সামনে প্রকাশ্যে মিথ্যে কথা বলতে পারে, তারা আর যাই হোক জনগণের বন্ধু হতে পারে না।”

‘অসৎ প্রস্তাব দিয়ে সৎ লোকের শাসন হবে কীভাবে?’

এবারের নির্বাচন নিয়েও ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ করেন বিএনপি নেতা তারেক রহমান।

তার কথায়, “আজকে আমরা খেয়াল করলে দেখতে পাচ্ছি যে, বিগত স্বৈরাচারের সময় যেভাবে এই দেশের মানুষের ভোটের অধিকারকে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, যেভাবে আমি-ডামি নির্বাচন করা হয়েছিল, যেভাবে নিশিরাতে নির্বাচন করা হয়েছিল; ওই যে যেই দলটির কথা বললাম—যারা নিজের দেশের সন্তানদেরকে, নিজের দেশের নারীদেরকে ঘরে আটকে রাখতে চায়, এরা এখন ষড়যন্ত্র শুরু করেছে কীভাবে নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করা যায়। 

“এরা এখন তাদের লোকজনকে মা-বোনদের কাছে পাঠাচ্ছে এনআইডি নাম্বার নেওয়ার জন্য, বিকাশ নাম্বার নেওয়ার জন্য। এই খবর আছে আপনাদের কাছে? তারা বলে, তারা নাকি সৎ লোকের শাসন কায়েম করবে। 

“আরে ভাই, আপনাদের এই প্রস্তাবটাই তো সবচেয়ে বড় অসৎ প্রস্তাব! আপনারা অসৎ প্রস্তাব দিয়ে কাজ শুরু করে কীভাবে আপনারা মনে করেন যে, আপনারা সৎ লোকের শাসন কায়েম করবেন?”

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, “আজকে নির্বাচনকে বিতর্কিত করার জন্য, বাধাগ্রস্ত করার জন্য এরা উঠেপড়ে লেগেছে। সেই জন্য আজকে এখানে লক্ষ-জনতার উপস্থিতিতে আপনাদেরকে এবং আপনাদের মাধ্যমে সকল মা-বোন এবং সকল ভাই-বোনদেরকে, আপনাদেরকে এবং আপনাদের মাধ্যমে আপনাদের এলাকার সকল মানুষের কাছে আমি একটি আহ্বান জানাতে চাই—আপনাদেরকে অত্যন্ত সতর্ক এবং সজাগ থাকতে হবে যাতে কেউ ষড়যন্ত্র করে আপনার সেই ভোটের অধিকারকে কেড়ে নিতে না পারে আবার।”

‘ভোট গোনার সময় নিয়ে নতুন গল্প শুনছি’

এবারের নির্বাচনে ভোট গণনায় সময় বেশি লাগতে পারে বলে ইসির তরফে জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে বিএনপি নেতা তারেক রহমান বলেন, “নতুন গল্প শুনছি ইদানীং। নতুন গল্প শুনছি যে- এবার বলে ভোট গণনা করতে অনেক বেশি সময় লাগবে। 

“প্রিয় ভাই ও বোনেরা, এই দেশের মানুষ হয়তো গত এক যুগ ভোট দিতে পারেনি; কিন্তু ভোট দেওয়ার যে অভিজ্ঞতা, তাদের নাই—তা না। ’৯১ সালে ভোট দিয়েছে, ’৯৬ সালে ভোট দিয়েছে, ২০০১ সালে ভোট দিয়েছে। 

“ভোট গণনা করতে কেমন সময় লাগে, বাংলাদেশের মানুষের সেই ধারণা আছে। কাজেই যদি কেউ ভোট গণনা করতে দেরি হবে—এই উছিলা দিয়ে যদি কেউ কোনো সুযোগ নিতে চায়, প্রিয় ভাই ও বোনেরা, আপনাদেরকে তা প্রতিরোধ করতে হবে।”

গত ২৩ জানুয়ারি ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ভোটগণনার ক্ষেত্রে এবার একটু সময় বেশি লাগবে। এবার ভোটাররা দুটো ব্যালটে ভোট দেবেন। এর সঙ্গে পোস্টাল ব্যালটের গণনা রয়েছে। এ কারণে গণনায় এবার স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় লাগবে।

