১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার

ঋণ খেলাপের তথ্য গোপন করায় কুমিল্লা-৪ আসনে তার প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে।

মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার
বিতর্কিত ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন ডেকে বক্তব্য তুলে ধরেন মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী।

বিডিনিউজ২৪

নিজস্ব প্রতিবেদক ও কুমিল্লা প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 10 Feb 2026, 11:34 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:55 PM

ভোটের মাঠ থেকে ছিটকে পড়া বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী এবার দল থেকেই বহিষ্কার হয়েছেন।

বিতর্কিত বক্তব্যের জেরে নির্বাচনের দুইদিন আগে তাকে বহিষ্কার করার বিষয়টি বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ আসনে মুন্সী ধানের শীষের প্রার্থী ছিলেন। ঋণ খেলাপের তথ্য গোপন করায় তার প্রার্থিতা বাতিল হয়ে যায়। 

বৃহস্পতিবারের নির্বাচনে এ আসনে দলীয় প্রার্থী না থাকায় গণঅধিকার পরিষদের জসিম উদ্দিনকে সমর্থন দিয়েছে বিএনপি। জসিম উদ্দিনের ট্রাক প্রতীকের সমর্থনে আয়োজিত একটি উঠান বৈঠকে বিতর্কিত ওই বক্তব্য দেন মুন্সী। 

সোমবার মধ্যরাতে তার এই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। 

ভিডিওতে মুন্সীকে বলতে শোনা যায়, “যদি ক্ষমতায় বিএনপি থাকে, আর যদি আপনারা অন্য দলকে ভোট দেন, আমি কিন্তু আপনাদের কাউকে ছাড়ব না। প্রয়োজনে ঘরবাড়ি পোড়াইয়া সব ছারখার করে দেব।”

বিএনপির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “দলীয় নীতি, আদর্শ এবং সংগঠন বিরোধী বক্তব্য ও কার্যকলাপের জন্য বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীকে (বহিষ্কৃত) বিএনপির প্রাথমিক সদস্য পদসহ দলীয় সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।”

এদিকে মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে মুন্সী দাবি করেন, “ওই ভিডিওটি এআই দিয়ে বানানো ভিডিও। আমি কেন আমার ইউনিয়নের মানুষের ঘর বাড়ি পুড়িয়ে দেব? অন্য ইউনিয়ন হলে না হয় সে কথা মানানসই হত, আমার ইউনিয়নের মানুষকে কেন আমি ভয় দেখাবো।”

তার নিজের ফেইসবুকেও পূর্ণাঙ্গ বক্তব্যের ভিডিওটি শেয়ার করা হয়েছে।

ক্যাপশনে বক্তব্যের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, “আমার সাম্প্রতিক একটি বক্তব্যের আংশিক অংশ কেটে শর্ট ক্লিপ তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হাসনাত আব্দুল্লাহ ও একটি স্বার্থান্বেষী মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে। 

“এই বক্তব্যটি আমি আমার নিজ এলাকায়, আমার নিকট আত্মীয়দের সামনে ব্যক্তিগত আক্ষেপ থেকে বলেছিলাম। সেটিকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে একটি মহল আমাকে জড়িয়ে নোংরা রাজনীতিতে লিপ্ত হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।”

এরই মধ্যে মুন্সীর বহিষ্কারাদেশের বিষয়িটি জানিয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয় বিএনপির ফেইসবুক পেইজে।

যাচাই-বাছাইয়ে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মুন্সীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন রিটার্নিং অফিসার।

পরে এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ঋণ খেলাপের তথ্য গোপন করায় মুন্সীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। উচ্চ আদালতে গিয়েও নিরাশ হন তিনি।