Published : 07 Feb 2026, 09:59 PM
জেলার ১১টি সংসদীয় আসনের মধ্যে একমাত্র ময়মনসিংহ-৬ ফুলবাড়িয়া আসনেই জামায়াতে ইসলামীর ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী রয়েছে। সেখানে পাল্টাপাল্টি হামলার অভিযোগ করেছেন দুপক্ষই।
এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী হিসাবে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে লড়ছেন মুহাম্মদ কামরুল হাসান মিলন, তার প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েছে বহিষ্কৃত সাবেক জেলা আমির জসিম উদ্দিন। ঘোড়া প্রতীক নিয়ে লড়ছেন তিনি।
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাম্মদ কামরুল হাসান শনিবার দুপুরের দিকে ফুলবাড়িয়া প্রেস ক্লাবে প্রতিপক্ষকে দোষারোপ করে সংবাদ সম্মেলন করেন। ঠিক একই অভিযোগে শুক্রবার রাত ১০টার দিকে সংবাদ সম্মেলন করেন স্বতন্ত্র প্রার্থী জসিম উদ্দিন।
শুক্রবার রাত ১০টার দিকে ফুলবাড়িয়া প্রেস ক্লাবে জসিম উদ্দিন বলেন, “আমার ঘোড়া প্রতীকের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে জামায়াতে ইসলাম পরিকল্পিতভাবে মিথ্যাচার করে নির্বাচনি বিধি লঙ্ঘনের ঘটনা আড়াল করতেই আমার কর্মীদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। পুলিশ দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।”

ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করে হামলার সঙ্গে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা, আহতদের উন্নত চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানান তিনি।
এ সময় তিনি বলেন, “ছাত্র শিবিরের সাবেক উপজেলা সভাপতি আশিকুল ইসলাম নামে আমার এক কর্মীকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার মাথায় আঘাত করে। তার কানে লেগে কানের পর্দা ফেটে গেছে, পা ভেঙে গেছে। বর্তমানে সে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।”
অপরদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাম্মদ কামরুল হাসান মিলন অভিযোগ করেন, নির্বাচনি প্রচারে স্বতন্ত্র প্রার্থীর নেতাকর্মীরা আচরণবিধি লঙ্ঘন করে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। জামায়াত প্রার্থীর জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি মহল অপপ্রচার ও নির্বাচনি পরিবেশ নষ্ট করার পাঁয়তারা করছেন।
“ঘোড়া প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা ধুরধুরিয়া বাজারে আমার কর্মীর উপর হামলা করে। ৬ নম্বর ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের আন্ধারিয়া পাড়ার মিলন বাজারে দাঁড়িপাল্লার নির্বাচনি কার্যালয়ের সামনে ঘোড়া প্রতীকের সমর্থকেরা মব সৃষ্টি করে ব্যানার ফেস্টুন ছিড়ে ফেলে এবং প্রচার গাড়িতে হামলার মত ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে। প্রতিটি ঘটনা প্রশাসনকে অবহিত করেছি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে কর্মীদেরকে শান্ত থাকতে বলেছি।”
এই আসনে বিএনপি প্রার্থী আখতারুল আলম ফারুক, বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার শামসউদ্দিনের স্ত্রী আখতার সুলতানা, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. নুরে আলম সিদ্দিকী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।