তারেক রহমান বলেন, “আমি আগেই বলেছি—আমরা রাজনীতি করি, বিএনপি রাজনীতি করে এই দেশের মাটির জন্য, এই দেশের মানুষের জন্য। এবং সেই জন্যই বিএনপি বাংলাদেশের মানুষের সমর্থনে আল্লাহর রহমতে যতবার সরকার গঠন করেছে, প্রত্যেক সময় বিএনপি চেষ্টা করেছে এমন কাজ করতে, যেই কাজগুলোর মাধ্যমে এই এলাকার মানুষের উন্নয়ন হয়।

“স্কুল-কলেজ তৈরি করা, রাস্তাঘাট তৈরি করাসহ কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। কিন্তু আমরা বিগত ১৫ বছর আমরা দেখেছি কীভাবে দেশের মানুষকে তার এলাকার উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।”

‘দেশকে এগিয়ে নিতে নারী-পুরুষ ভেদাভেদ নয়’

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, “বিএনপি সবসময় বিশ্বাস করে—দেশের যদি উন্নয়ন করতে হয়, দেশকে যদি এগিয়ে নিয়ে যেতে হয়, তাহলে নারী-পুরুষ ভেদাভেদ রাখলে চলবে না। আজকে যে গার্মেন্টস শিল্প নিয়ে সারা পৃথিবীতে বাংলাদেশের মানুষ গর্ব করে, এই গার্মেন্টস শিল্প কারা চালাচ্ছে? এই গার্মেন্টস শিল্প তো বাংলাদেশের নারীরা চালাচ্ছে। 

“গার্মেন্টস শিল্পের মধ্যে অন্তত ৫০ লক্ষের ও বেশি নারী শ্রমিক কাজ করছে। তাদের প্রতিদিনকার কষ্টের ফলেই আজ সারা পৃথিবীর বুকে বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্প একটি বিখ্যাত শিল্পে পরিণত হয়েছে।” 

তিনি বলেন, “সেজন্যই প্রিয় ভাই ও বোনেরা, এই নারী সমাজকে শুধু সহযোগিতা নয়, তাদেরকে শিক্ষিত করে তোলার জন্য দেশনেত্রী খালেদা জিয়া যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, সেই সময় তিনি বাংলাদেশের মেয়েদের শিক্ষার ব্যবস্থা ফ্রি করে দিয়েছিলেন ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত। 

“আজ দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার দল হিসেবে আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি যে ইনশাআল্লাহ ১২ তারিখের নির্বাচনে আপনাদের সমর্থনে আল্লাহর রহমতে বিএনপি তথা ধানের শীষ সরকার গঠনে সক্ষম হলে আমরা বাংলাদেশের সকল মায়েদের কাছে, সকল গৃহিণীদের কাছে ঘরে ঘরে আমরা ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিব। 

“যেই ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে, যেই ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রতিটি পরিবারের গৃহিণী বা মা সরকারের পক্ষ থেকে প্রতি মাসে ন্যূনতম একটি সুযোগ বা সুবিধা পাবেন।”

বিএনপি নেতা তারেক বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি যে, আজকে পুরুষের পাশাপাশি যদি নারীরা স্বাবলম্বী হতে পারে অর্থনৈতিকভাবে, তাহলেই একমাত্র আমাদের এই বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। অন্যথায় কোনোভাবে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। 

“সেজন্যই আমরা বাংলাদেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে পেছনে রেখে আমরা আশা কোনোভাবেই করতে পারি না যে বাংলাদেশ উন্নতি করবে। বাংলাদেশ তখনই উন্নতি করবে যখন নারী-পুরুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একসাথে আমরা ইনশাআল্লাহ কাজ করতে পারব।”

‘ধানের শীষকে জয়ী করুন’

সকাল থেকেই যশোর, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, মাগুরা, ঝিনাইদহ, নড়াইল থেকে দলীয় প্রার্থীসহ নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে সমাবেশ স্থলে আসতে শুরু করেন। এতে বেলা ১২টার মধ্যেই মাঠ পূর্ণ হয়ে যায়।

একপর্যায়ে উপশহর কলেজ মাঠ ছাপিয়ে পাশের ঈদগাহ ময়দান, উপশহর পার্ক ও বাদশা ফয়সাল ইসলামী ইনস্টিটিউটের মাঠ ছাপিয়ে আশেপাশের রাস্তা ও বাসা বাড়ির ছাদে জনসমুদ্র তৈরি হয়।

সমাবেশে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই ৭ জেলার বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে ধানের শীষে ভোট চান।

প্রার্থীরা হলেন— মো. নুরুজ্জামান লিটন (যশোর-১), সাবিরা সুলতানা (যশোর-২), অনিন্দ্য ইসলাম অমিত (যশোর-৩), মতিয়ার রহমান ফারাজী (যশোর-৪), রশীদ আহমাদ (যশোর-৫), মো. আবুল হোসেন আজাদ (যশোর-৬); রেজা আহাম্মেদ (কুষ্টিয়া-১), রাগীব রউফ চৌধুরী (কুষ্টিয়া-২), মো. জাকির হোসেন সরকার (কুষ্টিয়া-৩), সৈয়দ মেহেদী আহ্‌মেদ রুমী (কুষ্টিয়া-৪); শরীফুজ্জামান (চুয়াডাঙ্গা-১), মাহমুদ হাসান খান (চুয়াডাঙ্গা-২); মাসুদ অরুন (মেহেরপুর-১), মো. আমজাদ হোসেন (মেহেরপুর-২); মনোয়ার হোসেন (মাগুরা-১), নিতাই রায় চৌধুরী (মাগুরা-২); আসাদুজ্জামান (ঝিনাইদহ-১), আব্দুল মজিদ (ঝিনাইদহ-২), মোহাম্মদ মেহেদী হাসান (ঝিনাইদহ-৩), রাশেদ খাঁন (ঝিনাইদহ-৪) ; বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম (নড়াইল-১), এ জেড এম ফরিদুজ্জামান (নড়াইল-২)।

বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের উলাশী খাল খননের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তারেক রহমান বলেন, “আমরা ইনশাআল্লাহ ১২ তারিখে আপনাদের ভোটে নির্বাচিত হলে আমরা সরকার গঠন করার সাথে সাথে আমরা উলাশী খালসহ সারা বাংলাদেশের খাল খনন শুরু করতে চাই।”

এছাড়া কৃষিকার্ড, তরুণদের তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণসহ নানা প্রতিশ্রুতি দেন তিন।   

তারেক রহমান বলেন, “আমরা কি বাংলাদেশকে আগামী দিন গড়ে তুলতে চাই? বাংলাদেশকে যদি আগামী দিনে গড়ে তুলতে হয়, তাহলে একটি কাজ , একটি স্লোগান। করব কাজ—গড়ব দেশ। সবার আগে—বাংলাদেশ। 

“প্রিয় ভাই ও বোনেরা, আজ আসুন এই নির্বাচনকে শুধু নির্বাচন দেখলে হবে না। এই নির্বাচনকে দেখতে হবে রাইট এবং রংয়ের দিন হিসেবে, দেশপ্রেমিক এবং দেশবিরোধীদের দিন হিসেবে। 

“এবং বাংলাদেশের মানুষ অতীতে কখনো ভুল করেনি, সকল সময় তারা দেশপ্রেমিকদের সমর্থন দিয়েছে। এবং তাই আমরাও আল্লাহর রহমতে আত্মবিশ্বাসী ইনশাআল্লাহ বিএনপি ১২ তারিখে আপনাদের সমর্থন পাবে। এবং আপনাদের সমর্থন নিয়েই বিএনপি শুরু করবে তার কাজ।”

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু। জনসভা শেষে বিএনপি নেতা তারেক রহমান হেলিকপ্টার যোগে ঢাকায় যান। যশোরের আগে খুলনায় নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য দেন তিনি।

তারেক রহমান গত ২২ জানুয়ারি সিলেটের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠ থেকে নির্বাচনি প্রচারাভিযান শুরু করেন। সেদিন তিনি মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জে নির্বাচনি সমাবেশ করেন।

এরপর ২৫ জানুয়ারি চট্টগ্রাম থেকে প্রচারাভিযান শুরু করেন তারেক রহমান। সেখান থেকে তিনি ফেনী, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম, সোয়াগাজী, দাউদকান্দি, নারায়ণগঞ্জে নির্বাচনি সমাবেশ করে ঢাকায় ফেরেন।

বিএনপি চেয়ারম্যান উত্তরাঞ্চল সফর শুরু করেন ২৯ জানুয়ারি। তিন দিনের সেই সফরে তিনি রাজশাহী, নওগাঁ, বগুড়া, রংপুরে, সিরাজগঞ্জে ও টাঙ্গাইল নির্বাচনি সমাবেশ শেষে ঢাকায় ফেরেন শনিবার।

২২ থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত ২২টি নির্বাচনি সমাবেশ করেছেন তারেক রহমান।